Dark Mode
Image
  • Saturday, 17 October 2026
আঙুলের মতো ছোট্ট বানর

আঙুলের মতো ছোট্ট বানর

দেখতে ছোট্ট, চোখজোড়া বড় আর গায়ের রং সোনালি-বাদামি। আকারে এতটাই ছোট যে সহজেই আঙুলের সঙ্গে তুলনা করা যায়। পৃথিবীর সবচেয়ে ছোট বানর হিসেবে পরিচিত এই প্রাণীর নাম পিগমি মারমোসেট। ‘ফিঙ্গার মাঙ্কি’ নামেও পরিচিত ক্ষুদ্র এই বানরের দেখা মেলে আমাজন বনের পশ্চিমাঞ্চলে।

১৮২৩ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম এই বানর সম্পর্কে জানতে পারেন। পূর্ণবয়স্ক একটি পিগমি মারমোসেটের শরীরের দৈর্ঘ্য সাধারণত ১২ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার। আকারে ছোট হলেও গাছে ওঠা ও ডালে চলাফেরায় এরা বেশ দক্ষ।

ছোট শরীর, অসাধারণ দক্ষতা

পিগমি মারমোসেটের গায়ের রং সাধারণত সোনালি-বাদামি। শরীরের তুলনায় বড় চোখের কারণে এদের দেখতে বেশ আকর্ষণীয় লাগে। গাছের ডালে চলাচল এবং উঁচুতে ওঠার জন্য এদের শরীর বিশেষভাবে উপযোগী।

তীক্ষ্ণ নখের সাহায্যে এরা গাছের ডাল শক্ত করে আঁকড়ে ধরতে পারে। আবার চলাফেরার সময় লম্বা লেজ শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। ফলে ঘন বনাঞ্চলের গাছপালার মধ্যে সহজেই চলাচল করতে পারে এই ক্ষুদ্র বানর।

গাছের রসই পছন্দের খাবার

পিগমি মারমোসেটের খাদ্যাভ্যাসও বেশ বৈচিত্র্যময়। ধারালো দাঁত দিয়ে গাছের বাকলে ছোট ছিদ্র তৈরি করে সেখান থেকে বের হওয়া পুষ্টিকর রস পান করে। পাশাপাশি ছোট পোকামাকড় ও বিভিন্ন ধরনের ফলও খায়।

গাছের রস সংগ্রহের এই বিশেষ কৌশল তাদের খাদ্য জোগাড়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ছোট আকার ও দ্রুত চলাফেরার ক্ষমতা তাদের আমাজনের ঘন বনাঞ্চলে টিকে থাকতে সহায়তা করে।

আমাজনের বনের এক বিস্ময়

পিগমি মারমোসেটের মতো ক্ষুদ্র প্রাণী প্রকৃতির বৈচিত্র্যের এক অনন্য উদাহরণ। ছোট শরীর, তীক্ষ্ণ নখ, লম্বা লেজ এবং গাছের রস সংগ্রহের বিশেষ কৌশল—সব মিলিয়ে এরা অন্য বানরদের তুলনায় বেশ স্বতন্ত্র।

আমাজনের ঘন বনই এদের প্রাকৃতিক আবাস। এই বনাঞ্চলের পরিবেশ ও গাছপালা তাদের খাদ্য ও নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাই এমন প্রাণীদের টিকে থাকার জন্য তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণ করাও জরুরি।

Comment / Reply From