Dark Mode
Image
  • Tuesday, 27 October 2026
মাত্র ২০ সেকেন্ডে হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম

মাত্র ২০ সেকেন্ডে হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম

দরজার হাতল, মোবাইল ফোন, টাকা কিংবা গণপরিবহনের বিভিন্ন জিনিস স্পর্শ করার মাধ্যমে হাতে জীবাণু জমতে পারে। পরে সেই হাত দিয়ে খাবার খাওয়া, চোখ-মুখ স্পর্শ করা কিংবা নাকের কাছে হাত নেওয়ার ফলে জীবাণু শরীরে প্রবেশ করার সুযোগ পায়। অথচ সাবান ও পরিষ্কার পানি দিয়ে সঠিক নিয়মে হাত ধোয়ার অভ্যাস বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করতে পারে।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে হাত পরিষ্কার রাখা খুব সাধারণ একটি কাজ হলেও এর গুরুত্ব অনেক। যুক্তরাষ্ট্রের রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের (সিডিসি) নির্দেশনা অনুযায়ী, সাবান দিয়ে হাতের সব অংশ অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালোভাবে ঘষে ধুতে হবে। শুধু হাতের তালু পরিষ্কার করলেই হবে না; আঙুলের ফাঁক, হাতের পিঠ, বুড়ো আঙুল ও নখের চারপাশও পরিষ্কার করা জরুরি।

১৫ অক্টোবর বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস

প্রতিবছর ১৫ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস বা গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং ডে। সাবান ও পানি দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন জীবনে স্বাস্থ্যকর অভ্যাস গড়ে তোলাই দিবসটির মূল উদ্দেশ্য।

২০০৮ সালে গ্লোবাল হ্যান্ডওয়াশিং পার্টনারশিপের উদ্যোগে প্রথমবারের মতো দিবসটি পালন করা হয়। এরপর থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে হাত ধোয়ার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে সচেতনতা তৈরিতে নানা কর্মসূচি আয়োজন করা হচ্ছে।

বিশেষ করে ডায়রিয়া ও শ্বাসতন্ত্রের কিছু সংক্রমণ প্রতিরোধে সঠিকভাবে হাত ধোয়ার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই শুধু বিশেষ দিবসে নয়, প্রতিদিনের জীবনযাপনে হাত পরিষ্কার রাখার অভ্যাস গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

হাত ধোয়ার সঠিক নিয়ম কী?

হাত ধোয়ার সময় তাড়াহুড়ো করলে আঙুলের ফাঁক কিংবা নখের চারপাশে ময়লা ও জীবাণু থেকে যেতে পারে। তাই কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করা প্রয়োজন।

প্রথমে পরিষ্কার প্রবাহমান পানিতে হাত ভিজিয়ে নিন। এরপর সাবান লাগিয়ে দুই হাতের তালু, হাতের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, বুড়ো আঙুল এবং নখের চারপাশ ভালোভাবে ঘষুন। এভাবে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে হাত ঘষে পরিষ্কার করতে হবে।

এরপর পরিষ্কার প্রবাহমান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন। সবশেষে পরিষ্কার তোয়ালে কিংবা হাত শুকানোর উপযোগী ব্যবস্থা ব্যবহার করে হাত শুকিয়ে নিন।

শুধু পানি দিয়ে হাত ধোয়ার তুলনায় সাবান ও পানি ব্যবহার করলে হাতের ময়লা এবং জীবাণু দূর করতে বেশি কার্যকরভাবে সাহায্য করে। তাই হাত দৃশ্যত পরিষ্কার দেখালেও প্রয়োজনীয় সময়ে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখা জরুরি।

কখন হাত ধোয়া সবচেয়ে জরুরি?

দৈনন্দিন জীবনে কিছু নির্দিষ্ট সময়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে বিশেষভাবে সহায়ক হতে পারে। যেমন—

  • খাবার তৈরি করার আগে এবং খাবার খাওয়ার আগে।

  • শৌচাগার ব্যবহারের পর।

  • কাশি বা হাঁচি দেওয়ার পর কিংবা নাক পরিষ্কার করার পর।

  • বাইরে থেকে বাড়িতে ফেরার পর এবং অপরিষ্কার জিনিস স্পর্শ করার পর।

  • শিশুকে খাওয়ানো বা পরিচর্যা করার আগে এবং পরে।

  • পোষা প্রাণী স্পর্শ করার পর।

  • আবর্জনা পরিষ্কার করার পর।

  • ক্ষতস্থান পরিচর্যা করার আগে ও পরে।

এসব সময়ে হাত পরিষ্কার রাখলে জীবাণু এক ব্যক্তি বা বস্তু থেকে অন্য ব্যক্তি কিংবা খাবারে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

ছোট অভ্যাস, বড় সুরক্ষা

হাত ধোয়া দৈনন্দিন জীবনের সহজ একটি স্বাস্থ্যবিধি। তবে সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে এর উপকার কমে যেতে পারে। তাই হাতের প্রতিটি অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করা, সাবান ব্যবহার এবং পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।

নিজের পাশাপাশি পরিবারের শিশু ও বয়স্ক সদস্যদেরও সঠিকভাবে হাত ধোয়ার বিষয়ে সচেতন করা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের ছোটবেলা থেকেই খাবারের আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখানো যেতে পারে।

সুস্থ থাকতে বড় কোনো পরিবর্তনের প্রয়োজন সব সময় হয় না। প্রতিদিন সঠিক সময়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে সাবান দিয়ে হাত ঘষে ধোয়ার মতো ছোট অভ্যাসও বিভিন্ন সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Comment / Reply From