Dark Mode
Image
  • Monday, 27 July 2026
মানুষের জন্য ‘ফ্রিজ’ বানাল জাপান

মানুষের জন্য ‘ফ্রিজ’ বানাল জাপান

গরমে স্বস্তি দিতে ‘মানুষের ফ্রিজ’ বানাল জাপান

বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা বাড়ছে, আর সেই সঙ্গে বাড়ছে গরমজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিও। প্রচণ্ড রোদে বাইরে কাজ করা মানুষের জন্য এবার অভিনব এক প্রযুক্তি নিয়ে এসেছে জাপান। ‘ডো হিয়েমন বক্স (Do Hiyemon Box)’ নামে তৈরি করা হয়েছে এমন একটি কুলিং কেবিন, যেখানে কয়েক মিনিট অবস্থান করলেই শরীরের অতিরিক্ত তাপমাত্রা কমে আসবে।

দেখতে অনেকটা কাচের দরজাযুক্ত ছোট একটি কেবিনের মতো এই যন্ত্রে একজন মানুষ সহজেই প্রবেশ করতে পারেন। ভেতরে ঢোকার পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হয়, যা অল্প সময়েই শরীরকে শীতল করতে সাহায্য করে।

কীভাবে কাজ করে এই ‘মানুষের ফ্রিজ’?

জাপানের দুটি প্রতিষ্ঠান এসডিআরএস (SDRS) এবং ট্রাসকো নাকায়ামা (Trusco Nakayama) যৌথভাবে এই প্রযুক্তি তৈরি করেছে। নির্মাতাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাপানের জনপ্রিয় ঠাণ্ডা পানীয়ের ভেন্ডিং মেশিন থেকেই এই ধারণার জন্ম।

কেবিনটির ভেতরের স্বাভাবিক তাপমাত্রা রাখা হয় প্রায় ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে কেউ ভেতরে প্রবেশ করলেই এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কমে প্রায় ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নেমে আসে। এরপর মাথার ওপর থেকে ঠাণ্ডা বাতাস প্রবাহিত হয়ে শরীরের অতিরিক্ত গরম দ্রুত কমাতে শুরু করে।

মাত্র ৫ মিনিটেই মিলবে স্বস্তি

নির্মাতাদের দাবি, কেবিনে প্রবেশের প্রায় ৫ মিনিটের মধ্যেই শরীরের তাপমাত্রা কমতে শুরু করে। আর ১০ মিনিট অবস্থান করলে গরমের কারণে হওয়া ক্লান্তিও অনেকটাই দূর হয়ে যায়।

ব্যবহারকারীর নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে যন্ত্রটিতে স্বয়ংক্রিয় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। কেউ ২০ মিনিটের বেশি ভেতরে থাকলে এটি নিজ থেকেই বন্ধ হয়ে যাবে, যাতে অতিরিক্ত ঠাণ্ডাজনিত সমস্যা না হয়।

কোথায় ব্যবহার করা হবে?

প্রাথমিকভাবে এই কুলিং কেবিনটি তৈরি করা হয়েছে—

  • কারখানা

  • অফিস

  • ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান

  • নির্মাণ এলাকা

  • রাস্তার পাশে কর্মরত শ্রমিকদের জন্য

বিশেষ করে যেসব মানুষ দীর্ঘ সময় রোদে বা উচ্চ তাপমাত্রায় কাজ করেন, তাদের জন্য এটি কার্যকর সমাধান হতে পারে বলে মনে করছেন নির্মাতারা।

দাম কত?

‘ডো হিয়েমন বক্স’-এর মূল্য প্রায় ৮ লাখ ৮৬ হাজার ভারতীয় রুপি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর দাম আনুমানিক ১২ থেকে ১৩ লাখ টাকা, যদিও মুদ্রার বিনিময় হার অনুযায়ী এই মূল্য কিছুটা পরিবর্তিত হতে পারে।

প্রযুক্তি নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই নতুন আবিষ্কার নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। অনেকেই বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে ক্রমবর্ধমান গরমে এমন প্রযুক্তি কর্মজীবী মানুষের জন্য বড় স্বস্তি এনে দিতে পারে।

অন্যদিকে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের মূল কারণ সমাধানের পরিবর্তে কেবল মানুষকে ঠাণ্ডা রাখার প্রযুক্তি দীর্ঘমেয়াদে কতটা কার্যকর হবে।

তবুও প্রযুক্তির দৃষ্টিকোণ থেকে ‘মানুষের ফ্রিজ’ গরম মোকাবিলায় একটি নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশসহ গরমপ্রবণ দেশগুলোতে এমন কুলিং কেবিন জনপ্রিয় হয়ে ওঠে কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

Comment / Reply From

You May Also Like