Dark Mode
Image
  • Wednesday, 10 June 2026
মন ভালো রাখতে যে ৬টি অভ্যাস জরুরি

মন ভালো রাখতে যে ৬টি অভ্যাস জরুরি

ব্যস্ত জীবন, কাজের চাপ, সম্পর্কের টানাপোড়েন কিংবা ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা—এসব কারণে অনেক সময় কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই মন খারাপ লাগে। কখনও আবার সারাদিন মানুষের ভিড়ে থেকেও ভেতরে ভেতরে এক ধরনের শূন্যতা কাজ করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মন খারাপ মানুষের জীবনের স্বাভাবিক একটি অনুভূতি। তবে এই অনুভূতি দীর্ঘদিন ধরে জমিয়ে রাখলে তা মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. ফারজানা রহমান দিনার মতে, নিজের অনুভূতির যত্ন নেওয়া এবং সঠিক সময়ে তা প্রকাশ করা মানসিক সুস্থতার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

সচেতনভাবে শ্বাস নিন

মানসিক চাপ বা উদ্বেগের সময় আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস দ্রুত হয়ে যায়, যা অস্থিরতা আরও বাড়িয়ে তোলে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ধীরে ধীরে গভীর শ্বাস নিয়ে আস্তে আস্তে ছাড়ার অভ্যাস শরীর ও মনকে শান্ত করতে সাহায্য করে। মাত্র কয়েক মিনিট এই অভ্যাস চর্চা করলেও ইতিবাচক পরিবর্তন অনুভব করা সম্ভব।

ঘরের বাইরে বের হয়ে কিছুক্ষণ হাঁটুন

মন খারাপের সময় নিজেকে একা ঘরে আটকে রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে, মাত্র ১০ থেকে ১৫ মিনিট হাঁটাহাঁটি করলে শরীরে রক্ত সঞ্চালন বাড়ে এবং মস্তিষ্কে অক্সিজেনের সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। ফলে মানসিক চাপ অনেকটাই কমে আসে।

পার্কে যাওয়া সম্ভব না হলেও বাসার আশপাশে বা ছাদে কিছুক্ষণ হাঁটাও উপকারী হতে পারে।

নিজের অনুভূতি লিখে ফেলুন

সব কথা সবার সঙ্গে ভাগ করা সম্ভব হয় না। সেক্ষেত্রে ডায়েরি বা নোটবুকে নিজের অনুভূতি, কষ্ট কিংবা উদ্বেগ লিখে রাখা মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে।

মনোবিজ্ঞানীদের মতে, নিজের আবেগ লিখে প্রকাশ করার মাধ্যমে ভেতরের চাপ কিছুটা হলেও লাঘব হয়। পাশাপাশি প্রতিদিন নিজের ছোট ছোট ভালো কাজ বা কৃতজ্ঞতার বিষয়গুলো লিখে রাখলে ইতিবাচক মানসিকতা তৈরি হয়।

বর্তমান মুহূর্তে বাঁচার চেষ্টা করুন

অনেক সময় অতীতের অনুশোচনা কিংবা ভবিষ্যতের দুশ্চিন্তা আমাদের মনকে ভারী করে তোলে। এ ধরনের পরিস্থিতিতে 'মাইন্ডফুলনেস' বা বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ দেওয়ার অভ্যাস কার্যকর হতে পারে।

চা পান করার সময় তার উষ্ণতা অনুভব করা, হাঁটার সময় পায়ের নিচে মাটির স্পর্শ টের পাওয়া—এ ধরনের ছোট ছোট সচেতন অভ্যাস মনকে বর্তমানে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে।

নিজেকে দোষ দেওয়া বন্ধ করুন

ব্যর্থতা বা ভুলের জন্য অনেকেই নিজেকেই সবচেয়ে বেশি দোষারোপ করেন। কিন্তু ভুল করা মানুষের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য। নিজেকে ক্ষমা করতে শেখা এবং নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়া মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্যদের প্রতি যেমন সহমর্মিতা দেখানো হয়, নিজের প্রতিও তেমন আচরণ করা প্রয়োজন।

একা না থেকে কাছের মানুষের সঙ্গে কথা বলুন

মন খারাপের সময় নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার প্রবণতা স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘসময় একা থাকা সমস্যাকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বন্ধু, পরিবারের সদস্য বা বিশ্বাসযোগ্য কারও সঙ্গে মনের কথা ভাগ করে নিলে অনেকটাই স্বস্তি পাওয়া যায়।

গবেষণায় দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগ ও মানসিক সমর্থন হতাশা কাটিয়ে উঠতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

পর্যাপ্ত ঘুম ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন বজায় রাখুন

শরীর ভালো না থাকলে মনও ভালো থাকে না। তাই প্রতিদিন পর্যাপ্ত ঘুম, পর্যাপ্ত পানি পান এবং পুষ্টিকর খাবার গ্রহণের অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। নিয়মিত শরীরচর্চাও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।

কখন বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হবেন?

যদি দীর্ঘদিন ধরে মন খারাপ থাকে, কোনো কিছুতে আগ্রহ না পান, ঘুম বা খাওয়ার অভ্যাসে পরিবর্তন আসে কিংবা দৈনন্দিন কাজ ব্যাহত হয়, তাহলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা মনোবিজ্ঞানীর পরামর্শ নেওয়া উচিত।

কারণ দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অবসাদ অনেক সময় বিষণ্নতার লক্ষণ হতে পারে, যা অবহেলা করা ঠিক নয়।

মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা শারীরিক সুস্থতার মতোই গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট কিছু ইতিবাচক অভ্যাস ও প্রিয়জনদের সঙ্গে যোগাযোগ বজায় রাখলে অনেক কঠিন সময়ও সহজে পার করা সম্ভব।

Comment / Reply From