Dark Mode
Image
  • Thursday, 09 April 2026
আদিম ব্ল্যাকহোলের সন্ধান, মহাবিশ্বের রহস্যে নতুন আলো

আদিম ব্ল্যাকহোলের সন্ধান, মহাবিশ্বের রহস্যে নতুন আলো

মহাবিশ্বের জন্ম ও গঠন নিয়ে দীর্ঘদিনের রহস্য উন্মোচনের পথে নতুন অগ্রগতির দাবি করেছেন বিজ্ঞানীরা। তারা বলছেন, বহুল আলোচিত ‘প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল’ বা আদিম কৃষ্ণগহ্বরের সম্ভাব্য অস্তিত্বের প্রথম শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক মহাকাশ থেকে আসা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের তথ্য বিশ্লেষণ করে এই দাবি করেছেন। গবেষণার জন্য তারা ব্যবহার করেছেন লেজার ইন্টারফেরোমিটার গ্র্যাভিটেশনাল-ওয়েভ অবজারভেটরি (LIGO)-এর সংগৃহীত ডেটা।

কী এই আদিম ব্ল্যাকহোল?

সাধারণ ব্ল্যাকহোল তৈরি হয় বিশাল নক্ষত্রের মৃত্যুর পর তার নিজস্ব মহাকর্ষে ধসে পড়ার মাধ্যমে। কিন্তু প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল সম্পূর্ণ ভিন্ন ধরনের। বিজ্ঞানীদের ধারণা, মহাবিশ্ব সৃষ্টির পরপরই, অর্থাৎ বিগ ব্যাং-এর মাত্র এক সেকেন্ডের মধ্যেই অতিঘন পদার্থের ক্ষুদ্র অঞ্চল থেকে এই ব্ল্যাকহোলগুলোর সৃষ্টি হয়। এতে কোনো নক্ষত্রের ভূমিকা নেই।

কীভাবে পাওয়া গেল প্রমাণ?

গবেষক আলবার্তো মাগারাগিয়া ও নিকো ক্যাপেলুটি LIGO-তে শনাক্ত হওয়া ‘S251112cm’ নামের একটি সংকেত বিশ্লেষণ করেন। এই সংকেতটি দুটি ব্ল্যাকহোলের সংঘর্ষের ফলে তৈরি হওয়া মহাকর্ষীয় তরঙ্গ নির্দেশ করে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সংঘর্ষে অংশ নেওয়া একটি ব্ল্যাকহোলের ভর সূর্যের ভরের চেয়েও কম। সাধারণভাবে নক্ষত্র থেকে তৈরি ব্ল্যাকহোলের ভর সূর্যের চেয়ে অনেক বেশি হয়। তাই এই অস্বাভাবিক কম ভরের উপস্থিতি ইঙ্গিত দেয়—এটি হয়তো প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল।

ডার্ক ম্যাটারের রহস্যে নতুন দিশা

এই আবিষ্কার শুধু একটি নতুন ধরনের ব্ল্যাকহোলের সম্ভাবনাই দেখায় না, বরং মহাবিশ্বের অন্যতম বড় রহস্য ‘ডার্ক ম্যাটার’-এর ব্যাখ্যাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিজ্ঞানীদের মতে, মহাবিশ্বের প্রায় ৮৫ শতাংশ ভরই ডার্ক ম্যাটার, যা সরাসরি দেখা যায় না। ধারণা করা হয়, প্রাচীন মহাবিশ্বে বিপুল সংখ্যক প্রাইমরডিয়াল ব্ল্যাকহোল তৈরি হয়েছিল, যা এই অদৃশ্য পদার্থের বড় অংশ হতে পারে।

এখনও চূড়ান্ত নয়

তবে গবেষকরা এটিকে এখনও চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে ঘোষণা করতে সতর্ক। তাদের মতে, এই ধরনের আরও সংকেত শনাক্ত করা গেলে তবেই বিষয়টি নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব হবে।

ভবিষ্যতে ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার পরিকল্পিত ‘ইন্টারফেরোমিটার স্পেস অ্যানটেনা (LISA)’ মিশন (২০৩৫) এই রহস্য উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

Comment / Reply From