Dark Mode
Image
  • Monday, 20 April 2026
স্মার্টফোন ছাড়াই শৈশব: আয়ারল্যান্ডের গ্রামে অনন্য উদ্যোগ

স্মার্টফোন ছাড়াই শৈশব: আয়ারল্যান্ডের গ্রামে অনন্য উদ্যোগ

ডিজিটাল যুগে যখন শিশুরা খুব অল্প বয়সেই স্মার্টফোনে অভ্যস্ত হয়ে উঠছে, তখন আয়ারল্যান্ডের একটি ছোট শহর ভিন্ন এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ডাবলিনের দক্ষিণে অবস্থিত উপকূলীয় শহর গ্রেস্টোনসে শিশুরা বড় হচ্ছে স্মার্টফোন ছাড়াই—সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগের মাধ্যমে।

১২ বছর বয়সী বোডি ম্যাঙ্গান গিসলার মনে করে, স্মার্টফোন দরকারি হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার ক্ষতিকর হতে পারে। সে মাঝে মাঝে মায়ের ফোন ব্যবহার করে তথ্য খুঁজে নেয়, তবে নিজের ফোন নেওয়ার তাড়া নেই। একইভাবে তার বন্ধু চার্লি হেসও মনে করে, অন্তত ১৫ বা ১৬ বছর বয়সের আগে স্মার্টফোন না থাকাই ভালো।

এই ভিন্নধর্মী উদ্যোগের শুরু ২০২৩ সালে। গ্রেস্টোনসের অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় বাসিন্দারা মিলে সিদ্ধান্ত নেন—ছোট শিশুদের হাতে স্মার্টফোন দেওয়া হবে না। ‘ইট টেকস আ ভিলেজ’ নামে এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিশুদের মানসিক ও সামাজিক বিকাশে প্রযুক্তির নেতিবাচক প্রভাব কমানো।

স্থানীয় একটি জরিপে দেখা যায়, প্রায় ৭০ শতাংশ অভিভাবক তাদের সন্তানদের হাইস্কুলে যাওয়ার আগে স্মার্টফোন না দেওয়ার পক্ষে মত দেন। এর ফলে শিশুদের মধ্যে ‘সবারই ফোন আছে’—এই সামাজিক চাপ কমে যায়।

শিক্ষক ও অভিভাবকদের মতে, এই উদ্যোগের ইতিবাচক প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান। শিশুরা এখন ক্লাসে বেশি মনোযোগী, তারা বাইরে খেলাধুলা করছে এবং সরাসরি সামাজিক যোগাযোগে বেশি সময় দিচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের ঘুমের সমস্যা ও মানসিক চাপও কমেছে।

আইরিশ রাজনীতিবিদ জেনিফার হুইটমোর বলেন, স্মার্টফোন আসক্তি একটি সম্মিলিত সমস্যা, তাই এর সমাধানও হতে হবে সম্মিলিতভাবে। একইভাবে উপপ্রধানমন্ত্রী সাইমন হ্যারিস সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রভাবকে তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক বলে উল্লেখ করেছেন।

এই সফল উদ্যোগ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে ব্রিটেনে ‘স্মার্টফোন ফ্রি চাইল্ডহুড’ নামে একটি আন্দোলন শুরু হয়েছে। ইউরোপের বিভিন্ন দেশেও এই মডেল ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিকে পুরোপুরি বাদ না দিয়ে বরং সঠিক বয়সে এবং নিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের মাধ্যমে শিশুদের প্রযুক্তির সঙ্গে পরিচিত করানোই সবচেয়ে কার্যকর পন্থা।

Comment / Reply From