Dark Mode
Image
  • Tuesday, 07 April 2026
মোবাইল থেকে মাস্টারশেফ: ইসমাইলের জয়যাত্রা

মোবাইল থেকে মাস্টারশেফ: ইসমাইলের জয়যাত্রা

শূন্য থেকে শুরু করে বিশ্বমঞ্চে নিজের জায়গা করে নেওয়ার গল্প যেন অনুপ্রেরণার আরেক নাম। বাংলাদেশের ইসমাইল হোসেন সেই গল্পেরই এক উজ্জ্বল উদাহরণ। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ ছাড়াই মোবাইলে রেসিপির ছবি তুলে রান্না শেখা থেকে শুরু করে আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের স্বাদ তুলে ধরছেন তিনি।

শুরুটা ছিল একেবারে সাধারণ

২০০৯ সালে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান ইসমাইল হোসেন। শুরুতে একটি রেস্টুরেন্টে ‘কিচেন পোর্টার’ হিসেবে কাজ শুরু করেন—যেখানে তার দায়িত্ব ছিল মূলত ধোয়া-মোছার কাজ। তখন রান্নার কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ ছিল না তার।

তবে আগ্রহ আর শেখার ইচ্ছাই তাকে এগিয়ে নেয়। রেস্টুরেন্টে কাজের ফাঁকে শেফদের কাজ দেখতেন, আর পাশের বইয়ের দোকানে গিয়ে মোবাইল ফোনে রেসিপির ছবি তুলে তা শিখতেন। পরে সেগুলো রান্না করে শেফদের দেখিয়ে নিজেকে উন্নত করতেন।

ভালোবাসা থেকেই পেশা

ধীরে ধীরে রান্নার প্রতি ভালোবাসা জন্ম নেয় তার। সেই ভালোবাসা থেকেই শেখা, আর শেখা থেকেই দক্ষতা। কোনো আনুষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই বাস্তব অভিজ্ঞতা ও পরিশ্রমে নিজেকে তৈরি করেন একজন দক্ষ শেফ হিসেবে।

মাস্টারশেফে বাংলাদেশের স্বাদ

বিশ্বখ্যাত রান্নার প্রতিযোগিতা MasterChef: The Professionals-এ অংশ নিয়ে নিজের মেধা ও দক্ষতা প্রমাণ করেন ইসমাইল।

এই প্রতিযোগিতায় তিনি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার হালিম এবং আলু দিয়ে গরুর মাংসের ভুনা তৈরি করে বিচারকদের মুগ্ধ করেন। নিজের শৈশবের স্মৃতি ও দেশীয় স্বাদের সঙ্গে আধুনিক কুকিং টেকনিক মিলিয়ে তিনি তৈরি করেন এক অনন্য উপস্থাপনা।

কেন বাংলাদেশি খাবার?

ইসমাইলের মতে, আগে বিদেশে বাংলাদেশের পরিচিতি কম থাকায় অনেকেই ‘ইন্ডিয়ান ফুড’ নামে ব্যবসা করতেন। তবে এখন সময় বদলেছে। তাই তিনি সচেতনভাবেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশি খাবারের পরিচয় তুলে ধরতে চান।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

ইসমাইল হোসেনের লক্ষ্য শুধু নিজের সাফল্যে থেমে থাকা নয়। তিনি চান নতুন প্রজন্মের শেফদের প্রশিক্ষণ দিতে এবং তাদের মধ্যে নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নিতে।

পাশাপাশি যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি খাবারকে ‘ফাইন ডাইনিং’ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে তার।

নতুনদের জন্য বার্তা

যারা শেফ হতে চান, তাদের জন্য তার পরামর্শ—

  • অনলাইন থেকে শিখতে হবে
  • নিয়মিত প্র্যাকটিস করতে হবে
  • ছোট-বড় যেকোনো রেস্টুরেন্টে কাজের অভিজ্ঞতা নিতে হবে
  • রান্নার উপকরণ ও কৌশল সম্পর্কে গভীর ধারণা রাখতে হবে

অনুপ্রেরণার প্রতীক

ইসমাইল হোসেনের গল্প প্রমাণ করে—সুযোগ না থাকলেও শেখার ইচ্ছা থাকলে সাফল্য অর্জন সম্ভব। মোবাইল ফোনে রেসিপি দেখে শেখা একজন তরুণ আজ বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের খাবারের প্রতিনিধিত্ব করছেন—এটাই তার সবচেয়ে বড় অর্জন।

Comment / Reply From