সমুদ্রপাড়ে ‘ভেসে উঠবে’ বিশাল তিমি!
নরওয়ের বরফশীতল আর্কটিক উপকূলে নির্মিত হচ্ছে এক ব্যতিক্রমী পর্যটনকেন্দ্র। দূর থেকে দেখলে মনে হবে, সমুদ্রের বুক চিরে বিশাল একটি তিমি উঠে এসেছে। ‘দ্য হোয়েল’ নামের এই স্থাপনায় একসঙ্গে মিলবে স্থাপত্য, শিল্প, সুর, সামুদ্রিক বিজ্ঞান ও প্রকৃতির অনন্য অভিজ্ঞতা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের জুনে দর্শনার্থীদের জন্য এটি খুলে দেওয়ার কথা রয়েছে।
নরওয়ের উত্তরাঞ্চলের আন্দেনেস শহরের উপকূলে তৈরি হচ্ছে এই বিশেষ স্থাপনাটি। প্রকল্পটির পরিকল্পনা শুরু হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। ২০১৪ সালে ধারণাটির সূচনা হলেও ২০১৯ সালে স্থাপত্য নকশা প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হয় কোপেনহেগেনভিত্তিক স্থপতি ডোরটে মানড্রুপের নকশা। পরবর্তী সময়ে প্রয়োজনীয় পরিকল্পনা ও অর্থায়ন নিশ্চিত হওয়ার পর নির্মাণকাজ এগিয়ে যায়।
তিমি দেখার জন্য বিখ্যাত আন্দেনেস
আর্কটিক মহাসাগরের তীরবর্তী আন্দেনেস শহর আগে থেকেই তিমি পর্যটনের জন্য পরিচিত। শহরটির কাছেই রয়েছে ‘ব্লেইকসডজুপেট’ নামের গভীর সমুদ্রখাদ। এই জলতলীয় খাদ থেকে পুষ্টিসমৃদ্ধ পানি উপকূলের কাছাকাছি উঠে আসে। ফলে এখানে গড়ে উঠেছে সমৃদ্ধ সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্র।
প্রচুর খাবারের উপস্থিতির কারণে বছরের বিভিন্ন সময় এই অঞ্চলে তিমির দেখা মেলে। আর এই প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যকেই নতুন পর্যটনকেন্দ্রের মূল আকর্ষণ হিসেবে কাজে লাগানো হচ্ছে।
সমুদ্রের পাড়ে যেন বিশাল তিমি
‘দ্য হোয়েল’-এর নকশার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর আকৃতি। ভবনটি এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে দূর থেকে মনে হয় সমুদ্রের তীর থেকে একটি বিশাল তিমি তার পিঠ উঁচিয়ে আছে।
স্থাপনাটির বাঁকানো ছাদ উপকূলের প্রাকৃতিক শিলার সঙ্গে মিশে থাকবে। শুধু স্থাপত্য দেখার জন্য নয়, দর্শনার্থীরা এই ছাদের ওপর হাঁটতে পারবেন এবং সেখান থেকে আর্কটিক মহাসাগর ও আশপাশের প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করতে পারবেন।
আলো, আবহাওয়া ও জোয়ার-ভাটার পরিবর্তনের সঙ্গে ভবনটির বাইরের চেহারাতেও ভিন্ন ভিন্ন আবহ তৈরি হবে। ফলে দিনের বিভিন্ন সময়ে একই স্থাপনাকে একেবারে ভিন্ন রূপে দেখা যেতে পারে।
জাদুঘরের চেয়ে হবে আরও বেশি কিছু
‘দ্য হোয়েল’-এর ভেতরের আয়োজনও হবে বেশ ব্যতিক্রমী। প্রচলিত জাদুঘরের মতো শুধু তথ্যনির্ভর প্রদর্শনী না রেখে আধুনিক প্রযুক্তি, ইন্টারঅ্যাকটিভ ইনস্টলেশন, শব্দ ও গল্প বলার মাধ্যমে তিমির জগৎকে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরা হবে।
এখানে তিমির বিবর্তন, শারীরিক গঠন, খাদ্যাভ্যাস, যোগাযোগের পদ্ধতি এবং দীর্ঘ পরিযানের নানা তথ্য জানার সুযোগ থাকবে। একই সঙ্গে সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে তিমির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার বিষয়টিও তুলে ধরা হবে।
সবচেয়ে আকর্ষণীয় অভিজ্ঞতার মধ্যে থাকতে পারে পানির নিচের নানা রহস্যময় শব্দ শোনা এবং তিমির গান উপভোগ করার সুযোগ। এর মাধ্যমে দর্শনার্থীরা সমুদ্রের এমন এক জগতের সঙ্গে পরিচিত হতে পারবেন, যা সাধারণত চোখের আড়ালেই থেকে যায়।
তিমি ও মানুষের সম্পর্কও উঠে আসবে
শুধু বিজ্ঞান বা প্রকৃতির তথ্য নয়, মানুষের সঙ্গে তিমির দীর্ঘ ইতিহাসও তুলে ধরা হবে এই কেন্দ্রে। অতীতে তিমি শিকার থেকে শুরু করে বর্তমানের সংরক্ষণ প্রচেষ্টা—মানুষের সঙ্গে তিমির সম্পর্ক কীভাবে সময়ের সঙ্গে বদলেছে, সেটিও শৈল্পিকভাবে উপস্থাপন করা হবে।
নির্মাণ শেষ হলে ‘দ্য হোয়েল’ শুধু একটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে নয়, বরং আর্কটিক প্রকৃতি, সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য ও তিমি সংরক্ষণ সম্পর্কে মানুষের আগ্রহ বাড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান হয়ে উঠতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!