স্বদেশি ছোঁয়ায় মিনিমালিজম: ফায়জার অনন্য ঘর সাজানোর গল্প
নিজস্ব রুচি, স্মৃতি আর দেশের শিকড়—এই তিনের মিশেলে এক ব্যতিক্রমী মিনিমালিস্টিক ঘর সাজিয়েছেন উদ্যোক্তা ফায়জা আহমেদ। প্রচলিত ধারা বা ট্রেন্ডের বাইরে গিয়ে তিনি বিশ্বাস করেন, ঘর সাজানোর মূল বিষয় হওয়া উচিত নিজের ভালো লাগা ও স্বাচ্ছন্দ্য।
ফায়জার মতে, অগোছালো ঘর মানেই অগোছালো মন। তাই তিনি ঘরে অপ্রয়োজনীয় কিছু রাখতে চান না। বসার ঘরে কাঠের টেবিল, শোকেস, সিন্দুক ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে আনা সোফা দিয়ে সাজানো হয়েছে এক সরল অথচ নান্দনিক পরিবেশ। ঘরে পর্যাপ্ত আলো-বাতাস ঢোকার জন্য বড় জানালার ব্যবহারও চোখে পড়ার মতো।
তাঁর ঘরের একটি বিশেষ দিক হলো—যে জিনিসগুলো সাধারণত রান্নাঘরে লুকিয়ে রাখা হয়, সেগুলোই তিনি দৃশ্যমান জায়গায় সাজিয়েছেন। তামার পাতিল, কাঁসার বাসন কিংবা ঝাঁজরি—সবই যেন ঘরের সৌন্দর্যের অংশ হয়ে উঠেছে।
পুরোনো জিনিসের প্রতি রয়েছে তাঁর গভীর ভালোবাসা। শান্তিনিকেতন থেকে আনা হাতে বোনা কাপড়, মায়ের দেওয়া কাঁথা কিংবা বহুদিনের ব্যবহৃত আসবাব নতুন করে রং করে ব্যবহার করছেন তিনি। তাঁর মতে, নতুনের চেয়ে পুরোনো ও গল্পভরা জিনিসই বেশি মূল্যবান।
ফায়জা মনে করেন, বর্তমান সময়ের ‘মিনিমালিজম’ ধারণা অনেকটাই পশ্চিমা প্রভাবিত। অথচ গ্রামবাংলার সহজ-সরল জীবনযাপনই প্রকৃত মিনিমালিজমের উদাহরণ। তাই গুগল বা পিনটারেস্ট নয়, নিজের দেশের ঐতিহ্য থেকেই অনুপ্রেরণা নিতে চান তিনি।
শোবার ঘরেও একই সরলতা—একটি খাট ও একটি আলমারি। ডাইনিং স্পেসে রয়েছে বেঞ্চ ও নকশিকাঁথা দিয়ে সাজানো টেবিল, যার ওপর কাঁসা ও তামার পাত্র। পুরো ঘরজুড়ে রয়েছে নানা চিত্রকর্ম, যার কিছু তাঁর নিজের আঁকা, কিছু পরিবারের সদস্যদের।
ফায়জার জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ তাঁর বাগান। সাজানো বাগান নয়, বরং স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠা গাছপালাই তাঁর পছন্দ। তুলসী, নিম, জবা, কুমড়া, ধুন্দুলসহ নানা গাছ রয়েছে সেখানে। এই বাগানই তাঁর প্রতিদিনের প্রশান্তির জায়গা।
মজার বিষয় হলো, তাঁর বাসায় নেই কোনো টেলিভিশন। তবে সন্তানের আবদারে হয়তো আসন্ন বিশ্বকাপ উপলক্ষে একটি টিভি কেনার পরিকল্পনা করছেন তিনি।
ফায়জার এই ঘর যেন এক গল্প—যেখানে কম জিনিসে, দেশীয় উপকরণে আর স্মৃতির ছোঁয়ায় তৈরি হয়েছে এক স্বতন্ত্র ও অনুপ্রেরণাদায়ক জীবনধারা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!