Dark Mode
Image
  • Tuesday, 16 June 2026
মেঝেতে বসে খাবার খেলে মিলতে পারে চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা

মেঝেতে বসে খাবার খেলে মিলতে পারে চমকপ্রদ স্বাস্থ্য উপকারিতা

একসময় বাঙালির ঘরে ঘরে মেঝেতে বসে খাওয়ার প্রচলন ছিল। পরিবার কিংবা সামাজিক অনুষ্ঠানে সবাই একসঙ্গে মাটিতে বসে খাবার খেতেন। সময়ের পরিবর্তনে সেই জায়গা দখল করেছে ডাইনিং টেবিল ও চেয়ার। তবে আধুনিক জীবনযাত্রায় এই অভ্যাস কমে গেলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার কিছু উল্লেখযোগ্য উপকারিতা রয়েছে।

বিশেষ করে হজমশক্তি, শরীরের নমনীয়তা এবং খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই পুরোনো অভ্যাস ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।

হজমশক্তি উন্নত করতে সহায়ক

মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার সময় সাধারণত সামনের দিকে ঝুঁকে খাবার নিতে হয়। এই ওঠা-বসার প্রক্রিয়ায় পেটের পেশির স্বাভাবিক সংকোচন ও প্রসারণ ঘটে, যা হজম প্রক্রিয়াকে সক্রিয় করতে সাহায্য করে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে পাচকরস নিঃসরণও বাড়তে পারে, ফলে খাবার দ্রুত হজম হয়। যাদের গ্যাস, অম্বল বা হজমজনিত সমস্যা রয়েছে, তারা এ অভ্যাস থেকে কিছুটা উপকার পেতে পারেন।

খাবারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসে খাওয়ার সময় শরীরের ভঙ্গির কারণে পেটের ওপর হালকা চাপ সৃষ্টি হয়। এতে শরীর দ্রুত তৃপ্তির সংকেত পেতে পারে এবং অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমতে পারে।

ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চেষ্টা করছেন এমন ব্যক্তিদের জন্য এটি সহায়ক হতে পারে।

রক্তসঞ্চালন বাড়াতে ভূমিকা

মাটিতে বসে খাবার খাওয়ার সময় শরীরের বিভিন্ন পেশি সক্রিয় থাকে। এর ফলে রক্তসঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে সাহায্য করে এবং শরীরে সতেজ অনুভূতি তৈরি হতে পারে।

নিয়মিত এভাবে বসা শরীরের নমনীয়তা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

অজান্তেই হয়ে যায় কিছু যোগব্যায়াম

মেঝেতে বসে খাওয়ার সময় অনেকেই সুখাসন, স্বস্তিকাসন বা সিদ্ধাসনের মতো ভঙ্গিতে বসেন। যোগব্যায়ামের এই আসনগুলো শরীর ও মনের জন্য উপকারী বলে বিবেচিত।

এসব ভঙ্গি মেরুদণ্ড সোজা রাখতে, শরীরের ভারসাম্য উন্নত করতে এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি শরীরের নমনীয়তাও বৃদ্ধি পায়।

মানসিক প্রশান্তি বাড়াতে পারে

ধীরে ধীরে বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস মনোযোগী খাওয়ার (Mindful Eating) সংস্কৃতি গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এতে খাবারের স্বাদ ও পরিমাণ সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ে এবং তাড়াহুড়ো করে খাওয়ার প্রবণতা কমে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এ ধরনের অভ্যাস মানসিক প্রশান্তি ও পরিপূর্ণতার অনুভূতি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।

সবার জন্য কি উপযোগী?

যদিও মেঝেতে বসে খাওয়ার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা রয়েছে, তবে এটি সবার জন্য উপযুক্ত নাও হতে পারে। হাঁটু, কোমর, জয়েন্ট বা মেরুদণ্ডজনিত সমস্যায় ভোগা অনেক ব্যক্তির জন্য দীর্ঘ সময় মেঝেতে বসা কষ্টকর হতে পারে।

এ ধরনের শারীরিক সমস্যা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চেয়ার-টেবিলে বসেই খাবার খাওয়া উচিত।

পুরোনো অভ্যাসে নতুন সচেতনতা

আধুনিক জীবনযাত্রায় মেঝেতে বসে খাওয়ার সুযোগ কমে গেলেও মাঝে মাঝে এই অভ্যাস চর্চা করা শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। প্রতিদিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহে এক-দুই দিন মেঝেতে বসে খাওয়ার অভ্যাস শরীরকে সক্রিয় রাখতে এবং সচেতন খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়তা করতে পারে।

তবে যেকোনো অভ্যাসের মতোই ব্যক্তির শারীরিক সক্ষমতা ও স্বাস্থ্যগত অবস্থা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

Comment / Reply From