ঋতু বদলালে সুগন্ধিও বদলান—বলছেন বিশেষজ্ঞরা
ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশে ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে বদলে যায় আমাদের জীবনযাপনের বহু দিক। পোশাক, খাদ্যাভ্যাস কিংবা ত্বকের যত্নে যেমন মৌসুমি প্রভাব পড়ে, তেমনি সুগন্ধি ব্যবহারের ক্ষেত্রেও ঋতুভেদে পরিবর্তন আনা জরুরি—এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে শরীরের তাপমাত্রা ও ত্বকের প্রাকৃতিক রসায়ন বদলে যায়। এর সরাসরি প্রভাব পড়ে পারফিউমের ঘ্রাণ ছড়ানো ও স্থায়িত্বের ওপর। তাই একই সুগন্ধি সব ঋতুতে ব্যবহার করলে কাঙ্ক্ষিত ফল নাও মিলতে পারে।
গবেষণায় দেখা গেছে, গ্রীষ্মকালে শরীরের তাপমাত্রা বেশি থাকায় পারফিউম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই সময় হালকা ও সতেজ ঘ্রাণ বেশি আরামদায়ক লাগে। বিপরীতে শীতকালে শরীরের তাপমাত্রা কম থাকায় গভীর ও উষ্ণ সুগন্ধি দীর্ঘ সময় ধরে টিকে থাকে। এই বাস্তবতার কারণেই আন্তর্জাতিক পারফিউম ব্র্যান্ডগুলো এখন আলাদা করে মৌসুমি সুগন্ধির সংগ্রহ বাজারে আনছে।
কোন ঋতুতে কোন সুগন্ধি ভালো?
গ্রীষ্মকালে লেমন, ম্যান্ডারিন, মিন্ট, গ্রিন টি কিংবা অন্যান্য সাইট্রাস ও ফ্রেশ ঘ্রাণের পারফিউম ব্যবহার করলে সতেজতা বজায় থাকে, ঘামের পরও অস্বস্তি কম হয়।
অন্যদিকে শীতকালে ভ্যানিলা, অ্যাম্বার, আউড, মস্ক বা স্পাইসি ওরিয়েন্টাল ঘ্রাণের পারফিউম ঠাণ্ডা আবহাওয়ায় বেশি মানানসই ও দীর্ঘস্থায়ী হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পারফিউম শুধু শরীরের ঘ্রাণ ঢাকার উপায় নয়, এটি ব্যক্তিত্বেরও একটি অংশ। আবহাওয়ার সঙ্গে মিল রেখে সুগন্ধি ব্যবহার করলে যেমন নিজেকে স্বস্তিতে রাখা যায়, তেমনি চারপাশের মানুষের কাছেও একটি সুন্দর অনুভূতি তৈরি হয়।
সব মিলিয়ে বলা যায়, ঋতুর সঙ্গে পোশাক বদলানোর মতো পারফিউমেও পরিবর্তন আনা বুদ্ধিমানের কাজ। এতে সুগন্ধি থাকবে দীর্ঘস্থায়ী, আর আপনি থাকবেন আরও আত্মবিশ্বাসী ও সতেজ।
Comment / Reply From
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!