ঘর সাজাতে এই ৬ ভুল করবেন না!
ঘর সাজানো মানেই রং করা, নতুন সোফা কেনা বা ট্রেন্ডি ডেকর বসানো—এমনটা ভাবেন অনেকেই। কিন্তু পেশাদার ইন্টেরিয়র ডিজাইনাররা নিজেদের ঘর সাজাতে কিছু সাধারণ ভুল একেবারেই করেন না। বরং তাঁরা আগে ভাবেন ব্যবহার, আলো–বাতাস ও দীর্ঘমেয়াদি স্বাচ্ছন্দ্যের কথা।
জেনে নিন এমন ৬টি ভুল, যেগুলো এড়িয়ে চললে আপনার ঘরও হয়ে উঠবে আরও আরামদায়ক ও পরিপাটি।
১. সবকিছুর আগে দেয়ালের রং ঠিক করা
অনেকে ঘর সাজানোর শুরুতেই দেয়ালের রং বেছে নেন। অথচ ডিজাইনারদের মতে, এটি হওয়া উচিত শেষ ধাপ। কারণ রঙের বিকল্প অসংখ্য, কিন্তু সোফা, পর্দা, কার্পেট বা বিছানার চাদর বেছে নেওয়ার পর রং মিলিয়ে নেওয়া অনেক সহজ।
বাংলাদেশের ছোট পরিসরের ঘরে আলো–বাতাসের সীমাবদ্ধতা থাকে। তাই ঘরের ব্যবহার, জানালার দিক ও দিনের আলো বিবেচনায় রেখে রং নির্বাচন করাই বুদ্ধিমানের কাজ। পড়ার ঘর বা রান্নাঘরে হালকা ও উজ্জ্বল রং, আর শোবার ঘরে নরম ও শান্ত রং ভালো মানায়।
২. অতিরিক্ত ট্রেন্ড অনুসরণ করা
সোশ্যাল মিডিয়ায় জনপ্রিয় কোনো ডেকর দেখে সেটি হুবহু নকল করার প্রবণতা অনেকের আছে। কিন্তু ট্রেন্ড ক্ষণস্থায়ী। আজ যা জনপ্রিয়, কাল তা পুরোনো হয়ে যেতে পারে।
ডিজাইনাররা বড় আসবাব—যেমন সোফা, ডাইনিং টেবিল বা আলমারি—ক্ল্যাসিক ডিজাইনের রাখার পরামর্শ দেন। ট্রেন্ড যোগ করতে চাইলে ছোটখাটো উপকরণে করুন—কুশন কভার, ল্যাম্প, ফুলদানি বা দেয়ালের সাজে। এতে পরিবর্তন সহজ ও খরচ কম।
৩. ঘর বোঝাই করে ফেলা
অতিরিক্ত আসবাব ও শোপিস ঘরকে ছোট, বিশৃঙ্খল ও ভারী দেখায়। হাঁটাচলায় অসুবিধা হয়, এমনকি মানসিক চাপও বাড়তে পারে।
ঘরে ঢুকেই যদি অস্বস্তি লাগে বা জায়গা কম মনে হয়, বুঝবেন জিনিসপত্র কমানো দরকার। একইভাবে অনেক গাঢ় রং ও নকশা একসঙ্গে ব্যবহার করলে চোখ ও মন ক্লান্ত হয়ে পড়ে।
৪. ব্যবহারিক দিক উপেক্ষা করা
দেখতে সুন্দর বলেই কোনো আসবাব কেনা উচিত নয়। ভাবতে হবে—
আরামদায়ক কি না
পরিষ্কার করা সহজ কি না
পরিবারের সবার জন্য উপযোগী কি না
বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ধুলাবালু ও আর্দ্রতা বেশি থাকে। তাই টেকসই ও সহজে পরিষ্কার করা যায়—এমন উপকরণ বেছে নেওয়া বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত।
৫. আলোর উৎসে গুরুত্ব না দেওয়া
আলোই পারে ঘরের পরিবেশ বদলে দিতে। প্রাকৃতিক আলো প্রবেশের সুযোগ বাড়াতে হালকা পর্দা ব্যবহার করা ভালো। পাশাপাশি ল্যাম্প, ঝুলন্ত বাতি বা নরম আলো ঘরকে উষ্ণ ও আমন্ত্রণমূলক করে তোলে।
সঠিক আলো ছাড়া সুন্দর আসবাবও তার সৌন্দর্য পুরোপুরি ফুটিয়ে তুলতে পারে না।
৬. ‘ঘর কেমন হওয়া উচিত’ ভাবনায় আটকে থাকা
অন্যের ঘর দেখে অনুকরণ করতে গিয়ে অনেকেই নিজের প্রয়োজন ভুলে যান। কিন্তু ঘর হওয়া উচিত এমন একটি জায়গা, যেখানে আপনি স্বস্তি ও শান্তি পান।
ঘর শুধু দেখানোর জন্য নয়—এটি বিশ্রাম ও নিজের মতো থাকার জায়গা। তাই নিজের রুচি, অভ্যাস ও প্রয়োজন অনুযায়ী সাজান।
সুন্দর ঘরের সহজ সূত্র
আগে ব্যবহার ঠিক করুন, তারপর সাজান
কম জিনিসে বেশি কাজ করুন
আলো–বাতাসের দিকে নজর দিন
ট্রেন্ড নয়, স্বাচ্ছন্দ্যকে অগ্রাধিকার দিন
ছোট কিছু সচেতন সিদ্ধান্তেই ঘর হয়ে উঠতে পারে আরামদায়ক, কার্যকর ও নান্দনিক।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!