চিপ সংকটে অ্যাপল, বাড়তে পারে আইফোনের দাম
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির বিস্তার এবং বৈশ্বিক সরবরাহ সংকটের কারণে প্রযুক্তিপণ্যের উৎপাদন খরচ দ্রুত বাড়ছে। এর প্রভাব পড়তে যাচ্ছে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান অ্যাপলের পণ্যের ওপরও। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) টিম কুক ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিগগিরই অ্যাপলের বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়ানো হতে পারে।
সম্প্রতি ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে টিম কুক বলেন, মেমোরি চিপের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির চাপ দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের কাঁধে নেওয়ার চেষ্টা করেছে অ্যাপল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই চাপ আর বহন করা সম্ভব হচ্ছে না।
যদিও তিনি মূল্যবৃদ্ধির নির্দিষ্ট সময়সীমা কিংবা কোন কোন পণ্যের দাম বাড়বে সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি, তবে প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী আইফোন ১৮ সিরিজের মূল্যেও এর প্রভাব দেখা যেতে পারে।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণের ফলে মেমোরি চিপের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ সৃষ্টি হয়েছে এবং চিপের দাম উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার এবং অন্যান্য স্মার্ট ডিভাইস তৈরিতে ব্যবহৃত এই চিপ বর্তমানে প্রযুক্তি শিল্পের অন্যতম ব্যয়বহুল উপাদানে পরিণত হচ্ছে।
টিম কুকের ভাষায়, ভোক্তাপণ্য খাতে মেমোরি চিপের দাম ও সরবরাহ পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসা এখন সবচেয়ে জরুরি বিষয়।
বাজার বিশ্লেষকদের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের অক্টোবরের তুলনায় র্যামের দাম ইতোমধ্যে দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। সাধারণত কম্পিউটারের তুলনামূলক কম খরচের উপাদান হিসেবে পরিচিত হলেও বর্তমানে এর মূল্যবৃদ্ধি পুরো প্রযুক্তি খাতকে প্রভাবিত করছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই খাতের চাহিদা বৃদ্ধির পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদনে ব্যবহৃত হিলিয়াম গ্যাসের সরবরাহ সংকটও উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজার গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওমডিয়ার পূর্বাভাস বলছে, ২০২৬ সালে বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোনের গড় বিক্রয়মূল্য প্রায় ২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে, যা হবে এ খাতের ইতিহাসে অন্যতম বড় মূল্যবৃদ্ধি।
ওমডিয়ার স্মার্টফোন বিশ্লেষক চিউ লে জুয়ানের মতে, উন্নত এআই ফিচার সমর্থনের জন্য শক্তিশালী হার্ডওয়্যার ব্যবহারের কারণে নতুন প্রজন্মের আইফোনের দাম আইফোন ১৭ সিরিজের তুলনায় সর্বোচ্চ ১৫০ ডলার পর্যন্ত বেশি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, অধিকাংশ স্মার্টফোন নির্মাতা ইতোমধ্যে দাম বৃদ্ধি, ছাড় কমানো কিংবা কিছু ক্ষেত্রে স্পেসিফিকেশন সমন্বয়ের মাধ্যমে লাভজনকতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে। তার মতে, এটি সাময়িক পরিবর্তন নয়; বরং প্রযুক্তি শিল্পের নতুন বাস্তবতা।
শুধু অ্যাপল নয়, চিপ উৎপাদন শিল্পের অন্যান্য বড় প্রতিষ্ঠানও একই ধরনের চাপের কথা জানিয়েছে। বিশ্বের শীর্ষ সেমিকন্ডাক্টর নির্মাতা টিএসএমসি সম্প্রতি মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয়নি। অন্যদিকে, স্যামসাংও বছরের শুরুতে সতর্ক করেছিল যে মেমোরি চিপের ঘাটতি ইলেকট্রনিক পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এদিকে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চাপে সনি ইতোমধ্যে প্লেস্টেশন ৫-এর দাম বাড়িয়েছে। একই পথে হাঁটছে নিনটেনডোও, যারা বাজার পরিস্থিতির পরিবর্তনের কথা উল্লেখ করে সুইচ ২ কনসোলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে।
তবে মূল্যবৃদ্ধির সম্ভাবনার মধ্যেও অ্যাপলের ব্যবসায়িক অবস্থান শক্তিশালী রয়েছে। আইফোন ১৭ সিরিজ বাজারে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে কোম্পানিটির ডিভাইস বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে চীনের বাজারে শক্তিশালী চাহিদা এই প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, চলতি বছর অ্যাপল তাদের ম্যাক মিনি কম্পিউটারের এন্ট্রি-লেভেল সংস্করণ বাজার থেকে সরিয়ে নেওয়ায় পণ্যটির প্রারম্ভিক মূল্য প্রায় ২০০ ডলার বেড়ে যায়।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!