Dark Mode
Image
  • Tuesday, 26 May 2026
রাজপরিবারের পুরোনো পোশাকের শেষ গন্তব্য কোথায়?

রাজপরিবারের পুরোনো পোশাকের শেষ গন্তব্য কোথায়?

ব্রিটিশ রাজপরিবার মানেই আভিজাত্য, ঐতিহ্য আর বিলাসবহুল জীবনযাপন—এমনটাই ধারণা অনেকের। তবে অবাক করার মতো বিষয় হলো, রাজপরিবারের সদস্যরা পুরোনো পোশাক কিংবা অপ্রয়োজনীয় জিনিস সহজে ফেলে দেন না। বরং সেগুলো নতুনভাবে ব্যবহার, সংরক্ষণ কিংবা দান করার সংস্কৃতি বহু বছর ধরেই চলে আসছে রাজপ্রাসাদে।

পুরোনো পোশাকও পায় নতুন জীবন

Queen Elizabeth II ছিলেন অত্যন্ত মিতব্যয়ী স্বভাবের। শুধু পছন্দ হচ্ছে না বলে কোনো পোশাক ফেলে দেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন না তিনি। অনেক সময় পুরোনো পোশাক কেটে নতুন ডিজাইনে তৈরি করা হতো অন্য পোশাক। আবার প্রাসাদের ভেতরে ব্যক্তিগত সময় কাটানোর সময় তিনি সেই পুরোনো পোশাকই ব্যবহার করতেন।

এমনকি কোনো পোশাক একেবারে ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে গেলেও তা ফেলে দেওয়া হতো না। কাপড়ের টুকরাগুলো ঘর পরিষ্কার বা আসবাবের ধুলা মোছার কাজে ব্যবহার করা হতো।

বছরের পর বছর একই পোশাক

King Charles III, Prince Philip এবং Princess Anne—রাজপরিবারের অনেক সদস্যই একই পোশাক বহু বছর ধরে ব্যবহার করার জন্য পরিচিত।

রাজা চার্লসকে এখনও তাঁর বাবার পুরোনো ক্যামেল কোট পরতে দেখা যায়, যেটি প্রথম ব্যবহার করা হয়েছিল ১৯৫৬ সালে। অন্যদিকে প্রিন্সেস অ্যান সম্প্রতি একটি অনুষ্ঠানে প্রায় ৫৭ বছর আগের কোট পরে আলোচনায় আসেন।

সবচেয়ে অবাক করা তথ্য হলো, প্রিন্স ফিলিপ তাঁর বিয়ের জুতা প্রায় ৭০ বছর ব্যবহার করেছিলেন।

ডায়ানা ও কেটের ‘রিপিট ফ্যাশন’

Princess Diana নিজের পোশাক নতুনভাবে পরিবর্তন করে আবার ব্যবহার করতে ভালোবাসতেন। একটি অনুষ্ঠানে পরা গাউন পরে তিনি অন্য অনুষ্ঠানে হাজির হতেন নতুন ডিজাইনের ছোঁয়ায়।

বর্তমানে Catherine, Princess of Wales-কে প্রায়ই বিভিন্ন বড় অনুষ্ঠানে পুরোনো পোশাক পুনরায় পরতে দেখা যায়। এমনকি তাঁর একটি প্রিয় বুট তিনি দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে ব্যবহার করছেন।

