Dark Mode
Image
  • Thursday, 30 April 2026
মাটির জীবেই লুকানো বৃষ্টির ‘সিক্রেট’ 🌧️

মাটির জীবেই লুকানো বৃষ্টির ‘সিক্রেট’ 🌧️

মেঘ থেকে বৃষ্টি নামার পেছনে যে শুধু জলীয় বাষ্প বা তাপমাত্রার ভূমিকা রয়েছে—এ ধারণা এখন আর পুরোপুরি যথেষ্ট নয়। নতুন গবেষণায় দেখা গেছে, মাটির গভীরে থাকা অতি ক্ষুদ্র কিছু ছত্রাক ও ব্যাকটেরিয়াই বৃষ্টিপাতের প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

আয়ারল্যান্ডের University of Limerick-এর গবেষক Diana R. Andrade-Linares ও তার দল জানিয়েছেন, এসব অণুজীব বায়ুমণ্ডলে পৌঁছে বৃষ্টি তৈরির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করতে পারে।

কীভাবে কাজ করে এই ‘প্রাকৃতিক বীজ’?

সাধারণভাবে পানি শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসে বরফে পরিণত হলেও, মেঘের ভেতরে তা মাইনাস ৪০ ডিগ্রি পর্যন্ত তরল থাকতে পারে। এই সুপারকুলড পানিকে বৃষ্টি বা তুষারে পরিণত করতে প্রয়োজন হয় ক্ষুদ্র ‘আইস নিউক্লিয়েশন’ কণা বা বীজ।

এখানেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় কিছু ব্যাকটেরিয়া, যেমন Pseudomonas syringae। এই ব্যাকটেরিয়ার শরীরে থাকা বিশেষ প্রোটিন খুব কম তাপমাত্রায় পানিকে বরফে পরিণত করতে পারে। বরফকণাগুলো ভারী হয়ে নিচে নামতে থাকলে তা গলে গিয়ে বৃষ্টিতে রূপ নেয়।

ছত্রাকের আরও বিস্ময়কর ক্ষমতা

সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ছত্রাক ব্যাকটেরিয়ার চেয়েও বেশি কার্যকর। বিশেষ করে MortierellaFusarium প্রজাতির ছত্রাক তাদের উৎপাদিত প্রোটিন পরিবেশে ছড়িয়ে দেয়।

এই প্রোটিনগুলো আকারে ছোট ও পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় সহজেই বাতাসে ভেসে মেঘে পৌঁছাতে পারে। এমনকি তুলনামূলক উষ্ণ মেঘেও (মাইনাস ৫ ডিগ্রির ওপরে) এরা বরফ গঠনে সহায়তা করে—যা বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা বাড়ায়।

বিবর্তনের এক চমকপ্রদ কৌশল

গবেষকদের মতে, ছত্রাক এই ক্ষমতা নিজেরা তৈরি করেনি। বরং বহু আগে ব্যাকটেরিয়া থেকে জিনগত বৈশিষ্ট্য গ্রহণ করেছে, যাকে বলা হয় Horizontal Gene Transfer

এই বৈশিষ্ট্য তাদের প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে সাহায্য করে এবং বৃষ্টির মাধ্যমে নতুন স্থানে ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ দেয়।

পরিবেশের জন্য নতুন আশা

এই আবিষ্কার পরিবেশ সংরক্ষণের গুরুত্ব নতুনভাবে তুলে ধরেছে। বনভূমি ধ্বংস হলে শুধু গাছই হারায় না, বরং এই প্রাকৃতিক ‘বৃষ্টির ইঞ্জিন’ও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বর্তমানে কৃত্রিম বৃষ্টির জন্য সিলভার আয়োডাইডের মতো রাসায়নিক ব্যবহার করা হলেও, ছত্রাক-উৎপাদিত প্রোটিন সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক ও পরিবেশবান্ধব বিকল্প হতে পারে। ভবিষ্যতে কৃষি, আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণ এবং পরিবেশ রক্ষায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Comment / Reply From

You May Also Like