চুপচাপ কিন্তু গভীর: আপনি কি অন্ট্রোভার্ট?
ইন্ট্রোভার্ট (অন্তর্মুখী) আর এক্সট্রোভার্ট (বহির্মুখী)—এই দুই স্বভাবের বাইরে আরও এক ধরনের ব্যক্তিত্ব ধীরে ধীরে আলোচনায় আসছে। এদের বলা হচ্ছে অন্ট্রোভার্ট। অন্ট্রোভার্ট মানুষদের মনোযোগ মূলত নিজের ভেতরের জগতে কেন্দ্রীভূত থাকে। তবে এর অর্থ এই নয় যে তাঁরা সমাজবিমুখ বা একাকী থাকতে পছন্দ করেন। বরং তাঁরা অর্থহীন আড্ডার চেয়ে গভীর ও অর্থপূর্ণ সামাজিক যোগাযোগকে বেশি গুরুত্ব দেন।
অন্ট্রোভার্টদের সাধারণ বৈশিষ্ট্য
অন্ট্রোভার্ট মানুষদের অনেক সময়ই চুপচাপ দেখা যায়। তবে এই নীরবতা লাজুকতা বা মানুষ এড়িয়ে চলার ইঙ্গিত নয়। বরং কখন কথা বলা প্রয়োজন আর কখন নীরব থাকা ভালো—এই সিদ্ধান্ত তাঁরা সচেতনভাবেই নেন।
তাঁরা মনোযোগ দিয়ে কথা শোনেন, আশপাশের মানুষ ও পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করেন। ভাবনাচিন্তায় তাঁরা বিস্তারিত ও গুছানো। এলোমেলো চিন্তা নয়, বরং অর্থপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত ভাবনাই তাঁদের বৈশিষ্ট্য।
অন্ট্রোভার্টদের কল্পনাশক্তি সাধারণত বেশ প্রবল হয়। পাশাপাশি কোনো বিষয় বিশ্লেষণ করার সময় তাঁরা গুরুত্বের সঙ্গে গভীরে প্রবেশ করেন। কোনো সমস্যার উপরিভাগ নয়, ভেতরের কারণ খুঁজে বের করতেই তাঁদের আগ্রহ বেশি।
তাঁরা ইচ্ছাকৃতভাবে অন্যের মনোযোগ আকর্ষণের চেষ্টা করেন না। তবে মনোযোগ পেলে সেটিকে অপছন্দও করেন না। ছোটখাটো বিষয়ে সহজেই বিরক্ত বা নার্ভাস হয়ে পড়তে পারেন, আবার আবেগেও দ্রুত প্রভাবিত হন।
ব্যক্তিগত সম্পর্কে অন্ট্রোভার্টরা কেমন?
গভীরভাবে চিন্তা করার অভ্যাস থাকায় অন্ট্রোভার্ট মানুষ সাধারণত সম্পর্কে সততা বজায় রাখেন। হঠাৎ আবেগে ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে বিশ্বাস ভাঙার প্রবণতা তাঁদের মধ্যে তুলনামূলক কম।
ভালোবাসা প্রকাশের ধরন তাঁদের একটু ভিন্ন। তাঁরা সরাসরি কথায় অনুভূতি প্রকাশ না করলেও কাজে-কর্মে সম্পর্কের গুরুত্ব স্পষ্ট করে দেন। সঙ্গীর কথা মন দিয়ে শোনেন এবং সম্পর্কের আবেগঘন বিষয়গুলো গভীরভাবে অনুভব করেন।
তবে ভালোবাসার প্রকাশ কম হওয়ায় অনেক সময় তাঁরা ভুল বোঝাবুঝির শিকার হন। তাই অন্ট্রোভার্টদের জন্য এমন সঙ্গী প্রয়োজন, যিনি তাঁদের নীরবতা, একান্ত সময় আর ভাবনায় ডুবে থাকার অভ্যাসকে সম্মান করতে পারেন।
কর্মক্ষেত্রে অন্ট্রোভার্টদের ভূমিকা
কাজের জায়গায় অন্ট্রোভার্ট মানুষ সাধারণত সৃজনশীল ও বিশ্লেষণধর্মী হয়ে থাকেন। গবেষণা, লেখালেখি, ডিজাইন, পরিকল্পনা বা নীতিমালা তৈরির মতো কাজে তাঁরা বেশ দক্ষতা দেখান।
নেতৃত্বের গুণ তাঁদের মধ্যেও থাকে। তবে সেই নেতৃত্ব যদি এমন হয়, যেখানে সারাক্ষণ মানুষের সঙ্গে কথা বলা বা সামাজিক যোগাযোগ বজায় রাখতে হয়, সেক্ষেত্রে তাঁরা কিছুটা অস্বস্তি বোধ করেন।
অনেকে মনে করেন, অন্ট্রোভার্টরা সামাজিকতা এড়িয়ে চলেন বা আত্মবিশ্বাসের ঘাটতিতে ভোগেন। বাস্তবতা ঠিক উল্টো। অন্ট্রোভার্ট মানুষ আত্মবিশ্বাসী, সচেতন এবং পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম। নিজের দর্শন ও মূল্যবোধ তাঁদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ—আর কাজের দক্ষতায় তাঁরা প্রশংসারই যোগ্য।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!