বাতাসের চেয়েও হালকা ‘কঠিন’ পদার্থ! অবাক করা গ্রাফিন অ্যারোজেল
বিজ্ঞান প্রতিনিয়ত এমন সব আবিষ্কার সামনে আনছে, যা আমাদের কল্পনাকেও ছাড়িয়ে যায়। তেমনই এক বিস্ময়কর উদ্ভাবন হলো গ্রাফিন অ্যারোজেল—একটি কঠিন পদার্থ, যা ওজনে বাতাসের চেয়েও হালকা। শুনতে অবিশ্বাস্য লাগলেও এটি বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত এবং ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
গ্রাফিন অ্যারোজেল কী?
গ্রাফিন অ্যারোজেল মূলত কার্বনের এক বিশেষ রূপ, যা গ্রাফিন দিয়ে তৈরি। এটি দেখতে অনেকটা জমাট বাঁধা ধোঁয়া বা মেঘের মতো। এর ভেতরের তরল অংশ সরিয়ে সেখানে বাতাস ভরাট করা হয়। ফলে এটি কঠিন হলেও এর প্রায় ৯৯.৮ শতাংশই আসলে বাতাস—এ কারণেই এটি এত হালকা।
কতটা হালকা এই পদার্থ?
গ্রাফিন অ্যারোজেলের ঘনত্ব এত কম যে এটি বাতাসের থেকেও হালকা। এক ঘনসেন্টিমিটার অ্যারোজেলের ওজন মাত্র ০.১৬ মিলিগ্রাম। সহজভাবে বললে, এটি সাধারণ বাতাসের তুলনায় প্রায় সাত গুণ হালকা। এতটাই হালকা যে, ফুলের পাপড়ির ওপর রাখলেও সেটি নুয়ে পড়ে না।
শুধু হালকা নয়, শক্তিশালীও
এর হালকাভাবই একমাত্র বৈশিষ্ট্য নয়। গ্রাফিন অ্যারোজেলের রয়েছে বেশ কিছু চমকপ্রদ ক্ষমতা—
- উচ্চ শোষণ ক্ষমতা: নিজের ওজনের প্রায় ৯০০ গুণ বেশি তরল বা তেল শোষণ করতে পারে
- দৃঢ় ও নমনীয় গঠন: সংকুচিত হলেও আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে
- তাপ ও বিদ্যুৎ নিয়ন্ত্রণে সক্ষম: একই সঙ্গে পরিবাহী ও ইনসুলেটর হিসেবে কাজ করতে পারে
কোথায় ব্যবহার হচ্ছে?
এই অত্যাধুনিক পদার্থটি ইতোমধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যবহার শুরু হয়েছে। মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা তাদের মিশনে মহাজাগতিক ধূলিকণা সংগ্রহ ও তাপ নিরোধক হিসেবে অ্যারোজেল ব্যবহার করছে। এছাড়া পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণ, উন্নত ব্যাটারি তৈরি এবং পানি পরিশোধন প্রযুক্তিতেও এর সম্ভাবনা ব্যাপক।
আবিষ্কারের পেছনের গল্প
২০১৩ সালে চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা এই গ্রাফিন অ্যারোজেল তৈরি করেন। এর আগে গ্রাফাইট অ্যারোজেল ছিল সবচেয়ে হালকা পদার্থ, কিন্তু নতুন এই উদ্ভাবন সেটিকেও ছাড়িয়ে গেছে।
শেষ কথা
গ্রাফিন অ্যারোজেল শুধু একটি বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার নয়, বরং ভবিষ্যতের প্রযুক্তির সম্ভাবনার নতুন দরজা। এর বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহার আমাদের প্রযুক্তিনির্ভর পৃথিবীকে আরও উন্নত করে তুলতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!