ছাদে আম ফলাতে চাইলে বেছে নিন এই ৫ জাত
নিজের ছাদেই যদি ফলাতে চান সুস্বাদু ও ফলনশীল আম, তাহলে এখনই হতে পারে উপযুক্ত সময়। আগারগাঁও জাতীয় বৃক্ষমেলায় দেশের বিভিন্ন নার্সারি ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের স্টলে মিলছে উন্নত জাতের আমের চারা। বিশেষ করে ছাদবাগানের জন্য উপযোগী কয়েকটি জাতের চারা সহজেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে সাশ্রয়ী দামে।
গাজীপুরের কাশিমপুরে অবস্থিত বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) উদ্যান উন্নয়ন কেন্দ্রের যুগ্ম পরিচালক ড. মো. জাহাঙ্গীর আলম ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে উপযোগী ও বেশি ফলনশীল পাঁচটি আমের জাতের পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক সেই জাতগুলো সম্পর্কে।
১. আম্রপালি
ছাদবাগানের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয় জাতগুলোর একটি হলো আম্রপালি। কলমের গাছ হওয়ায় এটি বেশি বড় হয় না এবং ছোট জায়গাতেই সহজে বেড়ে ওঠে। হাফ ড্রাম বা বড় টবে লাগালেই প্রতিবছর নিয়মিত ফলন পাওয়া যায়। মিষ্টি স্বাদ ও আঁশহীন শাঁসের কারণে এটি অনেকেরই প্রিয় আম।
২. কাটিমন
বছরজুড়ে আম খেতে চাইলে থাই জাতের কাটিমন হতে পারে আদর্শ পছন্দ। এটি বারোমাসি জাতের আম, যা বছরে তিন থেকে চারবার পর্যন্ত ফল দিতে পারে। এক ডালে মুকুল, অন্য ডালে কাঁচা বা পাকা আম—এটাই কাটিমনের বিশেষ বৈশিষ্ট্য। সাধারণ আমের মৌসুম শেষ হলেও এই গাছে ফল পাওয়া যায়।
বারোমাসি আমের বিকল্প হিসেবে বারি-১১, পুনাই বা মালয়েশিয়ান লুবনা জাতও লাগানো যেতে পারে।
৩. বারি-৪
বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) উদ্ভাবিত বারি-৪ ছাদবাগানের জন্য অত্যন্ত উপযোগী একটি জাত। এটি নাবি বা লেট ভ্যারাইটি হওয়ায় সাধারণ আমের মৌসুম শেষ হওয়ার পর ফল পাকতে শুরু করে। আমগুলো আকারে বড়, আঁশহীন এবং অত্যন্ত সুস্বাদু। পাকার পর এর আকর্ষণীয় রংও নজর কাড়ে।
৪. চিয়াংমাই
থাইল্যান্ডের জনপ্রিয় চিয়াংমাই জাতের আম দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি খেতেও দারুণ সুস্বাদু। গোলাপি আভাযুক্ত লম্বাটে এই আম কাঁচা অবস্থাতেও মিষ্টি, আবার পাকার পর আরও সুস্বাদু হয়ে ওঠে। রোগবালাই কম হওয়া এবং ভালো ফলনের কারণে ছাদবাগানের জন্য এটি একটি চমৎকার পছন্দ।
৫. ব্যানানা ম্যাঙ্গো
নামের মতোই দেখতে অনেকটা পাকা কলার মতো হওয়ায় এই আমের নাম ব্যানানা ম্যাঙ্গো। থাই জাতের এই আমের চামড়া পাতলা এবং আঁটি ছোট হওয়ায় খাওয়ার অংশ বেশি থাকে। স্বাদেও এটি বেশ জনপ্রিয় এবং ছাদবাগানে সহজেই ফলন দেয়।
বৃক্ষমেলায় চারার দাম
আগারগাঁও জাতীয় বৃক্ষমেলায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ৩৪ ও ৩৫ নম্বর স্টলে নির্ভরযোগ্য মানের চারা পাওয়া যাচ্ছে। চারার দাম নির্ধারণ করা হয়েছে—
- আম্রপালি – ১০০ টাকা
- বারি-৪ – ১০০ টাকা
- ব্যানানা ম্যাঙ্গো – ১০০ টাকা
- কাটিমন – ২৫০ টাকা
- চিয়াংমাই – ৩০০ টাকা
এ ছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি নার্সারির স্টলেও উচ্চতা ও টবের আকার অনুযায়ী বিভিন্ন দামে আমের চারা বিক্রি হচ্ছে।
ছাদবাগানে আম চাষের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
ছাদে আমের গাছ লাগানোর জন্য অন্তত ২০ ইঞ্চি আকারের টব বা হাফ ড্রাম ব্যবহার করা ভালো। টবের নিচে অবশ্যই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। পাশাপাশি নিয়মিত জৈব ও সুষম সার প্রয়োগ, পর্যাপ্ত রোদ এবং সময়মতো ডালপালা ছাঁটাই করলে গাছ সুস্থ থাকবে এবং প্রতি বছর ভালো ফলন দেবে।
যারা নিজের ছাদেই নিরাপদ ও সুস্বাদু আম ফলানোর স্বপ্ন দেখছেন, তাদের জন্য জাতীয় বৃক্ষমেলা হতে পারে উন্নত জাতের আমের চারা সংগ্রহের দারুণ একটি সুযোগ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!