শুধু প্রবীণদের জন্য চাকরি: জাপানের অনন্য এক রেস্তোরাঁ 🍵
জাপানে এমন একটি রেস্তোরাঁ রয়েছে যেখানে কাজ পাওয়ার জন্য প্রয়োজন অন্তত ৭৫ বছর বয়স। তরুণ নয়, বরং প্রবীণরাই এখানে রান্না করেন, অতিথিদের খাবার পরিবেশন করেন এবং পুরো পরিবেশটিকে করে তোলেন পারিবারিক ও উষ্ণ।
জাপানের Fukuoka Prefecture-এ অবস্থিত ‘উকিহা নো তাকারা’ নামের এই রেস্তোরাঁটি প্রবীণদের কর্মসংস্থানের এক অনন্য উদাহরণ। এখানে কর্মীদের বয়স সাধারণত ৮০ থেকে ৯০ বছরের মধ্যে। রান্নাঘরে কেউ মাংস প্রস্তুত করছেন, কেউ সবজি কাটছেন, আবার কেউ রান্নার উপকরণ গুছিয়ে নিচ্ছেন। বয়সের ভার থাকলেও তাঁদের কাজের আগ্রহে তা বোঝার উপায় নেই।
‘দাদির চায়ের ঘর’
রেস্তোরাঁটির ভেতরে রয়েছে ‘গ্র্যান্ডমাস টি রুম’ নামে একটি আরামদায়ক বসার জায়গা। এখানে অতিথিদের খাবার পরিবেশন করেন সাদা চুলের প্রবীণ কর্মীরা।
শুধু খাবার নয়, অতিথিরা এখানে পান ঘরোয়া পরিবেশ ও আন্তরিক আপ্যায়ন—যেন নিজের দাদির হাতের রান্না।
উদ্যোগের পেছনের ভাবনা
এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগটি শুরু করেন ২০১৯ সালে উদ্যোক্তা Mitsuru Okuma। তিনি লক্ষ্য করেছিলেন, অনেক প্রবীণ মানুষ অবসরের পর একাকিত্ব ও আর্থিক অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। শুধু পেনশনের অর্থ দিয়ে অনেকের জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ে। আবার কাজ করার আগ্রহ থাকলেও সুযোগের অভাব থাকে।
এই বাস্তবতা থেকেই তিনি প্রবীণদের দক্ষতাকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করেন। রান্না, গৃহস্থালি কাজ কিংবা অন্যান্য অভিজ্ঞতাকে মূল্য দিয়ে তাঁদের নিয়মিত কর্মচারী হিসেবে নিয়োগ দেন এবং মাসিক বেতন প্রদান করেন।
ওকুমার মতে, এতে প্রবীণরা নিজের এলাকায় আয় করতে পারেন এবং সেই অর্থ আবার স্থানীয় অর্থনীতিতেই ব্যয় হয়, যা পুরো কমিউনিটির জন্য ইতিবাচক।
কাজের আনন্দে নতুন জীবন
৮৫ বছর বয়সী মাসাকো তানিগুচি বর্তমানে এই রেস্তোরাঁর প্রধান রাঁধুনি। দীর্ঘদিন বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় কাজ করার অভিজ্ঞতা কাজে লাগাচ্ছেন তিনি।
অতিথিরা যখন তাঁর রান্নার প্রশংসা করেন, তখন তিনি গভীর আনন্দ অনুভব করেন। মাসাকো বলেন, “ক্রেতারা যখন বলেন খাবার ভালো হয়েছে, তখন মনে হয় আমি এখনও সমাজের জন্য কিছু করতে পারছি। এই কাজ আমাকে নতুন করে বাঁচার আনন্দ দেয়।”
অন্য জায়গাতেও ছড়াচ্ছে এই মডেল
এই মানবিক উদ্যোগ এখন জাপানের অন্য জায়গাতেও ছড়িয়ে পড়ছে।
Wakayama Prefecture-এ তরুণ উদ্যোক্তা Moe Oga ‘গ্র্যান্ডমাস বার’ নামে একটি উদ্যোগ শুরু করেছেন। তাঁর দাদি আগে একটি ছোট বার পরিচালনা করতেন, যা COVID-19 pandemic সময় বন্ধ হয়ে যায়। পরে দাদি ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। সেই অভিজ্ঞতা থেকেই ওগা এমন একটি জায়গা তৈরি করেন, যেখানে প্রবীণরা আবার মানুষের সঙ্গে মিশতে পারেন।
এদিকে Kumamoto Prefecture-এ উদ্যোক্তা Yukiko Tsukamoto একটি ‘গ্র্যান্ডমাস ক্যাফে’ চালুর পরিকল্পনা করছেন, যেখানে কর্মী হবেন প্রবীণনিবাসের বাসিন্দারাই।
বার্ধক্যের নতুন সংজ্ঞা
এই উদ্যোগগুলো দেখিয়ে দিচ্ছে, বার্ধক্য মানেই অক্ষমতা বা নিঃসঙ্গতা নয়। সঠিক সুযোগ পেলে প্রবীণরাও সমাজের সক্রিয় অংশ হয়ে উঠতে পারেন। তাঁদের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা অর্থনৈতিক দিকের পাশাপাশি সামাজিক দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
ফুকুওকার এই রেস্তোরাঁ তাই শুধু খাবারের জায়গা নয়, বরং প্রবীণদের আত্মসম্মান ও সক্রিয় জীবনের এক নতুন উদাহরণ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!