ফ্রিজ ছাড়াই ঠান্ডা পানি! গরমে জনপ্রিয় হচ্ছে মাটির ফিল্টার
প্রচণ্ড গরমে ঠান্ডা পানির চাহিদা বেড়ে যায় কয়েক গুণ। তবে বিদ্যুৎ বা ফ্রিজের ওপর নির্ভর না করেও প্রাকৃতিক উপায়ে পানি ঠান্ডা রাখার একটি সহজ ও পরিবেশবান্ধব উপায় হলো মাটির ফিল্টার। দীর্ঘদিন ধরেই গ্রামীণ ও শহুরে জীবনে এটি ব্যবহার হয়ে আসছে, আর সাম্প্রতিক সময়ে এর জনপ্রিয়তা আবারও বাড়ছে।
মাটির ফিল্টার মূলত পানি সংরক্ষণ ও ঠান্ডা রাখার কাজে ব্যবহৃত হয়। সাধারণ পানির ফিল্টারের মতো এতে পানি বিশুদ্ধ করার কোনো বিশেষ ব্যবস্থা নেই। এর কাঠামোতে সাধারণত নিচে একটি স্ট্যান্ড, মাঝখানে পানি রাখার পাত্র এবং পানি সংগ্রহের জন্য একটি ট্যাপ থাকে। ওপরে থাকে ঢাকনা, যা পানিকে ধুলাবালু ও অন্যান্য ময়লা থেকে সুরক্ষিত রাখে।
মাটির ফিল্টারের বিশেষত্ব হলো এর ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত গঠন। এই ছিদ্র দিয়ে ধীরে ধীরে পানি বাষ্পীভূত হয়, ফলে প্রাকৃতিকভাবেই পানির তাপমাত্রা কমে আসে এবং দীর্ঘ সময় ঠান্ডা থাকে। কোনো ধরনের বিদ্যুৎ ছাড়াই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
বাজারে বিভিন্ন আকার ও ধারণক্ষমতার মাটির ফিল্টার পাওয়া যায়। সাধারণত ৬, ৮ ও ১০ লিটারের ফিল্টার বেশি জনপ্রিয়। পরিবারের সদস্যসংখ্যা ও দৈনন্দিন প্রয়োজন অনুযায়ী উপযুক্ত আকারের ফিল্টার নির্বাচন করা যায়। বর্তমানে সিলিন্ডার আকৃতির পাশাপাশি গোলাকার নকশার ফিল্টারও বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
অনলাইনভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘বাংলার মৃৎশিল্প’-এর স্বত্বাধিকারী তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রীষ্মকালে মাটির ফিল্টারের বিক্রি উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পায়। ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে নির্মাতারা বিভিন্ন ধরনের নকশা ও ডিজাইনের ফিল্টার বাজারে আনছেন।
স্বাস্থ্যগত দিক থেকেও মাটির পাত্রকে নিরাপদ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। বারডেম জেনারেল হাসপাতালের খাদ্য ও পুষ্টি বিভাগের প্রধান শামসুন্নাহার নাহিদের মতে, অনেক প্লাস্টিকের পাত্র ফুড-গ্রেড না হওয়ায় তা পানির মানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। অন্যদিকে, মানসম্মত মাটি দিয়ে তৈরি ও সঠিকভাবে পোড়ানো মাটির পাত্র পানির স্বাভাবিক গুণাগুণ বজায় রাখতে সহায়তা করে।
শুধু কার্যকারিতাই নয়, সৌন্দর্যের দিক থেকেও মাটির ফিল্টারে এসেছে নতুনত্ব। খাঁজকাটা নকশা, ফুল-পাতার অলংকরণ এবং আধুনিক মিনিমাল ডিজাইনের ফিল্টার এখন বাজারে পাওয়া যায়। আকার ও নকশাভেদে এসব ফিল্টারের দাম সাধারণত ৯০০ থেকে ২ হাজার টাকার মধ্যে।
তবে ব্যবহারের আগে নতুন ফিল্টার ভালোভাবে পরিষ্কার করা জরুরি। প্রথমবার ব্যবহারের আগে কয়েকবার পানি দিয়ে ধুয়ে নেওয়া উচিত এবং এক-দুই দিন পানি ভরে রেখে তা ফেলে দেওয়া ভালো। নিয়মিত ব্যবহারের সময় প্রতি সপ্তাহে অন্তত একবার পরিষ্কার করতে হবে। পাশাপাশি মাসে একবার ধুয়ে রোদে শুকিয়ে নিলে ফিল্টার দীর্ঘদিন ভালো থাকে। স্বাস্থ্যসম্মত ব্যবহারের জন্য দুই দিনের বেশি একই পানি ফিল্টারে সংরক্ষণ না করাই উত্তম।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!