মাথা ছাড়াই ‘দেখতে’ পারে যেসব প্রাণী!
প্রাণীদের শরীরের গঠন সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত ধারণা হলো—মাথা থাকবে, সেখানে থাকবে চোখ ও মস্তিষ্ক। কিন্তু প্রকৃতিতে এমন কিছু প্রাণীও রয়েছে, যাদের নির্দিষ্ট কোনো মাথা নেই। অবাক করার মতো বিষয় হলো, তাদের কেউ কেউ আবার আলো, ছায়া কিংবা আশপাশের নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারে। বিবর্তনের ভিন্ন ধারায় গড়ে ওঠা এসব প্রাণীর সংবেদনশীল ব্যবস্থা সত্যিই বিস্ময়কর।
স্টারফিশ: মাথা নেই, আছে আলোর অনুভূতি
স্টারফিশের কোনো মাথা বা মস্তিষ্ক নেই। তাদের শরীর কেন্দ্রীয় অংশকে ঘিরে কয়েকটি বাহুতে বিভক্ত এবং রেডিয়াল প্রতিসাম্যের বৈশিষ্ট্য দেখা যায়। বাহুর প্রান্তে থাকা ক্ষুদ্র অক্ষিবিন্দু আলো ও ছায়ার পার্থক্য বুঝতে পারে।
এসব অঙ্গ দিয়ে স্টারফিশ স্পষ্ট কোনো ছবি দেখতে না পারলেও পরিবেশের পরিবর্তন বুঝতে এবং চলাচলের দিক নির্ধারণ করতে পারে। ফলে প্রয়োজনের সময় তারা নিরাপদ জায়গায় সরে যেতে সক্ষম হয়।
সি আর্চিন: পুরো শরীরজুড়েই সংবেদনশীলতা
সি আর্চিনেরও কোনো সুস্পষ্ট মাথা নেই। প্রচলিত অর্থে চোখ না থাকলেও শরীরজুড়ে থাকা অসংখ্য আলোক-সংবেদনশীল কোষের মাধ্যমে তারা আলো ও অন্ধকারের পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।
তাদের শরীরের কাঁটাগুলোও এ ক্ষেত্রে ভূমিকা রাখে। বিভিন্ন দিক থেকে আসা আলো শনাক্ত করতে এই ব্যবস্থা তাদের সহায়তা করে। একই সঙ্গে আশপাশের পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা পাওয়া এবং সম্ভাব্য শিকারির উপস্থিতি টের পাওয়ার ক্ষেত্রেও এটি গুরুত্বপূর্ণ।
স্ক্যালপ: শরীরের কিনারায় প্রায় ২০০ চোখ
স্ক্যালপের দৃষ্টিব্যবস্থা প্রাণীজগতের অন্যতম আকর্ষণীয় উদাহরণ। তাদের মাথার পরিবর্তে ম্যান্টলের কিনারাজুড়ে প্রায় ২০০টি ছোট নীলচে চোখ থাকতে পারে।
এসব চোখে বিশেষ ধরনের প্রতিফলক কাঠামো রয়েছে, যা আলোকে রেটিনার দিকে পরিচালিত করে। এর মাধ্যমে স্ক্যালপ আশপাশের নড়াচড়া শনাক্ত করতে পারে। শিকারির উপস্থিতি টের পেলে দ্রুত খোলস বন্ধ করে পানির ভেতর চলাচল করে নিরাপদে সরে যাওয়ার সুযোগ পায়।
মুন জেলিফিশ: মস্তিষ্ক নেই, তবু আলো বোঝে
মুন জেলিফিশের কোনো নির্দিষ্ট মাথা বা মস্তিষ্ক নেই। তবে তাদের শরীরে রোপালিয়া নামের সংবেদনশীল অঙ্গ থাকে, যা পরিবেশের বিভিন্ন পরিবর্তন অনুভব করতে সাহায্য করে।
এসব অঙ্গে থাকা আলোক-সংবেদনশীল কাঠামো আলোর তীব্রতা ও দিকের পরিবর্তন শনাক্ত করতে পারে। ফলে জেলিফিশ পানিতে নিজের অবস্থান নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশের পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সক্ষম হয়।
ব্রিটল স্টার: শরীরজুড়েই যেন ‘চোখ’
ব্রিটল স্টারেরও কোনো নির্দিষ্ট মাথা নেই। আশ্চর্যের বিষয় হলো, তাদের শরীরের বিভিন্ন অংশে থাকা আলোক-সংবেদনশীল কোষ আলো ও ছায়ার পরিবর্তন অনুভব করতে পারে।
এই বিশেষ ক্ষমতার কারণে আশপাশে বিপদের উপস্থিতি টের পেলে তারা দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে পারে। অর্থাৎ নির্দিষ্ট চোখ বা মস্তিষ্ক ছাড়াই পরিবেশ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম এই প্রাণী।
প্রকৃতির বিস্ময়কর বিবর্তন
স্টারফিশ, সি আর্চিন, স্ক্যালপ, মুন জেলিফিশ ও ব্রিটল স্টার দেখিয়ে দেয়, প্রাণীর পরিবেশ বোঝার জন্য সবসময় মানুষের মতো মাথা, মস্তিষ্ক ও চোখের প্রয়োজন হয় না। বিবর্তনের মাধ্যমে বিভিন্ন প্রাণী নিজেদের জীবনধারা ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে এমন অনন্য সংবেদনশীল ব্যবস্থা তৈরি করেছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!