Dark Mode
Image
  • Sunday, 26 April 2026
প্রথম ক্রীড়া কার্ড পেলেন ট্রায়াথলেট মারিয়া

প্রথম ক্রীড়া কার্ড পেলেন ট্রায়াথলেট মারিয়া

বাংলাদেশের ক্রীড়া অঙ্গনে নতুন এক মাইলফলক স্থাপন করলেন ফেরদৌসী আক্তার মারিয়া। ট্রায়াথলেট হিসেবে তিনিই প্রথম পেলেন সরকারি ‘ক্রীড়া কার্ড’। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের ক্রীড়া ভাতা কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপে ১৭১ জন ক্রীড়াবিদের সঙ্গে তিনিও এই স্বীকৃতি অর্জন করেন।

১৯ এপ্রিল অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের হাত থেকে ১৭১ নম্বর কার্ডটি গ্রহণ করেন মারিয়া। এই তালিকায় একমাত্র ট্রায়াথলেট হিসেবে তাঁর অন্তর্ভুক্তি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। মারিয়ার ভাষায়, এই স্বীকৃতি তাঁর জন্য যেমন গর্বের, তেমনি ভবিষ্যতের প্রস্তুতিতে বড় প্রেরণা।

ট্রায়াথলন একটি অত্যন্ত কঠিন ও সহনশীলতার খেলা, যেখানে দৌড়, সাঁতার এবং সাইক্লিং—এই তিনটি ভিন্নধর্মী ইভেন্ট একসঙ্গে সম্পন্ন করতে হয়। মারিয়া ইতোমধ্যেই ‘আয়রনম্যান ৭০.৩’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেকে প্রমাণ করেছেন। এই প্রতিযোগিতায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ১.৯ কিলোমিটার সাঁতার, ৯০ কিলোমিটার সাইক্লিং এবং ২১.১ কিলোমিটার দৌড় শেষ করতে হয়।

গত ফেব্রুয়ারিতে শ্রীলঙ্কার কলম্বোতে অনুষ্ঠিত ‘আয়রনম্যান ৭০.৩’ প্রতিযোগিতায় সফল হয়ে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নেওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেছেন তিনি। আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্সের নিস শহরে অনুষ্ঠিতব্য এই আসরে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করবেন মারিয়া।

রংপুরের পীরগঞ্জের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া মারিয়ার পথচলা সহজ ছিল না। কৃষক বাবা ও গৃহিণী মায়ের সংসারে বড় হয়ে ওঠা এই তরুণী ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলার প্রতি আগ্রহী ছিলেন। বিকেএসপিতে ভর্তি হয়ে প্রথমে ফুটবল খেললেও পরবর্তীতে ট্রায়াথলনের প্রতি আকৃষ্ট হন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়রনম্যান প্রতিযোগিতার ভিডিও দেখেই তাঁর এই যাত্রার শুরু।

২০২৪ সালে মালয়েশিয়ার লাংকাউইয়ে প্রথমবার ‘আয়রনম্যান ৭০.৩’ প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে সফল হন তিনি। সেই সাফল্যের ধারাবাহিকতায় স্পেনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে অংশ নিলেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাননি। তবে থেমে না গিয়ে আরও দৃঢ় মনোবল নিয়ে প্রস্তুতি চালিয়ে গেছেন।

বর্তমানে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিজিক্যাল এডুকেশন অ্যান্ড স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগে পড়াশোনার পাশাপাশি চলছে তাঁর কঠোর অনুশীলন। সামনে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপ—এখন সেটিই তাঁর একমাত্র লক্ষ্য।

মারিয়ার এই অর্জন শুধু ব্যক্তিগত নয়, বরং বাংলাদেশের ট্রায়াথলনের জন্যও এক বড় অগ্রগতি। তাঁর সাফল্য নতুন প্রজন্মের ক্রীড়াবিদদের অনুপ্রাণিত করবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Comment / Reply From