৩০ দিন শুধু কফি আর ডিম খেলে শরীরে কী ঘটে? জানালেন বিশেষজ্ঞরা
নিজস্ব প্রতিবেদক: ওজন কমানোর আশায় অনেকেই এখন সকালে এক কাপ ব্ল্যাক কফি ও তিনটি সেদ্ধ ডিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এই ডায়েট বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। তবে টানা ৩০ দিন শুধু কফি ও ডিমভিত্তিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে শরীরে কী ধরনের পরিবর্তন আসে, তা নিয়ে সতর্ক করেছেন পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম এবং কফি—দুটিই পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হলেও শুধুমাত্র এই দুই খাবারের ওপর দীর্ঘদিন নির্ভর করা স্বাস্থ্যকর নয়। এতে শরীরে কিছু উপকার মিললেও প্রয়োজনীয় অনেক পুষ্টি উপাদানের ঘাটতি তৈরি হতে পারে।
ডিমে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড, স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ডি, ভিটামিন বি-কমপ্লেক্স এবং কোলিন। অন্যদিকে চিনি ও দুধ ছাড়া ব্ল্যাক কফিতে থাকে শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরকে ফ্রি-র্যাডিক্যালের ক্ষতি থেকে কিছুটা সুরক্ষা দিতে সাহায্য করে।
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য, নিয়মিত ব্যায়াম ও সুষম খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে স্বল্প সময়ের জন্য এই ধরনের প্রাতরাশ ওজন নিয়ন্ত্রণে কিছুটা সহায়ক হতে পারে। কারণ ডিমের প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমে।
তবে দীর্ঘদিন একই ধরনের খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে শরীরে আঁশ, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে ডিমে ফাইবার না থাকায় ফল, শাকসবজি ও অন্যান্য আঁশযুক্ত খাবার বাদ দিলে কোষ্ঠকাঠিন্য, গ্যাস ও হজমের নানা সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, প্রতিদিন অতিরিক্ত ডিম খেলে কিছু মানুষের হজমে অস্বস্তি বা অতিরিক্ত প্রোটিনজনিত সমস্যা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে যাদের অ্যাসিডিটির প্রবণতা রয়েছে, নিয়মিত ব্ল্যাক কফি তাদের অস্বস্তি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা তাই পরামর্শ দিচ্ছেন, শুধু কফি ও ডিমের ওপর নির্ভর না করে সকালের নাশতায় ওটস, ফল, শাকসবজি, বাদাম কিংবা সালাদের মতো আঁশসমৃদ্ধ খাবারও রাখা উচিত। এতে শরীর প্রয়োজনীয় সব পুষ্টি পায় এবং হজম প্রক্রিয়াও স্বাভাবিক থাকে।
তাদের মতে, দ্রুত ওজন কমানোর আশায় একঘেয়ে ডায়েট অনুসরণ না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস, নিয়মিত ব্যায়াম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর উপায়।
Comment / Reply From
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!