Dark Mode
Image
  • Tuesday, 17 March 2026
স্মার্টফোনেই ফ্রিল্যান্সিং: গাইবান্ধার তরুণদের বদলে দিচ্ছেন রিয়াদ 📱💻

স্মার্টফোনেই ফ্রিল্যান্সিং: গাইবান্ধার তরুণদের বদলে দিচ্ছেন রিয়াদ 📱💻

উত্তরের অপেক্ষাকৃত পিছিয়ে পড়া জেলা Gaibandha-তে তরুণ-তরুণীদের মধ্যে ক্রমেই বাড়ছে ফ্রিল্যান্সিংয়ের প্রতি আগ্রহ। শিল্পকারখানা বা পার্টটাইম চাকরির সুযোগ কম থাকলেও প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে অনলাইন আয়ের নতুন পথ খুঁজে নিচ্ছেন অনেকেই। এই পরিবর্তনের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন স্থানীয় তরুণ উদ্যোক্তা মো. রিয়াদ হোসেন, যিনি ‘রুবান হাসান রিয়াদ’ নামেও পরিচিত।

গ্রামের মধ্যবিত্ত কৃষক পরিবার থেকে উঠে আসা রিয়াদ নিজেই সংগ্রাম করে তৈরি করেছেন ভিন্নধর্মী উদ্যোগ—‘মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিং’। তার এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো স্মার্টফোন বা স্বল্প ক্ষমতার ডিভাইস দিয়েই তরুণদের ডিজিটাল দক্ষতা শেখানো এবং অনলাইনে আয়ের সুযোগ তৈরি করা।

সংগ্রাম থেকে শুরু

গাইবান্ধার Palashbari Upazila-র হরিণাথপুর ইউনিয়নের তালুক-জামিরা গ্রামের কৃষক সেলিম বেপারির ছেলে রিয়াদ। পরিবারের আর্থিক সংকটের কারণে পড়াশোনার পাশাপাশি তাকে ঢাকায় একটি গার্মেন্টসে কাজ করতে হয়েছিল।

কিন্তু COVID-19 pandemic চলাকালে চাকরি হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন তিনি। সেই কঠিন সময়েই স্ত্রী সাবিয়া সুলতানা শাকিলার উৎসাহে অনলাইনে কাজ শেখার চেষ্টা শুরু করেন। ইউটিউব SEO ও কনটেন্ট SEO শেখার মাধ্যমে ধীরে ধীরে ফ্রিল্যান্সিং জগতে প্রবেশ করেন তিনি।

‘মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিং’ ধারণা

২০১৯ সালে রিয়াদ উপলব্ধি করেন, গ্রামের অধিকাংশ শিক্ষার্থীর কাছে ল্যাপটপ বা ডেস্কটপ নেই। ফলে তারা প্রযুক্তি শিক্ষা থেকে পিছিয়ে পড়ছে। এই বাস্তবতা থেকেই তিনি চালু করেন ‘মোবাইল ফার্স্ট ফ্রিল্যান্সিং’ উদ্যোগ।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এমন একটি সহজ কারিকুলাম তৈরি করেন, যেখানে শিক্ষার্থীরা শুধু স্মার্টফোন বা স্বল্পমূল্যের ডিভাইস ব্যবহার করেই ডিজিটাল দক্ষতা শিখতে পারে।

এখানে শেখানো হয় বেসিক গ্রাফিক্স ডিজাইন (Canva, PixelLab), ডিজিটাল মার্কেটিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন, কপিরাইটিং, ভিডিও এডিটিং (CapCut, Kinemaster, InShot, VN) এবং অনলাইন মার্কেটপ্লেসে কাজ করার পদ্ধতি।

৭ বছরে হাজারো শিক্ষার্থী

রিয়াদের দাবি, গত সাত বছরে তার এই উদ্যোগে প্রায় ৫ হাজার শিক্ষার্থী খণ্ডকালীনভাবে প্রশিক্ষণ নিয়েছে। এর মধ্যে ৮০০ জনের বেশি এখন নিয়মিত ফ্রিল্যান্সিং করে আয় করছেন।

তার ভাষায়, “আমি দেখেছি দারিদ্র্য নয়—সঠিক দিকনির্দেশনার অভাবই বড় সমস্যা। সঠিক পথ দেখাতে পারলে গ্রামের তরুণরাও বিশ্ববাজারে কাজ করতে পারে।”

সফলতার গল্প

রিয়াদের প্রশিক্ষণ নিয়ে অনেকের জীবন বদলে গেছে। পলাশবাড়ীর সুজন সরকার তার মধ্যে অন্যতম। কম বেতনের চাকরি ছেড়ে তিনি রিয়াদের কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নেন এবং পরে স্ত্রী ইতিমনিকে নিয়ে কনটেন্ট ক্রিয়েশনে কাজ শুরু করেন।

শুরুটা ছিল একটি স্মার্টফোন দিয়ে। বর্তমানে অনলাইন আয়ের মাধ্যমে তারা মোটরবাইক, আইফোন এমনকি জমিও কিনেছেন।

এই ধরনের সফলতার গল্প দেখে এলাকার আরও অনেক তরুণ-তরুণী এখন ফ্রিল্যান্সিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন।

সামাজিক দায়িত্ববোধ

শুধু প্রযুক্তি দক্ষতা শেখানোই নয়, সামাজিক দায়িত্বকেও গুরুত্ব দেন রিয়াদ। নিজের আয়ের একটি অংশ দিয়ে তিনি গাইবান্ধার দরিদ্র, এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।

সরকারি প্রশিক্ষণেও ভূমিকা

২০২৫ সালে জেলা প্রশাসনের আয়োজিত ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে উপজেলা সমন্বয়কারী ও প্রশিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন রিয়াদ। এছাড়া গাইবান্ধা জেলার সাতটি উপজেলায় পরিচালিত বিভিন্ন ফ্রিল্যান্সিং কোর্সেও তিনি প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছেন।

রিয়াদের মতে, “আমি কখনো এটাকে শুধু পেশা হিসেবে দেখিনি। এটি ছিল আমার দায়িত্ববোধ ও আবেগের জায়গা।”

Comment / Reply From

You May Also Like