হঠাৎ চুল পড়া কেন? লুকিয়ে থাকতে পারে বড় সমস্যা
প্রতিদিন কিছু চুল পড়া স্বাভাবিক। তবে যদি হঠাৎ করে চুল পড়ার পরিমাণ বেড়ে যায়—বালিশে, গোসলের সময় বা চিরুনিতে অতিরিক্ত চুল চোখে পড়ে—তাহলে সেটিকে হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়। অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরে লুকিয়ে থাকা কোনো সমস্যার প্রথম সংকেত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আমাদের চুল একটি স্বাভাবিক চক্রের মধ্য দিয়ে যায়—বৃদ্ধি, স্থিরতা এবং পতন। কিন্তু শরীরে বড় কোনো পরিবর্তন হলে অনেক চুল একসঙ্গে ‘রেস্টিং ফেজ’-এ চলে যায় এবং কিছুদিন পর হঠাৎ ঝরতে শুরু করে। এই অবস্থাকে বলা হয় ‘টেলোজেন ইফলুভিয়াম’।
সবচেয়ে সাধারণ কিন্তু অবহেলিত কারণ
চুল পড়ার অন্যতম প্রধান কারণ হলো আয়রনের ঘাটতি। শরীরে আয়রন কমে গেলে রক্তে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়, ফলে চুলের গোড়ায় পর্যাপ্ত পুষ্টি পৌঁছায় না। এতে চুল দুর্বল হয়ে পড়ে এবং দ্রুত ঝরে যেতে শুরু করে।
আরও যেসব কারণে হঠাৎ চুল পড়তে পারে
- পুষ্টির অভাব: ভিটামিন ডি, বি১২ বা প্রোটিনের ঘাটতি চুল দুর্বল করে।
- ক্র্যাশ ডায়েট: হঠাৎ ওজন কমাতে গিয়ে খাবার কমিয়ে দিলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি পায় না।
- মানসিক চাপ বা অসুস্থতা: দীর্ঘ স্ট্রেস, জ্বর বা অপারেশনের পর চুল পড়া বাড়তে পারে।
- থাইরয়েড সমস্যা: হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হলে চুল পাতলা হয়ে যায়।
- পিসিওএস: নারীদের ক্ষেত্রে হরমোনজনিত সমস্যা চুল পড়ার কারণ হতে পারে।
- ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: কিছু ওষুধ চুল ঝরার প্রবণতা বাড়ায়।
- বড় অসুখের পর: কোভিড-১৯সহ বিভিন্ন সংক্রমণের পর অনেকেই এ সমস্যায় ভোগেন।
সন্তান জন্মের পর চুল পড়া
গর্ভাবস্থায় হরমোনের কারণে চুল ঘন ও সুন্দর দেখায়। কিন্তু সন্তান জন্মের পর হরমোন হঠাৎ কমে যাওয়ায় একসঙ্গে অনেক চুল পড়তে শুরু করে। এটি সাধারণত সাময়িক এবং কয়েক মাসের মধ্যে স্বাভাবিক হয়ে যায়।
শরীর কেন চুলকে গুরুত্ব দেয় না
যখন শরীরে পুষ্টির ঘাটতি দেখা দেয়, তখন শরীর প্রথমে গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ—যেমন মস্তিষ্ক ও হৃদযন্ত্রকে অগ্রাধিকার দেয়। ফলে চুল প্রয়োজনীয় পুষ্টি না পেয়ে ঝরে পড়ে।
কখন সতর্ক হবেন
চুল পড়ার সঙ্গে যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা যায়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি—
- অস্বাভাবিক ক্লান্তি
- দুর্বলতা বা মাথা ঘোরা
- ত্বক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া
- শ্বাসকষ্ট
- নখ ভঙ্গুর হয়ে যাওয়া
- অনিয়মিত পিরিয়ড
যদি তিন মাসের বেশি সময় ধরে চুল পড়া চলতে থাকে বা মাথার ত্বক দেখা যেতে শুরু করে, তাহলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে কারণ জানা উচিত।
করণীয়
নিজে নিজে ওষুধ না নিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা করে আয়রন ও ভিটামিনের মাত্রা জেনে নেওয়া ভালো। পাশাপাশি পুষ্টিকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি।
সবশেষে, হঠাৎ চুল পড়া অনেক সময় ভয়ের কারণ হলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে এটি সাময়িক। সঠিক কারণ শনাক্ত করে সময়মতো ব্যবস্থা নিলে সহজেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!