Dark Mode
Image
  • Friday, 10 April 2026
বিরক্তিই হতে পারে আপনার সফলতার চাবিকাঠি

বিরক্তিই হতে পারে আপনার সফলতার চাবিকাঠি

ডিজিটাল যুগে আমরা যেন এক মুহূর্তও একঘেয়েমি সহ্য করতে পারি না। অবসর পেলেই স্মার্টফোনে ডুবে যাই। তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, এই ‘বিরক্তি’ই হতে পারে সৃজনশীলতা ও মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান।

হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়-এর অধ্যাপক আর্থার সি ব্রুকস এবং গবেষক স্যান্ডি ম্যান মনে করেন, আমরা অযথাই বিরক্তিকে নেতিবাচক ভাবি। বাস্তবে এটি আমাদের চিন্তা-ভাবনার গভীরে যাওয়ার একটি সুযোগ তৈরি করে।

বিরক্তি কেন গুরুত্বপূর্ণ?

গবেষণায় দেখা গেছে, যখন মানুষ কোনো উদ্দীপনা ছাড়াই কিছু সময় কাটায়, তখন মস্তিষ্ক নিজের ভেতরে কাজ শুরু করে। Academy of Management Discoveries-এ প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়, বিরক্তিকর কাজের পর সৃজনশীল কাজ করলে মানুষ বেশি নতুন ও গভীর ধারণা দিতে পারে।

এই সময় মস্তিষ্কের একটি বিশেষ অংশ, ডিফল্ট মোড নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে ওঠে। এটি আমাদের জীবনের লক্ষ্য, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং ব্যক্তিগত সমস্যার সমাধান নিয়ে ভাবতে সাহায্য করে।

স্মার্টফোনের ফাঁদ

বিরক্ত লাগলেই আমরা ফোন হাতে নিই, কারণ এতে ডোপামিন নিঃসরণ হয় এবং তা সাময়িক আনন্দ দেয়। কিন্তু এই অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে মনোযোগ কমিয়ে দেয় এবং সাধারণ কাজ থেকেও আনন্দ পাওয়ার ক্ষমতা হ্রাস করে। এতে উদ্বেগ ও বিষণ্নতার ঝুঁকিও বাড়তে পারে।

কীভাবে ‘বিরক্তি’ চর্চা করবেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিলেই যথেষ্ট। এ সময়টায় আপনি—

  • মোবাইল ছাড়া নিরিবিলি হাঁটতে পারেন
  • গান বা পডকাস্ট ছাড়া ড্রাইভিং করতে পারেন
  • কিছু সময় ‘ডিজিটাল ডিটক্স’ করতে পারেন
  • চুপচাপ বসে নিজের চিন্তাকে প্রবাহিত হতে দিতে পারেন

১৫ মিনিটেই বদলাবে চিন্তা

নিয়মিত এই অভ্যাস গড়ে তুললে—

  • সৃজনশীলতা বাড়ে
  • মনোযোগ শক্তিশালী হয়
  • মানসিক চাপ কমে
  • জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যাকে আমরা এড়িয়ে চলি, সেই বিরক্তিই হতে পারে জীবনের বড় পরিবর্তনের সূত্র। তাই পরেরবার ফাঁকা সময় পেলে ফোনে না গিয়ে কিছুক্ষণ ‘বিরক্ত’ হয়ে থাকুন—হয়তো সেখানেই জন্ম নেবে আপনার পরবর্তী বড় আইডিয়া।

Comment / Reply From