এই দক্ষতা না থাকলে ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
দ্রুত বদলে যাওয়া এই বিশ্বে শুধু ডিগ্রি বা দক্ষতা নয়, টিকে থাকার জন্য প্রয়োজন সঠিকভাবে চিন্তা করার ক্ষমতা। জটিল সমস্যা বিশ্লেষণ, সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তথ্য যাচাই—সবকিছুর কেন্দ্রে রয়েছে ‘ক্রিটিক্যাল থিংকিং’ বা যৌক্তিক চিন্তাভাবনা।
এ বিষয়ে সুইস লেখক রলফ ডাবেলি তাঁর বই The Art of Thinking Clearly-তে দেখিয়েছেন, আমাদের চিন্তায় কত ধরনের ভুল ও পক্ষপাত কাজ করে। শিক্ষার্থী হোন বা পেশাজীবী—চিন্তার এই অনুশীলন ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।
নিচে দেওয়া হলো ক্রিটিক্যাল থিংকিং চর্চার কিছু কার্যকর উপায়—
১. প্রচলিত ধারণাকে প্রশ্ন করুন
যে কোনো তথ্য পাওয়া মাত্রই বিশ্বাস করবেন না। আমরা প্রায়ই ‘কনফার্মেশন বায়াস’-এর শিকার হই—অর্থাৎ যা আমাদের বিশ্বাসের সঙ্গে মেলে, সেটাই গ্রহণ করি।
নিজেকে প্রশ্ন করুন:
আমি কেন এটি বিশ্বাস করছি?
এর বিপরীত প্রমাণ কী আছে?
এই অভ্যাস চিন্তাকে গভীর ও স্বাধীন করে তোলে।
২. ঘটনার পেছনের কারণ বিশ্লেষণ করুন
দুটি ঘটনা একসঙ্গে ঘটলেই একটি অন্যটির কারণ—এমনটা ধরে নেওয়া ভুল। ভাসাভাসা তথ্য নয়, বরং মূল কারণ খুঁজে বের করার চেষ্টা করুন। কেস স্টাডি বা বাস্তব উদাহরণ বিশ্লেষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
৩. নিজের ধারণাকেও চ্যালেঞ্জ করুন
নিজের মতের পক্ষে প্রমাণ খোঁজার বদলে সেটিকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করুন। অন্যের জায়গায় নিজেকে কল্পনা করুন। ভিন্ন মতের যুক্তি শুনুন। এতে চিন্তা আরও পরিশীলিত হয় এবং সত্যের কাছাকাছি পৌঁছানো যায়।
৪. ‘সাংক কস্ট ফ্যালাসি’ থেকে বের হয়ে আসুন
কোনো কাজে সময়, শ্রম বা অর্থ বিনিয়োগ করেছি বলেই সেটি আঁকড়ে ধরে রাখা যুক্তিযুক্ত নয়। কাজ না করলে তা ছেড়ে দেওয়ার সাহস রাখতে হবে। এটাই একজন প্রকৃত ক্রিটিক্যাল থিংকারের বৈশিষ্ট্য।
৫. সামাজিক চাপকে অন্ধভাবে অনুসরণ করবেন না
সংখ্যাগরিষ্ঠ যা করছে, সেটিই সঠিক—এমন ভাবা ভুল। ভিড়ের সঙ্গে না গিয়ে নিজের যুক্তিবোধ ব্যবহার করুন। যুক্তি দিয়ে প্রশ্ন করুন, ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করুন।
৬. অতিসরলীকরণ এড়িয়ে চলুন
জটিল সমস্যার খুব সহজ ব্যাখ্যা সব সময় সঠিক নাও হতে পারে। আমরা প্রায়ই ‘স্টোরি বায়াস’-এ আক্রান্ত হই—সবকিছু সহজ গল্পে বোঝার চেষ্টা করি। বাস্তবতা অনেক সময় বহুমাত্রিক। তাই প্রতিটি দিক আলাদাভাবে বিশ্লেষণ করুন।
৭. তথ্যের উৎস যাচাই করুন
ডিজিটাল যুগে তথ্যের প্রাচুর্য থাকলেও নির্ভরযোগ্য তথ্যের অভাব রয়েছে। কোনো খবর বা পোস্ট দেখেই সিদ্ধান্ত নেবেন না।
তথ্যের উৎস কী?
এটি কতটা নির্ভরযোগ্য?
কোনো স্বার্থ জড়িত আছে কি?
সম্পূর্ণ খবর পড়ুন এবং প্রয়োজনে একাধিক সূত্রে যাচাই করুন।
৮. বিকল্প চিন্তার অভ্যাস গড়ে তুলুন
যে কোনো সিদ্ধান্তে অন্তত তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প ভাবুন। ‘হ্যাঁ’ বা ‘না’-এর বাইরে আরও কী হতে পারে, তা বিবেচনা করুন। ভিন্ন মতের মানুষের সঙ্গে আলোচনা করুন। এতে মানসিক জড়তা কমে এবং দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয়।
৯. আবেগের ওপর যুক্তির নিয়ন্ত্রণ
আবেগ স্বাভাবিক, কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে আবেগ আমাদের ভুল পথে নিতে পারে। প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে সময় নিন। শান্তভাবে যুক্তি দিয়ে বিচার করুন।
শেষ কথা
ভবিষ্যতে সফল ও প্রাসঙ্গিক থাকতে চাইলে ক্রিটিক্যাল থিংকিং কোনো বিলাসিতা নয়—এটি অপরিহার্য দক্ষতা। নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে নিজের চিন্তাকে ধারালো করুন, প্রশ্ন করতে শিখুন এবং যুক্তিকে প্রাধান্য দিন।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!