Dark Mode
Image
  • Thursday, 02 July 2026
ওজন কমানোর পর আবার বাড়ছে? সমাধান হতে পারে রিভার্স ডায়েটিং

ওজন কমানোর পর আবার বাড়ছে? সমাধান হতে পারে রিভার্স ডায়েটিং

কঠোর ডায়েট এবং নিয়মিত শরীরচর্চার মাধ্যমে ওজন কমানোর পর অনেকেই একটি পরিচিত সমস্যার মুখোমুখি হন। ডায়েট শেষ করে স্বাভাবিক খাবারে ফিরতেই আবার দ্রুত ওজন বাড়তে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে আগের চেয়েও বেশি ওজন বেড়ে যায়। পুষ্টিবিজ্ঞানে এই অবস্থাকে বলা হয় 'ইয়ো-ইয়ো ইফেক্ট'

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সমস্যা এড়াতে বর্তমানে বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয়তা পাচ্ছে 'রিভার্স ডায়েটিং'। এটি এমন একটি কৌশল, যা ডায়েটের পর শরীরকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক খাদ্যাভ্যাসে ফিরতে সাহায্য করে এবং হঠাৎ ওজন বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি কমায়।

রিভার্স ডায়েটিং কী?

রিভার্স ডায়েটিং মূলত ডায়েট-পরবর্তী একটি পরিকল্পিত খাদ্যাভ্যাস। দীর্ঘদিন কম ক্যালোরিযুক্ত খাবার খেলে শরীরের বিপাকক্রিয়া (মেটাবলিজম) ধীর হয়ে যায়। ফলে ডায়েট শেষ করে একবারে বেশি ক্যালোরি গ্রহণ করলে শরীর সেই অতিরিক্ত শক্তিকে দ্রুত চর্বি হিসেবে জমা করতে শুরু করে।

রিভার্স ডায়েটিংয়ে হঠাৎ ক্যালোরি বাড়ানো হয় না। বরং প্রতি সপ্তাহে মাত্র ৫০ থেকে ১০০ ক্যালোরি করে খাবারের পরিমাণ বাড়ানো হয়, যাতে শরীর ধীরে ধীরে নতুন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।

কেন কার্যকর এই পদ্ধতি?

মেটাবলিজম স্বাভাবিক রাখতে সহায়ক

'ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব স্পোর্টস মেডিসিন'-এর তথ্য অনুযায়ী, রিভার্স ডায়েটিং শরীরের ধীর হয়ে যাওয়া বিপাকক্রিয়াকে ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। এতে অতিরিক্ত চর্বি জমার ঝুঁকিও কমে।

হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখে

দীর্ঘদিন কঠোর ডায়েট করলে শরীরে তৃপ্তির হরমোন লেপটিন কমে যায় এবং ক্ষুধা বাড়ানো হরমোন ঘ্রেলিন বেড়ে যায়। ফলে ডায়েট শেষ হওয়ার পর অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা তৈরি হয়।

স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট Healthline-এর তথ্য অনুযায়ী, ধীরে ধীরে ক্যালোরি বাড়ানোর ফলে এই দুই হরমোনের ভারসাম্য ফিরতে শুরু করে এবং অতিরিক্ত ক্ষুধাও নিয়ন্ত্রণে থাকে।

পেশিশক্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে

কঠোর ডায়েটের সময় শরীর শুধু চর্বিই নয়, কিছু পরিমাণ পেশিও হারায়। রিভার্স ডায়েটিংয়ের মাধ্যমে পর্যাপ্ত প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর কার্বোহাইড্রেট যোগ করলে শরীরের পেশিশক্তি পুনরুদ্ধারে সহায়তা করে এবং ক্লান্তি কমায়।

কীভাবে শুরু করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, রিভার্স ডায়েটিং অনুসরণ করতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা জরুরি—

  • প্রতিদিন কত ক্যালোরি খাচ্ছেন, তার হিসাব রাখুন।
  • প্রতি সপ্তাহে মাত্র ৫০-১০০ ক্যালোরি করে খাবার বাড়ান।
  • অতিরিক্ত ক্যালোরির উৎস হিসেবে প্রোটিন, ওটস, লাল চাল, লাল আটার রুটি, ডাল ও স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিন।
  • ফাস্টফুড, কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত মিষ্টি দিয়ে ক্যালোরি বাড়াবেন না।
  • অন্তত ৪ থেকে ৮ সপ্তাহ ধৈর্য ধরে পরিকল্পনাটি অনুসরণ করুন।
  • নিয়মিত শরীরচর্চা চালিয়ে যান এবং পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।

মনে রাখবেন

রিভার্স ডায়েটিং কোনো দ্রুত ওজন কমানোর পদ্ধতি নয়। বরং এটি ওজন কমানোর পর সেই ফলাফল দীর্ঘদিন ধরে রাখতে সাহায্য করে। তবে সবার শরীরের চাহিদা এক নয়। তাই দীর্ঘদিন কঠোর ডায়েট করার পর খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের আগে একজন পুষ্টিবিদ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।

Comment / Reply From