রোজায় গরমে পানিশূন্যতা ঠেকাতে মানুন এই নিয়মগুলো
প্রচণ্ড গরমে রোজা রাখলে গলা ও মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা খুবই সাধারণ। দীর্ঘ সময় পানি পান না করার কারণে শরীরে পানিশূন্যতা দেখা দেয়, ফলে অস্বস্তি, মাথাব্যথা ও দুর্বলতা অনুভূত হতে পারে। তবে কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এ সমস্যা অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
ইফতার থেকে সাহ্রি: পানির সঠিক পরিকল্পনা
ইফতার থেকে সাহ্রি পর্যন্ত সময়টুকুই শরীরকে হাইড্রেট রাখার সুযোগ। এ সময় অন্তত ৮–১০ গ্লাস পানি পান করার চেষ্টা করুন।
তবে একবারে অনেক পানি না খেয়ে বিরতি দিয়ে পান করুন। এতে শরীর পানি ভালোভাবে শোষণ করতে পারে।
অনেকে ইফতারে তৃষ্ণা মেটাতে কার্বোনেটেড ড্রিংকস বা বাইরের অস্বাস্থ্যকর পানীয় পান করেন। এতে সাময়িক প্রশান্তি মিললেও দীর্ঘ সময় শরীর হাইড্রেটেড থাকে না। তাই এসবের বদলে সাধারণ পানি বা প্রাকৃতিক পানীয় বেছে নিন।
খাদ্যতালিকায় রাখুন পানিপূর্ণ খাবার
পানিশূন্যতা রোধে খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ইফতার ও সাহ্রিতে রাখুন—
তরমুজ, বাঙ্গি, শসার মতো পানিপূর্ণ ফল
লেবু–পানি
কচি ডাবের পানি
ডিটক্স ওয়াটার
শাকসবজি
গরমে ঘামের সঙ্গে বের হয়ে যাওয়া পুষ্টি উপাদানের ভারসাম্য বজায় রাখতে এসব পানীয় ও ফল বেশ উপকারী।
বাইরে চলাফেরায় সতর্কতা
রোজা রেখে অযথা রোদে না বের হওয়াই ভালো। জরুরি প্রয়োজনে বের হলে—
ছায়াযুক্ত পথ ব্যবহার করুন
সঙ্গে ছাতা রাখুন
সরাসরি রোদে দীর্ঘ সময় না থাকুন
ভারী ব্যায়াম এড়িয়ে চলুন
রোজা রেখে অতিরিক্ত শারীরিক পরিশ্রম বা ভারী ব্যায়াম করলে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়তে পারে। তাই গরমে হালকা কাজ বা স্বল্পমাত্রার চলাফেরাই ভালো।
ক্যাফেইন ও শুকনো খাবারে সতর্কতা
রমজানে ক্যাফেইন–জাতীয় পানীয় (চা, কফি) কমিয়ে আনা উচিত। এগুলো শরীরের পানি বের করে দেয়।
এ ছাড়া বাইরের ক্র্যাকার, টোস্ট, চিপসের মতো শুকনো খাবারের পরিবর্তে নরম ও আর্দ্র খাবার খাওয়াই ভালো।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
অতিরিক্ত মসলাযুক্ত খাবার
ডুবোতেলে ভাজা খাবার
লাল মাংস বেশি পরিমাণে
অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার
এসব খাবার শরীরকে দ্রুত পানিশূন্য করে তুলতে পারে।
গরমে রোজা রাখতে হলে পরিকল্পিত পানি পান, সঠিক খাবার নির্বাচন এবং সচেতন জীবনযাপনই পারে গলা–মুখ শুকিয়ে যাওয়ার সমস্যা কমাতে সাহায্য করতে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!