Dark Mode
Image
  • Tuesday, 05 May 2026
নিজে নিজে হাঁটে পাথর? ডেথ ভ্যালির রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

নিজে নিজে হাঁটে পাথর? ডেথ ভ্যালির রহস্যের বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত Death Valley—পৃথিবীর অন্যতম শুষ্ক ও উত্তপ্ত অঞ্চল—দীর্ঘদিন ধরেই নানা অদ্ভুত প্রাকৃতিক ঘটনার জন্য পরিচিত। কখনো মরুভূমি হঠাৎ ফুলে ঢেকে যায়, আবার কখনো তৈরি হয় অস্থায়ী হ্রদ। তবে সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনা হলো, এখানে কিছু পাথর নাকি নিজে নিজেই চলতে পারে।

ডেথ ভ্যালির Racetrack Playa নামের শুকিয়ে যাওয়া হ্রদের বুকে ছড়িয়ে আছে শত শত পাথর, যেগুলোকে বলা হয় Sailing Stones। এদের মধ্যে কিছু পাথরের ওজন ৩০০ কেজিরও বেশি। বিস্ময়ের বিষয় হলো, এসব পাথর কাদামাটির ওপর দিয়ে কয়েকশ মিটার পর্যন্ত সরতে পারে এবং পেছনে রেখে যায় দীর্ঘ দাগ।

দশকের পর দশক এই ঘটনাকে ঘিরে নানা ব্যাখ্যা দেওয়া হলেও কোনো নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি। কেউ বলতেন বাতাসের কারণে, কেউ বলতেন কাদার পিচ্ছিলতার কারণে পাথরগুলো নড়ে। কিন্তু কেউই সরাসরি এই দৃশ্য দেখেননি।

অবশেষে ২০১৩ সালে গবেষক Richard Norris এবং তাঁর দল আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে এই রহস্যের সমাধানে নামেন। তাঁরা কয়েকটি পাথরের সঙ্গে জিপিএস ট্র্যাকার সংযুক্ত করেন এবং এলাকায় আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ যন্ত্র স্থাপন করেন।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁরা এই রহস্যের বাস্তব চিত্র দেখতে পান। শীতকালে বৃষ্টির পর রেসট্র্যাক প্লেয়ায় অল্প পানি জমে। রাতে তাপমাত্রা কমে গেলে সেই পানি জমে পাতলা বরফে পরিণত হয়। সকালে সূর্যের তাপে বরফ ভেঙে বড় বড় টুকরায় বিভক্ত হয়।

এই বরফের চাদরগুলো বাতাসের চাপে ধীরে ধীরে সরে যেতে থাকে। আর সেই ভাসমান বরফের সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে ভারী পাথরগুলোও কাদার ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে এগিয়ে যায়। এই প্রক্রিয়াটি এত ধীরগতির যে খালি চোখে তা বোঝা প্রায় অসম্ভব।

গবেষকদের মতে, এই চলাচল একসঙ্গে অনেক পাথরের ক্ষেত্রে ঘটে, ফলে আলাদা করে নড়াচড়া চোখে ধরা পড়ে না। অনেকটা চলন্ত ফেরির ভেতরে বসে থাকার মতো—চারপাশ একসঙ্গে নড়লে গতি অনুভব করা কঠিন হয়।

২০১৪ সালে এই গবেষণার ফলাফল প্রকাশিত হলে ডেথ ভ্যালির ‘হাঁটা পাথর’-এর রহস্য আনুষ্ঠানিকভাবে সমাধান হয়। তবে এখনো কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে—বিশেষ করে সবচেয়ে ভারী পাথরগুলো ঠিক কীভাবে নড়ে, তা নিয়ে গবেষণা চলছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো অলৌকিক ঘটনা নয়, বরং প্রকৃতির সূক্ষ্ম ভারসাম্য—বরফ, বাতাস ও পানির সম্মিলিত প্রভাবের একটি চমৎকার উদাহরণ।

Comment / Reply From