Dark Mode
Image
  • Wednesday, 10 June 2026
রোজ ইফতারে জিলাপি? আগে জানুন শরীরের ক্ষতির হিসাব

রোজ ইফতারে জিলাপি? আগে জানুন শরীরের ক্ষতির হিসাব

রমজানে ইফতারের টেবিলে জিলাপি যেন এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। গরম গরম, রসালো এই মিষ্টি অনেকেরই প্রিয়। তবে রোজ ইফতারে জিলাপি খাওয়ার অভ্যাস শরীরের জন্য কতটা নিরাপদ—তা কি ভেবে দেখেছেন?

রক্তের শর্করায় বড় প্রভাব

জিলাপিতে থাকে প্রচুর চিনি। এটি উচ্চ গ্লাইসেমিক খাবার, যা খুব অল্প সময়ের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা দ্রুত বাড়িয়ে দেয়। কিছু সময় পর সেই মাত্রা আবার হঠাৎ কমেও যায়। ফলে অল্প সময়ের মধ্যেই আবার ক্ষুধা লাগে।

ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য এটি বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। তবে শুধু ডায়াবেটিস রোগী নয়, সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রেও অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর।

বাড়তে পারে ওজন ও দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি

জিলাপি উচ্চ ক্যালরিসম্পন্ন খাবার। প্রতিদিন এমন খাবার খেলে দ্রুত ওজন বাড়তে পারে। আর অতিরিক্ত ওজন মানেই বাড়তি স্বাস্থ্যঝুঁকি।

ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে উচ্চ রক্তচাপ, টাইপ–২ ডায়াবেটিস, রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল বৃদ্ধি—এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোক ও হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।

পুনর্ব্যবহৃত তেলের ভয়াবহতা

জিলাপি তৈরিতে ডুবোতেলে উচ্চ তাপে ভাজতে হয়। একবার ব্যবহারের পর সেই তেল আবার ব্যবহার করলে তাতে ক্ষতিকর ট্রান্সফ্যাট তৈরি হতে পারে।

আমাদের দেশে অনেক দোকান ও বাড়িতে একই তেল বারবার ব্যবহার করার প্রবণতা রয়েছে। কখনো পুরোনো তেলের সঙ্গে নতুন তেল মিশিয়েও ভাজা হয়। এতে তেলের গুণগত মান নষ্ট হয় এবং ট্রান্সফ্যাটের মাত্রা বেড়ে যায়।

ট্রান্সফ্যাট রক্তনালির জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর এবং হৃদ্‌রোগের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। নিয়মিত ভাজাপোড়া ও পুনর্ব্যবহৃত তেলে তৈরি খাবার খেলে দীর্ঘমেয়াদি নানা জটিলতা তৈরি হতে পারে।

তাহলে কি জিলাপি একেবারেই নয়?

সম্পূর্ণ বাদ দেওয়ার প্রয়োজন নেই, তবে রোজ খাওয়ার অভ্যাস থেকে সরে আসাই ভালো।

প্রাপ্তবয়স্ক একজন ব্যক্তি ইফতারে সর্বোচ্চ দুই-একটি চিকন জিলাপি খেতে পারেন।

নিশ্চিত করুন, তা যেন পুনর্ব্যবহৃত তেলে ভাজা না হয়।

চিনির বদলে গুড়ের জিলাপি তুলনামূলক কম ক্ষতিকর হলেও সেটিও সীমিত পরিমাণে খাওয়া উচিত।

শিশুদের ক্ষেত্রেও সংযম জরুরি।

ইফতারে রসনার তৃপ্তির জন্য ফলমূল, কাঁচা সবজি বা স্বাস্থ্যকর সালাদ বেছে নেওয়া ভালো। পুষ্টিকর বিকল্প খাবার শরীরকে রাখবে সতেজ ও সুস্থ।

রমজানে সংযমই হোক সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র।

Comment / Reply From