ট্রেকিংয়ের আগে যেসব প্রস্তুতি নিতেই হবে
পাহাড়, ঝর্ণা আর বন-পাহাড়ের দুর্গম পথে হাঁটার রোমাঞ্চই হলো ট্রেকিংয়ের মূল আকর্ষণ। প্রকৃতির কাছাকাছি গিয়ে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার জন্য অনেক ভ্রমণপিপাসুই বেছে নেন এই অ্যাডভেঞ্চার। তবে ট্রেকিং শুধু আনন্দের নয়, এটি একইসঙ্গে চ্যালেঞ্জিং ও ঝুঁকিপূর্ণও। তাই নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণের জন্য আগে থেকেই সঠিক প্রস্তুতি নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ট্রেকিংয়ের আগে কোন বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে।
কেন প্রয়োজন পূর্ব প্রস্তুতি?
ট্রেকিংয়ের স্থানগুলো সাধারণত দুর্গম ও জনবিচ্ছিন্ন হয়ে থাকে। অনেক সময় সেখানে মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায় না, কাছাকাছি কোনো দোকান বা জরুরি সাহায্যের সুযোগও থাকে না। ফলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ও শারীরিক প্রস্তুতি ছাড়া যাত্রা শুরু করলে বিপদে পড়ার আশঙ্কা থাকে।
সঠিক পরিকল্পনা ও প্রস্তুতি ট্রেকিংকে যেমন সহজ করে, তেমনি দুর্ঘটনার ঝুঁকিও অনেক কমিয়ে দেয়।
ট্রেকিংয়ের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
শারীরিক সক্ষমতা জরুরি
ট্রেকিংয়ের জন্য শরীর ফিট থাকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। পাহাড়ি পথে দীর্ঘ সময় হাঁটা, উঁচু-নিচু রাস্তা পার হওয়া কিংবা ঝর্ণার পিচ্ছিল পথে চলার জন্য প্রয়োজন পর্যাপ্ত স্ট্যামিনা।
ট্রেকিংয়ের অন্তত এক মাস আগে থেকে নিয়মিত হাঁটা, সিঁড়ি ওঠানামা ও হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করুন। বিশেষ করে পায়ের শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম বেশ উপকারী।
যাদের অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট, হৃদরোগ, জয়েন্ট পেইন বা উচ্চতাভীতি রয়েছে, তাদের অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ট্রেকিংয়ে যাওয়া উচিত।
সঠিক ব্যাকপ্যাক নির্বাচন
ট্রেকিংয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী হলো ব্যাকপ্যাক। এমন ব্যাগ বেছে নিন যাতে ওজন শরীরের বিভিন্ন অংশে সমানভাবে ভাগ হয়ে যায়। কোমর ও কাঁধে সাপোর্টযুক্ত ব্যাগ দীর্ঘ পথ হাঁটার সময় আরাম দেয়।
একাধিক চেম্বার থাকলে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে রাখা সহজ হয়। চেষ্টা করুন ব্যাগ যতটা সম্ভব হালকা রাখতে।
আরামদায়ক পোশাক পরুন
ট্রেকিংয়ের পোশাক এমন হওয়া উচিত যা দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং আরামদায়ক হয়। হালকা রঙের সুতি কাপড় গরমে আরাম দেয় এবং কম তাপ শোষণ করে।
ট্রাউজার, ফুল স্লিভ টি-শার্ট, হালকা জ্যাকেট ও স্পোর্টস পোশাক ট্রেকিংয়ের জন্য উপযোগী। সঙ্গে গামছা বা পাতলা তোয়ালে রাখতে পারেন।
ভালো গ্রিপের জুতা ব্যবহার করুন
পাহাড়ি বা পিচ্ছিল পথে চলার জন্য ভালো গ্রিপযুক্ত ট্রেকিং জুতা অত্যন্ত জরুরি। অ্যাঙ্কেল সাপোর্ট থাকলে পিছলে যাওয়ার ঝুঁকি কমে।
পাশাপাশি অতিরিক্ত একটি স্যান্ডেল রাখতে পারেন, যা বিশ্রামের সময় কাজে লাগবে।
শুকনো খাবার সঙ্গে রাখুন
ট্রেকিংয়ের সময় দ্রুত শক্তি দেয় এমন খাবার রাখা জরুরি। চিড়া, মুড়ি, খেজুর, বাদাম, চকলেট, ওটস বার কিংবা কুকিজ রাখতে পারেন।
সঙ্গে পর্যাপ্ত পানি, গ্লুকোজ ও স্যালাইন রাখতে ভুলবেন না। দীর্ঘ ট্রেকিং হলে ছোট স্টোভ বা লাইটারও কাজে আসতে পারে।
ফার্স্ট এইড বক্স অবশ্যই নিন
ছোটখাটো দুর্ঘটনা বা হঠাৎ অসুস্থতার জন্য ফার্স্ট এইড বক্স খুব গুরুত্বপূর্ণ। এতে রাখতে পারেন—
- ব্যান্ডেজ
- অ্যান্টিসেপটিক ক্রিম
- প্রয়োজনীয় ওষুধ
- মশা নিরোধক
- কাঁচি
- টিস্যু ও স্যানিটাইজার
যদি জোঁকের আশঙ্কা থাকে, তাহলে লবণও সঙ্গে রাখুন।
আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
- যেখানেই যান, আগে থেকেই সেই এলাকার আবহাওয়া ও পরিবেশ সম্পর্কে জেনে নিন
- অভিজ্ঞ গাইড থাকলে ভ্রমণ অনেক নিরাপদ হয়
- টর্চ, কম্পাস, ম্যাপ ও পাওয়ার ব্যাংক সঙ্গে রাখুন
- তাঁবুতে থাকার পরিকল্পনা থাকলে স্লিপিং ব্যাগ ও তাঁবু নিতে হবে
- মোবাইল ও ক্যামেরা সুরক্ষায় ওয়াটারপ্রুফ ব্যাগ ব্যবহার করুন
সবশেষে মনে রাখবেন, প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করতে গিয়ে পরিবেশের ক্ষতি করা যাবে না। ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে ফেলুন এবং বন্যপ্রাণীর প্রতি সচেতন থাকুন।
নিরাপদ প্রস্তুতি আর সচেতনতা থাকলে ট্রেকিং হতে পারে জীবনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!