অপরিচিত কলেও দেখা যাবে নাম!
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলেই এবার শুধু নম্বর নয়, পর্দায় দেখা যাবে কলারের নামও। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ভারতে চালু হতে যাচ্ছে ‘কলিং নেম প্রেজেন্টেশন’ (সিএনএপি) প্রযুক্তি। এর মাধ্যমে ফোনের কনট্যাক্ট তালিকায় সংরক্ষিত না থাকা নম্বর থেকেও কল এলে টেলিকম অপারেটরের কাছে নিবন্ধিত নাম দেখানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) দেশটির টেলিকম সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই সেবা চালুর নির্দেশ দিয়েছে। নতুন ব্যবস্থার মূল লক্ষ্য হলো কলারের পরিচয় সহজে শনাক্ত করা এবং ভুয়া পরিচয়ে ফোন করে প্রতারণার ঝুঁকি কমানো।
কীভাবে কাজ করবে সিএনএপি?
সিএনএপি হলো এমন একটি কলার শনাক্তকরণ প্রযুক্তি, যার মাধ্যমে ফোন আসার সময় কলারের নম্বরের পাশাপাশি তাঁর নিবন্ধিত নামও দেখানো হবে। প্রাথমিকভাবে ভারতে ৪জি ও এর পরবর্তী প্রজন্মের মোবাইল নেটওয়ার্কে এই সেবা চালুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২জি, ৩জি নেটওয়ার্ক এবং ল্যান্ডলাইন ফোনে এটি চালুর বিষয়টি পরে আলাদাভাবে বিবেচনা করা হবে।
নতুন ব্যবস্থায় কোনো নম্বর ফোনে আগে থেকে সংরক্ষিত থাকলে ব্যবহারকারীর সংরক্ষণ করা নামই দেখা যাবে। আর নম্বরটি সংরক্ষিত না থাকলে টেলিকম অপারেটরের গ্রাহক-তথ্যভান্ডারে থাকা নিবন্ধিত নাম প্রদর্শিত হবে।
বিদেশ থেকে আসা কলের ক্ষেত্রে অপরিচিত নম্বরের পাশে কলারের নামের পরিবর্তে ‘ইন্টারন্যাশনাল কল’ লেখা দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে।
নাম দেখাতে কীভাবে সংরক্ষণ করা হবে তথ্য?
এই সেবা চালু করতে টেলিকম অপারেটরদের গ্রাহকের মোবাইল নম্বরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নিবন্ধিত নামের তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। ফোন আসার সময় সংশ্লিষ্ট অপারেটরের তথ্যভান্ডার থেকে প্রয়োজনীয় নাম সংগ্রহ করে গ্রাহকের ফোনে প্রদর্শন করা হবে।
এ ক্ষেত্রে আলাদা কোনো কলার আইডি অ্যাপ ডাউনলোড করার প্রয়োজন হবে না। সেবাটি টেলিকম নেটওয়ার্কের মাধ্যমেই কাজ করবে।
তবে ফোনের পর্দায় প্রদর্শিত নামটি মূলত টেলিকম অপারেটরের নিবন্ধিত তথ্যের ওপর নির্ভর করবে। তাই পরিচিত কারও নম্বর সংরক্ষিত না থাকলে তাঁর আনুষ্ঠানিক নাম দেখা গেলেও সেটি দিয়ে কলের উদ্দেশ্য বা বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা যাবে না।
গোপনীয়তা রক্ষায় কী ব্যবস্থা থাকছে?
কলারের নাম দেখানোর পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। নতুন ব্যবস্থায় ‘সিকিউরিটি-বাই-ডিজাইন’ নীতি অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কল শনাক্ত করার জন্য তথ্য যাচাইয়ের পর সংশ্লিষ্ট নাম যেন অপ্রয়োজনীয়ভাবে অনুসন্ধান-প্রক্রিয়ার ডেটায় সংরক্ষিত না থাকে, সে ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
এ ছাড়া ‘কলিং লাইন আইডেন্টিফিকেশন রেস্ট্রিকশন’ (সিএলআইআর) সুবিধা ব্যবহার করে যাঁরা নিজেদের কলার পরিচয় গোপন রাখেন, তাঁদের নাম প্রদর্শিত হবে না।
ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও একাধিক সংযোগ ব্যবহারকারী প্রাতিষ্ঠানিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে নিবন্ধিত ট্রেডমার্ক কিংবা জিএসটি পোর্টালে নিবন্ধিত ব্যবসায়িক নাম প্রদর্শনের সুযোগ থাকবে। তবে সংশ্লিষ্ট টেলিকম অপারেটরকে প্রয়োজনীয় নথিপত্র যাচাই করে নাম অনুমোদন করতে হবে।
প্রতারণা কমানোই প্রধান লক্ষ্য
অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন করে ভুয়া পরিচয় দেওয়া, আর্থিক প্রতারণা কিংবা সাইবার অপরাধের ঘটনা ঠেকানো সিএনএপি চালুর অন্যতম উদ্দেশ্য। কল আসার সময় নিবন্ধিত নাম দেখা গেলে ব্যবহারকারীরা ফোনটি ধরার আগে পরিচিতি সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা পাবেন।
তবে এই প্রযুক্তি চালু হলেই সব প্রতারণামূলক কল বন্ধ হয়ে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। প্রতারকেরা অন্যের পরিচয় ব্যবহার করতে পারে কিংবা পরিচিত নাম দেখিয়েও বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করতে পারে।
তাই ফোনের পর্দায় নাম দেখা গেলেও অপরিচিত কারও সঙ্গে ব্যাংকিংয়ের গোপন তথ্য, পাসওয়ার্ড বা ওটিপি শেয়ার করা উচিত নয়। সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের অনুরোধ এলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক নম্বরে যোগাযোগ করে যাচাই করা জরুরি।
বাংলাদেশে কি চালু হচ্ছে একই নিয়ম?
ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগের এই নির্দেশনা দেশটির টেলিকম অপারেটর এবং সংশ্লিষ্ট নেটওয়ার্কের জন্য প্রযোজ্য। তাই ১ নভেম্বর থেকে বাংলাদেশেও একই ব্যবস্থা চালু হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি নেই।
সব মিলিয়ে, ভারতের সিএনএপি প্রযুক্তি অপরিচিত কল শনাক্ত করার ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা নিয়ে আসতে যাচ্ছে। তবে কলারের নাম জানা আর কলটি নিরাপদ কি না, তা নিশ্চিত হওয়া এক বিষয় নয়। প্রযুক্তির সুবিধা কাজে লাগানোর পাশাপাশি সচেতন থাকাও জরুরি।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!