Dark Mode
Image
  • Wednesday, 28 October 2026
সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ? নতুন নিয়ম জানুন

সিম ছাড়া চলবে না হোয়াটসঅ্যাপ? নতুন নিয়ম জানুন

 

 

হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের জন্য নতুন সিম-বাইন্ডিং নিয়ম কার্যকরের প্রস্তুতি নিচ্ছে ভারত সরকার। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে এ নিয়ম। এতে ভারতীয় মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিম কার্ডের সঙ্গে অ্যাপের সংযোগ বজায় রাখা বাধ্যতামূলক হতে পারে।

ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগ (ডিওটি) মেসেজিং অ্যাপগুলোকে নতুন নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে। সাইবার জালিয়াতি, পরিচয় গোপন করে প্রতারণা এবং ভারতীয় মোবাইল নম্বরের অপব্যবহার ঠেকানোই এ উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।

তবে এ নিয়মের অর্থ এই নয় যে, নির্দিষ্ট তারিখ থেকে সবার হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম বন্ধ হয়ে যাবে। মূলত নিবন্ধিত ভারতীয় নম্বরের সিম সংশ্লিষ্ট ডিভাইসে সক্রিয় না থাকলে অ্যাপ ব্যবহারে বাধা তৈরি হতে পারে।

কী এই সিম-বাইন্ডিং নিয়ম?

সিম-বাইন্ডিং হলো মোবাইল নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত কোনো অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সিম কার্ডের সংযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা। সাধারণত হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রামের মতো অ্যাপে একবার নম্বর যাচাই করে অ্যাকাউন্ট চালু করলে পরবর্তী সময়ে ফোন থেকে সিম খুলে ফেলেও অনেক ক্ষেত্রে অ্যাপ ব্যবহার করা যায়।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ভারতীয় নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্টের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সক্রিয় সিমটি যে ডিভাইসে অ্যাপ ব্যবহার করা হচ্ছে, সেখানে থাকা প্রয়োজন হতে পারে।

ফলে নিবন্ধিত সিম খুলে অন্য ফোনে রেখে দেওয়া, সিম নিষ্ক্রিয় হয়ে যাওয়া কিংবা নম্বর পরিবর্তনের মতো পরিস্থিতিতে অ্যাকাউন্টের কার্যক্রমে বাধা আসতে পারে। তবে এ নিয়ম বাস্তবায়নের পদ্ধতি সংশ্লিষ্ট অ্যাপের প্রযুক্তিগত ব্যবস্থার ওপরও নির্ভর করবে।

যাঁদের ব্যবহারে প্রভাব পড়তে পারে

১. দ্বিতীয় ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী: অনেকেই একটি ফোনে সিম রেখে অন্য ফোনে হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করেন। নতুন নিয়ম কার্যকর হলে তাঁদের ডিভাইসের সেটআপ ও নিবন্ধিত সিমের অবস্থান যাচাই করতে হতে পারে।

২. সিম খুলে রাখা ব্যবহারকারী: অ্যাকাউন্ট চালু করার পর যাঁরা সংশ্লিষ্ট সিম ফোন থেকে সরিয়ে ফেলেন, তাঁদের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত পূরণে সমস্যা হতে পারে।

৩. শুধু ওয়াই-ফাই ব্যবহারকারী: যাঁরা সিম ছাড়াই ট্যাবলেট বা অন্য ডিভাইসে ওয়াই-ফাইয়ের মাধ্যমে মেসেজিং অ্যাপ ব্যবহার করেন, তাঁদের নিবন্ধিত নম্বরের সক্রিয় সিম-সংযোগের বিষয়টি বিবেচনায় রাখতে হবে।

৪. একাধিক সিম ব্যবহারকারী: একটি ফোনে দুটি সিম থাকলে কোন নম্বর দিয়ে অ্যাকাউন্ট নিবন্ধন করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। সংশ্লিষ্ট নম্বরের সিম সক্রিয় থাকা এবং অ্যাপের নিয়ম পূরণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

৫. বিদেশে ভ্রমণকারী ব্যবহারকারী: ভারতীয় নম্বর দিয়ে নিবন্ধিত অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বিদেশে গেলে সংশ্লিষ্ট সিম ফোনে সক্রিয় রাখার প্রয়োজন হতে পারে। স্থানীয় সিম ব্যবহারের পরিকল্পনা থাকলে নিজের ফোনের ডুয়াল-সিম সুবিধা ও অ্যাপের নির্দেশনা আগে যাচাই করা ভালো।

সাইবার জালিয়াতি ঠেকাতেই নতুন উদ্যোগ

ভারতের টেলিযোগাযোগ বিভাগের মতে, নিবন্ধিত সিম ফোন থেকে সরিয়ে ফেলার পরও কোনো কোনো মেসেজিং অ্যাকাউন্ট চালু থাকে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে প্রতারকেরা ভুয়া পরিচয়ে যোগাযোগ, ফিশিং এবং অন্যান্য সাইবার জালিয়াতি চালাতে পারে।

সিম-বাইন্ডিংয়ের মাধ্যমে অ্যাকাউন্টের সঙ্গে সক্রিয় সিমের সংযোগ বজায় রাখলে এ ধরনের অপব্যবহার কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।

তবে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নে অ্যাপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রযুক্তিগত পরিবর্তন প্রয়োজন। ফলে ব্যবহারকারীদের অভিজ্ঞতায় কী ধরনের পরিবর্তন আসবে, তা নির্ভর করবে সংশ্লিষ্ট প্ল্যাটফর্মের বাস্তবায়ন ও যাচাইপ্রক্রিয়ার ওপর।

বাংলাদেশি ব্যবহারকারীদের কি চিন্তার কারণ আছে?

এই নির্দেশনা মূলত ভারতীয় মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে নিবন্ধিত মেসেজিং অ্যাকাউন্টের জন্য। তাই বাংলাদেশি নম্বর দিয়ে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম ব্যবহারকারীদের ওপর এই নিয়মের সরাসরি প্রভাব পড়বে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কারণ নেই।

একইভাবে, পুরোনো আইফোন বা অ্যান্ড্রয়েড ফোন হওয়ার কারণে হোয়াটসঅ্যাপ বন্ধ হয়ে যাবে, এমন কোনো তথ্যও এই নির্দেশনায় নেই। এখানে মূল বিষয় হলো নিবন্ধিত নম্বরের সক্রিয় সিম এবং সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের সংযোগ।

ব্যবহারকারীদের উচিত নিবন্ধিত নম্বর সক্রিয় রাখা, অ্যাপের নিরাপত্তা ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণ করা এবং যাত্রা বা ডিভাইস পরিবর্তনের আগে সংশ্লিষ্ট অ্যাপের আনুষ্ঠানিক তথ্য যাচাই করা।

সব মিলিয়ে, ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ভারতীয় নম্বর ব্যবহারকারীদের জন্য সিম-বাইন্ডিং নিয়ম কার্যকরের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে কিছু ব্যবহারকারীর অ্যাপ ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে, তবে হোয়াটসঅ্যাপ বা টেলিগ্রাম সবার ফোনে বন্ধ হয়ে যাবে—এমন দাবি সঠিক নয়।

Comment / Reply From