Dark Mode
Image
  • Wednesday, 30 September 2026
আক্কেল দাঁত উঠলেই এত ব্যথা কেন?

আক্কেল দাঁত উঠলেই এত ব্যথা কেন?

মুখের একেবারে পেছনের দিকে সবার শেষে যে দাঁতটি ওঠে, সেটিই পরিচিত ‘আক্কেল দাঁত’ নামে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে একে বলা হয় থার্ড মোলার বা তৃতীয় পেষণ দাঁত। সাধারণত কৈশোর পেরিয়ে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার সময়ে এই দাঁত ওঠে। কারও ক্ষেত্রে এটি স্বাভাবিকভাবেই উঠে কোনো সমস্যা তৈরি করে না, আবার কারও জন্য আক্কেল দাঁত হয়ে উঠতে পারে তীব্র ব্যথা ও নানা ধরনের দাঁতের সমস্যার কারণ।

সাধারণত কখন ওঠে আক্কেল দাঁত?

সাধারণত ১৭ থেকে ২৫ বছর বয়সের মধ্যে আক্কেল দাঁত মাড়ি ভেদ করে বের হতে শুরু করে। তবে সবার ক্ষেত্রে একই সময়ে এটি ওঠে না; কারও ক্ষেত্রে আরও পরে উঠতে পারে।

একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর ও নিচের চোয়ালের চার কোণে সর্বোচ্চ চারটি আক্কেল দাঁত থাকতে পারে। তবে সবার চারটি দাঁত ওঠে না। অনেকের ক্ষেত্রে একটি, একাধিক বা এমনকি সব কটি আক্কেল দাঁতই অনুপস্থিত থাকতে পারে।

মানুষের আক্কেল দাঁত কেন প্রয়োজন ছিল?

আক্কেল দাঁতকে মানুষের বিবর্তনের একটি অবশিষ্ট বৈশিষ্ট্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আদিম মানুষের খাদ্যতালিকায় শক্ত খাবার, বীজ, শক্ত উদ্ভিজ্জ অংশ ও কাঁচা মাংসের মতো খাবার বেশি থাকায় সেগুলো চিবানোর জন্য অতিরিক্ত পেষণ দাঁতের প্রয়োজন হতো।

সময়ের সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাস বদলেছে। রান্নার প্রচলন ও তুলনামূলক নরম খাবারের কারণে খাবার চিবানোর প্রয়োজনীয়তাও আগের তুলনায় কমেছে। একই সঙ্গে মানুষের চোয়ালের গঠনও পরিবর্তিত হয়েছে। ফলে অনেকের চোয়ালে আক্কেল দাঁত স্বাভাবিকভাবে ওঠার মতো পর্যাপ্ত জায়গা থাকে না।

জায়গা না পেলেই শুরু হয় সমস্যা

চোয়ালে পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে আক্কেল দাঁত সঠিক অবস্থানে উঠতে পারে না। কখনো এটি মাড়ির ভেতর আটকে থাকে, কখনো আংশিক বের হয়, আবার কখনো পাশের দাঁতের দিকে বাঁকা হয়ে ওঠে। এ ধরনের অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ইমপ্যাক্টেড উইজডম টুথ বলা হয়।

আংশিকভাবে বের হওয়া দাঁতের চারপাশে মাড়ির ফাঁকে খাবারের কণা ও জীবাণু জমে যেতে পারে। সেখান থেকে মাড়িতে সংক্রমণ ও প্রদাহ তৈরি হতে পারে। এই সমস্যাকে বলা হয় পেরিকোরোনাইটিস।

কেন এত ব্যথা হয়?

আক্কেল দাঁত ওঠার সময় মাড়ির ওপর চাপ তৈরি হওয়া, জায়গার সংকট এবং দাঁতের চারপাশে সংক্রমণ—এসব কারণে ব্যথা দেখা দিতে পারে। এর সঙ্গে মাড়ি ফুলে যাওয়া, চোয়ালে অস্বস্তি কিংবা মুখ খুলতে কষ্ট হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে।

কিছু ক্ষেত্রে আক্রান্ত দাঁতের পাশে খাবার জমে ক্যাভিটি তৈরি হতে পারে। দাঁতটি দীর্ঘদিন আটকে থাকলে বা সংক্রমণ অবহেলা করলে দাঁতের গোড়ায় সিস্ট কিংবা পুঁজ জমার মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এতে পাশের সুস্থ দাঁতও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

কখন বিষয়টি গুরুতর হতে পারে?

আক্কেল দাঁতের সংক্রমণকে দীর্ঘদিন অবহেলা করা ঠিক নয়। বিশেষ করে ব্যথার সঙ্গে মাড়ি বা মুখ ফুলে যাওয়া, মুখ খুলতে বা খাবার গিলতে সমস্যা হওয়া কিংবা সংক্রমণের অন্যান্য লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।

অত্যন্ত বিরল ক্ষেত্রে মুখ ও গলার গভীর অংশে সংক্রমণ ছড়িয়ে গুরুতর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তাই আক্কেল দাঁতের ব্যথাকে সবসময় সাধারণ দাঁত ওঠার ব্যথা হিসেবে উপেক্ষা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

সব আক্কেল দাঁত কি তুলতে হয়?

না। আক্কেল দাঁত স্বাভাবিক অবস্থানে উঠে যদি কোনো ব্যথা, সংক্রমণ বা অন্য জটিলতা তৈরি না করে, তাহলে সাধারণত সেটি তুলে ফেলার প্রয়োজন হয় না।

তবে বারবার সংক্রমণ, তীব্র বা দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, দাঁতটি আটকে থাকা কিংবা পাশের দাঁতের ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে দন্ত চিকিৎসক দাঁতটি অপসারণের পরামর্শ দিতে পারেন। প্রয়োজন অনুযায়ী স্থানীয় অ্যানেসথেসিয়া দিয়ে এই অস্ত্রোপচার করা হয়।

দাঁত তোলার পর কী করবেন?

আক্কেল দাঁত অপসারণের পর সম্পূর্ণ সুস্থ হতে ব্যক্তিভেদে কয়েক দিন থেকে দুই সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। এ সময় চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ ও নির্দেশনা মেনে চলা জরুরি।

ক্ষতস্থানের যত্নে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কুসুম গরম লবণপানি দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা যেতে পারে। পাশাপাশি শক্ত খাবারের বদলে নরম খাবার খাওয়াও আরামদায়ক হতে পারে।

দাঁত তোলার পর ক্ষতস্থানে তৈরি হওয়া রক্তের জমাট অংশটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। ধূমপান, অতিরিক্ত কুলি করা বা ক্ষতস্থানে অযথা চাপ দেওয়ার কারণে এই জমাট সরে গেলে ড্রাই সকেট হতে পারে, যার ফলে তীব্র ব্যথা দেখা দিতে পারে।

তাই আক্কেল দাঁত ওঠার সময় সামান্য অস্বস্তি স্বাভাবিক হলেও তীব্র ব্যথা, ফুলে যাওয়া বা সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে বিষয়টি অবহেলা না করে দন্ত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।

Comment / Reply From