মা-ই সন্তানের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয়
জন্মের মুহূর্ত থেকেই প্রতিটি শিশু থাকে সম্পূর্ণ নির্ভরশীল ও অসহায়। সেই সময় মায়ের উষ্ণতা, স্নেহভরা স্পর্শ ও বুকের দুধ শিশুকে দেয় জীবনের প্রথম নিরাপত্তাবোধ। সন্তানের ভাষা শেখার আগেই মা বুঝে যান তার ক্ষুধা, অস্বস্তি কিংবা আনন্দের অনুভূতি। তাই শিশুর জীবনের প্রথম শিক্ষক, প্রথম বন্ধু এবং সবচেয়ে বড় আশ্রয় হলেন মা।
‘মা’ শব্দটির মধ্যেই লুকিয়ে আছে নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, সীমাহীন ত্যাগ ও নিরন্তর মমতার গল্প। শিশুর জন্মের পরপরই মা ও সন্তানের মধ্যে গড়ে ওঠে এক গভীর আবেগী সম্পর্ক, যা আরও শক্ত হয় নানা ছোট ছোট খেলাধুলার মাধ্যমে।
মা যখন শিশুর মুখের কাছাকাছি থেকে চোখে চোখ রেখে কথা বলেন বা অঙ্গভঙ্গি করেন, তখন শিশুও তা অনুকরণ করে। কারণ শিশু স্বভাবতই অনুকরণপ্রিয়। মায়ের আঙুল শিশুর ছোট্ট মুঠোয় ধরা কিংবা পায়ের আঙুল ধরে হালকা ম্যাসাজ—এসব স্পর্শ শিশুর অনুভূতি জাগিয়ে তোলে এবং তাকে আনন্দিত করে। অনেক সময় শিশুর হাসি, কাঁদা কিংবা মুখভঙ্গি অনুকরণ করলে শিশুর সঙ্গে মায়ের এক ধরনের ‘আয়নার সম্পর্ক’ তৈরি হয়, যা শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
লুকোচুরি খেলা, হাত দিয়ে মুখ ঢেকে আবার হঠাৎ খুলে দেওয়া কিংবা ঝুনঝুনির শব্দ—এসব খেলায় শিশুর কৌতূহল ও আনন্দ বাড়ে। শিশুরা মায়ের কণ্ঠস্বর সবচেয়ে বেশি পছন্দ করে এবং নাম ধরে ডাকলে প্রতিক্রিয়া জানাতে শেখে। এই খেলাগুলোর মধ্য দিয়েই শিশু আবেগ প্রকাশ, যোগাযোগ ও সামাজিক আচরণের প্রাথমিক ধারণা লাভ করে।
খেলার মাধ্যমেই শিশুরা হামাগুড়ি দেওয়া, জিনিস ধরা-ছাড়া করা, ভারসাম্য রক্ষা ও বিভিন্ন আকার-আকৃতি চিনতে শেখে। একই সঙ্গে গড়ে ওঠে আত্মবিশ্বাস, সামাজিকতা এবং পারিবারিক বন্ধনের ভিত।
ভালোবাসা ও যত্নে মোড়া এই খেলাধুলাই মা ও সন্তানের সম্পর্ককে করে তোলে আরও দৃঢ়। তাই বলা যায়—জীবনের প্রতিটি ধাপে মা-ই সন্তানের প্রথম ও শ্রেষ্ঠ আশ্রয়।
Comment / Reply From
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!