Dark Mode
Image
  • Monday, 24 August 2026
সারাক্ষণ ইয়ারবাড? নীরবে ক্ষতি হচ্ছে কানের!

সারাক্ষণ ইয়ারবাড? নীরবে ক্ষতি হচ্ছে কানের!

গান শোনা, ফোনে কথা বলা, অনলাইন মিটিং কিংবা ভিডিও দেখার ক্ষেত্রে ইয়ারবাড এখন অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। কিন্তু দীর্ঘ সময় ধরে কানে ইয়ারবাড লাগিয়ে রাখা এবং উচ্চ ভলিউমে শব্দ শোনার অভ্যাস শ্রবণস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, শব্দের মাত্রার পাশাপাশি কতক্ষণ এবং কত ঘন ঘন তা শোনা হচ্ছে—সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।

ইয়ারবাডে শ্রবণশক্তির ক্ষতি কেন হতে পারে?

ইয়ারবাড কানের পর্দার বেশ কাছাকাছি অবস্থান করে। ফলে উচ্চ ভলিউমে শব্দ শোনার সময় শব্দের শক্তি সরাসরি কানের ভেতরের সংবেদনশীল অংশে পৌঁছায়। দীর্ঘদিন এভাবে চলতে থাকলে অন্তঃকর্ণের ক্ষুদ্র হেয়ার সেল বা শ্রবণকোষ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এই কোষগুলো শব্দকে বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে মস্তিষ্কে পাঠাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একবার অতিরিক্ত শব্দের কারণে এগুলো স্থায়ীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্বাভাবিকভাবে পুনরায় তৈরি হওয়ার সুযোগ খুবই সীমিত।

তাই শুধু ভলিউম কম রাখলেই হবে না, টানা কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করা হচ্ছে সেদিকেও নজর রাখা জরুরি।

মাঝারি শব্দেও দীর্ঘক্ষণ শোনা ঝুঁকিপূর্ণ

অনেকে ইয়ারবাডে মাঝারি মাত্রার শব্দ শুনলেও ঘণ্টার পর ঘণ্টা তা কানে লাগিয়ে রাখেন। এতে কানের সংবেদনশীল অংশগুলো পর্যাপ্ত বিশ্রাম পায় না।

আবার বাস, ট্রেন, রাস্তা কিংবা জিমের মতো কোলাহলপূর্ণ জায়গায় অনেকে বাইরের শব্দ ঢাকতে ইয়ারবাডের ভলিউম বাড়িয়ে দেন। এতে শব্দের মাত্রা আরও বেড়ে গিয়ে কানের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে।

কানে ময়লা জমার সমস্যাও হতে পারে

দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহারের ফলে কানের স্বাভাবিক পরিবেশে পরিবর্তন আসতে পারে এবং কারও কারও ক্ষেত্রে কানের ময়লা বা খৈল জমে যাওয়ার সমস্যা দেখা দিতে পারে। এতে কান বন্ধ বা ভারী লাগা এবং সাময়িকভাবে কম শোনার মতো সমস্যা হতে পারে।

তবে কানে ময়লা জমে সাময়িকভাবে কম শোনা এবং অতিরিক্ত শব্দের কারণে অন্তঃকর্ণের স্থায়ী ক্ষতি—দুটি আলাদা বিষয়। সমস্যা দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

গবেষণায় কী উঠে এসেছে?

২০২২ সালে Cureus জার্নালে প্রকাশিত একটি সাহিত্য পর্যালোচনায় বিভিন্ন দেশের ২৩টি গবেষণা বিশ্লেষণ করা হয়। ব্যক্তিগত মিউজিক প্লেয়ার, ইয়ারফোন ও হেডফোন ব্যবহারের সঙ্গে শব্দজনিত শ্রবণ সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক সেখানে পর্যালোচনা করা হয়।

বিভিন্ন গবেষণায় ব্যক্তিগত মিউজিক ডিভাইসে ৭৮ থেকে ১৩৬ ডেসিবেল পর্যন্ত শব্দমাত্রা পাওয়া গেছে। উচ্চ শব্দ দীর্ঘ সময় শোনা হলে তা শ্রবণস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

অন্য কিছু গবেষণাতেও দীর্ঘ সময় ও উচ্চ শব্দে হেডফোন বা ইয়ারফোন ব্যবহারের সঙ্গে শ্রবণ সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক পাওয়া গেছে। তবে গবেষণার ফলাফলকে ব্যক্তিভেদে এবং ব্যবহারের ধরন বিবেচনা করে দেখা প্রয়োজন।

কতক্ষণ ইয়ারবাড ব্যবহার করবেন?

ইয়ারবাড ব্যবহারের জন্য সবার ক্ষেত্রে একই নির্দিষ্ট সময়সীমা নেই। ঝুঁকি অনেকটাই নির্ভর করে ভলিউম, ব্যবহারের সময় এবং ব্যবহারের ঘনত্বের ওপর।

শ্রবণস্বাস্থ্য রক্ষায় প্রচলিত একটি পরামর্শ হলো ‘৬০/৬০ নিয়ম’—ডিভাইসের সর্বোচ্চ ভলিউমের প্রায় ৬০ শতাংশের মধ্যে শব্দ রাখা এবং একটানা প্রায় ৬০ মিনিটের বেশি না শোনা। এরপর ইয়ারবাড খুলে কিছু সময় কানকে বিশ্রাম দেওয়া যেতে পারে।

এটি কঠোর চিকিৎসা-নির্দেশনা নয়; বরং উচ্চ শব্দের এক্সপোজার কমানোর একটি সহজ অভ্যাস হিসেবে অনুসরণ করা যেতে পারে।

ইয়ারবাড ব্যবহারে যে বিষয়গুলো মনে রাখবেন

  • ভলিউম যতটা সম্ভব কম রাখুন।
  • একটানা দীর্ঘ সময় ইয়ারবাড ব্যবহার করবেন না।
  • ব্যবহারের মাঝে নিয়মিত বিরতি দিন।
  • কোলাহলপূর্ণ পরিবেশে ভলিউম বাড়িয়ে শোনার অভ্যাস এড়িয়ে চলুন।
  • ইয়ারবাড পরিষ্কার রাখুন এবং অন্যের সঙ্গে শেয়ার না করাই ভালো।
  • কানে ব্যথা, ভোঁ ভোঁ শব্দ, কান বন্ধ লাগা বা শুনতে কম পাওয়ার মতো সমস্যা হলে ব্যবহার কমিয়ে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।

২০২৫ সালে Journal of Audiology & Otology-এ প্রকাশিত একটি গবেষণাতেও দীর্ঘ সময় ইয়ারফোন ব্যবহারের সঙ্গে কানের কিছু সমস্যার সম্ভাব্য সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে। তাই ইয়ারবাড পুরোপুরি বাদ দেওয়ার প্রয়োজন না থাকলেও কম ভলিউমে শোনা, একটানা ব্যবহার না করা এবং কানকে নিয়মিত বিশ্রাম দেওয়া শ্রবণস্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ।

Comment / Reply From