রাজকীয় গয়না প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে

https://images.openai.com/static-rsc-4/Gt9wdj0SvRczrYwjkUUY4J2_TwvF8bqMrpgd_zXoiKrslchpFGVBDI19_ltEMe6kc89oNPSQjcXgYR8esoA6x6aaQc7XWD7DTkW0GElcZHvIpIxxDdbDmP2LEYdUSvE4gVNytUvsC3INMM-ruwXbAmL7gef4vnOjU2_RtO0dnH2mvBP-HsOjtV0J6XhBX5Pl?purpose=fullsize
https://images.openai.com/static-rsc-4/rXuJj6emCgszGsrEXqOaoC4UtQgw0Sm3-fsmK3TXfUEtmivY_75r37iI2jVxS0P7dRIrKt-r9dOQu5UW7ysDJ6t95Vb5F1aRVgZhNsF1AtJfJrId9_xioeniVbXlFGvCT9FcAsXV2C5_-GcO3InPNDSlI1_X8dF8fUopK_a_Qk6Knx_Co0s2VxWf9JvKy8nK?purpose=fullsize
https://images.openai.com/static-rsc-4/m1kh0NgmgbT6LiLKtSW-x3S_9m6Q8FCAdZq_Hv70mY8mJsnPhmDoWYuVHe2YuVGXSSw02x9govglWCw0OyKPviqamZh6ZBHak8PTPf3FSs6NS3VEmrl3aTVhfFkxfC-m7yoz3OMEQNLb4qyDahMXIYgFYjWFg2W0bD1jtcOhtTdUdg4dYKRLCEQQoWHnLU9i?purpose=fullsize
4

রাজপরিবারের গয়নাগুলো সাধারণত ব্যক্তিগত সম্পদ হলেও এগুলোকে তাঁরা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত ঐতিহ্য হিসেবে দেখেন।

১৯১৩ সালে তৈরি হওয়া বিখ্যাত ‘লাভার্স নট টিয়ারা’ ব্যবহার করেছেন রানি মেরি, রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ, প্রিন্সেস ডায়ানা এবং বর্তমানে প্রিন্সেস কেট। একইভাবে রানি ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক স্যাফায়ার ব্রোচও প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে ব্যবহার হয়ে আসছে।

রাজকীয় পোশাক কোথায় রাখা হয়?

Buckingham Palace এবং Windsor Castle-এর বিশেষ আর্কাইভে সংরক্ষণ করা হয় রাজপরিবারের ঐতিহাসিক পোশাক ও মূল্যবান সামগ্রী।

সেখানে হাজার হাজার পোশাক, অলংকার ও ব্যক্তিগত সামগ্রী অত্যন্ত যত্নে রাখা আছে। বিশেষ কিছু সময়ে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য এসব সংগ্রহ প্রদর্শনের ব্যবস্থাও করা হয়।

চ্যারিটি শপেও পৌঁছে যায় রাজকীয় পোশাক

রাজপরিবারের অনেক সদস্য তাঁদের ব্যবহৃত পোশাক কর্মীদের উপহার দেন। পরে সেগুলোর কিছু চ্যারিটি শপে দান করা হয়। ফলে অনেক সময় সাধারণ মানুষও ভাগ্যক্রমে রাজপরিবারের ব্যবহৃত পোশাক সংগ্রহ করার সুযোগ পান।

কিছু ক্ষেত্রে এসব পোশাক পরবর্তীতে নিলামে উঠে লাখ লাখ ডলারে বিক্রিও হয়েছে।

নিলামে বিক্রি হয় রাজকীয় স্মৃতি

১৯৯৭ সালে Princess Diana ক্যানসার ও এইডস গবেষণার জন্য অর্থ সংগ্রহে তাঁর ৭৯টি পোশাক নিলামে তুলেছিলেন। সেই নিলাম থেকে প্রায় ৩০ লাখ ডলার সংগ্রহ করা হয়েছিল।

আবার তাঁর বিখ্যাত কিছু পোশাক পরবর্তী সময়ে মিলিয়ন ডলারে বিক্রি হয়েছে। ফলে রাজপরিবারের ব্যবহৃত সামগ্রী এখন অনেকের কাছে সংগ্রহযোগ্য ঐতিহাসিক সম্পদে পরিণত হয়েছে।

পরিবেশ সচেতনতার বার্তাও দিচ্ছে রাজপরিবার

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজপরিবারের এই পুনর্ব্যবহার ও মিতব্যয়ী জীবনধারা শুধু ঐতিহ্যের অংশ নয়; বরং পরিবেশ সচেতনতারও প্রতিফলন। বর্তমান রাজা চার্লস দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশ সংরক্ষণ ও জলবায়ু সচেতনতা নিয়ে কাজ করছেন। তাই পুরোনো জিনিস নতুনভাবে ব্যবহার করার এই সংস্কৃতি তাঁদের পরিবেশবান্ধব চিন্তারই অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

Comment / Reply From