Dark Mode
Image
  • Friday, 31 July 2026
ওয়াই-ফাই ধীর? এই একটি সেটিং বদলালেই মিলতে পারে বেশি গতি

ওয়াই-ফাই ধীর? এই একটি সেটিং বদলালেই মিলতে পারে বেশি গতি

ওয়াই-ফাই ধীর? একটি সেটিং বদলালেই বাড়তে পারে ইন্টারনেটের গতি

নিজস্ব প্রতিবেদক: ধীরগতির ওয়াই-ফাই সংযোগ এখন অনেকেরই নিত্যদিনের সমস্যা। বেশিরভাগ ব্যবহারকারী রাউটারের অবস্থান পরিবর্তন, অ্যান্টেনা ঘোরানো কিংবা বারবার রিস্টার্ট করেও কাঙ্ক্ষিত গতি পান না। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, রাউটারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেটিং পরিবর্তন করলেই অনেক ক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গতি ও সংযোগের স্থায়িত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হতে পারে।

এই সেটিংটির নাম চ্যানেল উইডথ (Channel Width) বা চ্যানেল ব্যান্ডউইথ। এটি নির্ধারণ করে রাউটার কতটুকু ওয়্যারলেস স্পেকট্রাম ব্যবহার করে ডেটা আদান-প্রদান করবে।

বর্তমানে অধিকাংশ আধুনিক রাউটারে ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডের জন্য ৪০ মেগাহার্জ এবং ৫ গিগাহার্জ ব্যান্ডের জন্য ৮০ মেগাহার্জ অথবা অটো মোড ডিফল্টভাবে চালু থাকে। যদিও বড় চ্যানেল উইডথ বেশি গতির সুবিধা দিতে পারে, তবে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এটি সহজেই আশপাশের অন্যান্য ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কের সিগন্যালের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। ফলে সংযোগ ধীর ও অস্থিতিশীল হয়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ২.৪ গিগাহার্জ ব্যান্ডের চ্যানেল উইডথ ৪০ মেগাহার্জ থেকে কমিয়ে ২০ মেগাহার্জ করলে অনেক ক্ষেত্রে সিগন্যালের জট কমে এবং সংযোগ আরও স্থিতিশীল হয়। কারণ এই ব্যান্ডে ওভারল্যাপবিহীন চ্যানেলের সংখ্যা সীমিত, ফলে বড় ব্যান্ডউইথ ব্যবহার করলে ইন্টারফেয়ারেন্সের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

অন্যদিকে ৫ গিগাহার্জ ও ৬ গিগাহার্জ ব্যান্ডে তুলনামূলক বেশি চ্যানেল থাকায় সিগন্যালের সংঘর্ষ কম হয়। তবে প্রয়োজন হলে এসব ব্যান্ডেও চ্যানেল উইডথ সামঞ্জস্য করে আরও ভালো পারফরম্যান্স পাওয়া যেতে পারে।

কীভাবে পরিবর্তন করবেন?

রাউটারের নির্দিষ্ট আইপি অ্যাড্রেস ব্রাউজারে লিখে অ্যাডমিন প্যানেলে প্রবেশ করুন। এরপর Wireless Settings বা Wi-Fi Settings থেকে Channel Width অপশন নির্বাচন করে প্রয়োজন অনুযায়ী সেটিং পরিবর্তন করুন এবং তা সংরক্ষণ করুন।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, নতুন সেটিং কয়েক দিন ব্যবহার করে ফলাফল পর্যবেক্ষণ করুন। যদি সংযোগ আগের তুলনায় কম স্থিতিশীল মনে হয়, তাহলে সহজেই ডিফল্ট সেটিংয়ে ফিরে যাওয়া যাবে।

এ ছাড়া আশপাশের কম ব্যস্ত বা পরিষ্কার ওয়াই-ফাই চ্যানেল শনাক্ত করতে WiFi Analyzer-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করাও উপকারী হতে পারে। কারণ সঠিক চ্যানেল নির্বাচন করলে ইন্টারনেটের গতি ও সংযোগের মান আরও উন্নত হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করিয়ে দিয়েছেন, সব রাউটার বা সব পরিবেশে একই সেটিং সমানভাবে কার্যকর নাও হতে পারে। বাড়ির কাঠামো, আশপাশের নেটওয়ার্ক এবং ব্যবহৃত রাউটারের মডেলের ওপর নির্ভর করে সর্বোত্তম কনফিগারেশন ভিন্ন হতে পারে।

Comment / Reply From