স্মার্ট টিভিতে বিল বাড়ার কারণ, কমাবেন যেভাবে
একসময় টেলিভিশন ছিল শুধু বিনোদনের মাধ্যম। এখন ইন্টারনেট, স্ট্রিমিং, ভয়েস কমান্ডসহ নানা সুবিধা নিয়ে ঘরের গুরুত্বপূর্ণ প্রযুক্তিপণ্যে পরিণত হয়েছে স্মার্ট টিভি। তবে এসব সুবিধার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিষয়টিও মাথায় রাখা জরুরি।
বিশেষ করে টিভি বন্ধ করার পরও যদি কিছু স্মার্ট ফিচার চালু থাকে, তাহলে সেটি স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় বিদ্যুৎ খরচ করতে পারে। প্রযুক্তিবিদদের ভাষায়, একে অনেক সময় ‘ভ্যাম্পায়ার পাওয়ার’ বলা হয়। তাই কিছু সেটিংস পরিবর্তন করে স্মার্ট টিভির অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ কমানো সম্ভব।
টিভি বন্ধ করেও কেন বিদ্যুৎ খরচ হয়?
রিমোট দিয়ে টিভি বন্ধ করলেও অনেক স্মার্ট টিভি পুরোপুরি বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয় না। দ্রুত চালু হওয়া, ভয়েস কমান্ড গ্রহণ, ওয়াই-ফাই সংযোগ বা বিভিন্ন অনলাইন সেবার সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখতে কিছু ফিচার ব্যাকগ্রাউন্ডে সক্রিয় থাকতে পারে।
বিশেষ করে ‘স্মার্ট ওয়েক’, ‘ইনস্ট্যান্ট অন’, ‘কুইক স্টার্ট’ কিংবা ‘ওয়েক অন ওয়াই-ফাই’-এর মতো সুবিধা চালু থাকলে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায়ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ বাড়তে পারে।
তবে টিভির বিদ্যুৎ খরচ শুধু স্মার্ট ফিচারের ওপর নির্ভর করে না। স্ক্রিনের আকার, রেজোলিউশন, ডিসপ্লে প্রযুক্তি এবং কতক্ষণ টিভি ব্যবহার করা হচ্ছে—এসব বিষয়ও গুরুত্বপূর্ণ।
স্ক্রিন যত বড়, খরচও তত বেশি
বড় স্ক্রিনের টিভি সাধারণত ছোট স্ক্রিনের তুলনায় বেশি বিদ্যুৎ ব্যবহার করে। একইভাবে উচ্চ রেজোলিউশনের ডিসপ্লে, বিশেষ করে 4K বা 8K মডেল, কিছু ক্ষেত্রে সাধারণ HD টিভির তুলনায় বেশি শক্তি ব্যবহার করতে পারে।
তাই শুধু স্মার্ট টিভি বলেই সেটি কত বিদ্যুৎ খরচ করবে, তা নির্ধারণ করা যায় না। কেনার সময় এনার্জি রেটিং ও প্রস্তুতকারকের দেওয়া বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখে নেওয়া ভালো।
স্যামসাং টিভিতে যে সেটিংস বদলাবেন
স্যামসাংয়ের অনেক স্মার্ট টিভিতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য ‘Power and Energy Saving’ অপশন রয়েছে।
রিমোটের Home বাটন থেকে Settings > General > Power and Energy Saving-এ গিয়ে প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু করা যায়। সেখানে ‘Brightness Optimization’ চালু করলে ঘরের আলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
এলজি টিভিতে চালু করুন এনার্জি সেভিং
এলজির webOS-চালিত টিভিগুলোতেও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের সুবিধা রয়েছে।
রিমোটের Settings বাটন থেকে All Settings > General > Energy Saving অপশনে গিয়ে প্রয়োজন অনুযায়ী এনার্জি সেভিং মোড নির্বাচন করা যায়।
টিভিতে শুধু গান, পডকাস্ট বা সংবাদ শোনা হলে ‘Screen Off’ সুবিধা থাকলে সেটিও ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে স্ক্রিন বন্ধ রেখে শুধু অডিও চালানো সম্ভব।
সনি ব্রাভিয়ায় ব্যবহার করুন ইকো সেটিংস
সনি ব্রাভিয়া টিভির কিছু মডেলে ‘Eco Dashboard’ বা অনুরূপ এনার্জি সেভিং ফিচার রয়েছে।
কুইক সেটিংস থেকে সংশ্লিষ্ট ইকো অপশনে গিয়ে ‘Idle TV Power Off’-এর মতো ফিচার চালু করা যায়। এতে নির্দিষ্ট সময় টিভি ব্যবহার না করলে সেটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হতে পারে।
মডেলভেদে সেটিংসের নাম ও অবস্থান কিছুটা ভিন্ন হতে পারে।
সব স্মার্ট টিভিতে বিদ্যুৎ বাঁচানোর সহজ উপায়
ইকো বা এনার্জি সেভিং মোড চালু রাখুন: টিভির সেটিংসে থাকা এনার্জি সেভিং অপশন চালু রাখলে স্ক্রিনের উজ্জ্বলতা ও ব্যাকলাইট নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বিদ্যুৎ ব্যবহার কমানো যেতে পারে।
অপ্রয়োজনীয় স্মার্ট ফিচার বন্ধ করুন: ‘Instant On’, ‘Quick Start’, ‘Always-on Voice Assistant’ বা ‘Wake on Wi-Fi’-এর মতো ফিচার প্রয়োজন না হলে বন্ধ করে রাখা যেতে পারে।
অডিও শোনার সময় স্ক্রিন বন্ধ করুন: গান, পডকাস্ট বা শুধু সংবাদ শোনার ক্ষেত্রে স্ক্রিন চালু রাখার প্রয়োজন নেই। ‘Screen Off’ বা ‘Audio Only’ সুবিধা থাকলে সেটি ব্যবহার করুন।
দীর্ঘ সময় ব্যবহার না করলে প্লাগ খুলে রাখুন: কয়েক দিন বাড়ির বাইরে থাকলে শুধু রিমোট দিয়ে টিভি বন্ধ না করে মূল সুইচ বন্ধ করে প্লাগ খুলে রাখা ভালো। এতে স্ট্যান্ডবাই অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ খরচ বন্ধ হবে।
টিভি কেনার সময়ও সতর্ক থাকুন
নতুন স্মার্ট টিভি কেনার আগে শুধু স্ক্রিনের আকার বা ছবির মান নয়, এর এনার্জি রেটিং, স্ট্যান্ডবাই পাওয়ার এবং বার্ষিক বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্য দেখে নেওয়া উচিত।
একই সঙ্গে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত বড় স্ক্রিন বা অপ্রয়োজনীয় উচ্চ রেজোলিউশনের মডেল না কিনলেও বিদ্যুৎ খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
স্মার্ট টিভি নিজে বিদ্যুৎ-খেকো যন্ত্র—এমনটা বলা ঠিক নয়। বরং সঠিক মডেল নির্বাচন, প্রয়োজনীয় সেটিংস ব্যবহার এবং দীর্ঘ সময় অব্যবহৃত অবস্থায় সম্পূর্ণ বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখার অভ্যাসই বিদ্যুৎ বিল কমাতে বেশি কার্যকর।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!