এআই চালাতে সমুদ্রে ভাসবে ডেটা সেন্টার
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে বিদ্যুতের চাহিদাও। এই বিপুল শক্তি সংকট মোকাবিলায় এবার সমুদ্রে ভাসমান ডেটা সেন্টার তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। মাঝসমুদ্রে তৈরি এই বিশেষ ডেটা সেন্টার ঢেউয়ের শক্তি ব্যবহার করে নিজেই বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।
যুক্তরাষ্ট্রের Panthalassa নামের একটি স্টার্টআপ এমনই এক ব্যতিক্রমধর্মী প্রকল্প নিয়ে কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইতোমধ্যে ১৪ কোটি ডলারের তহবিল সংগ্রহ করেছে। তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভাসমান স্বয়ংক্রিয় ডেটা সেন্টার বসানো হবে, যাতে স্থলভাগের বিদ্যুৎ গ্রিডের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।
গলফ বলের মতো বিশাল কাঠামো
প্যানথালাসার তৈরি ডেটা সেন্টারগুলো দেখতে অনেকটা বিশাল গলফ বলের মতো। প্রায় ৮৫ মিটার উঁচু এই কাঠামো সমুদ্রের ঢেউয়ের সাহায্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে। বলের নিচে থাকা ফাঁপা টিউব দিয়ে পানি প্রবেশ করে ভেতরের টারবাইন ঘোরায়। সেখান থেকেই তৈরি হয় বিদ্যুৎ।
এই শক্তি ব্যবহার করেই চলবে এআই ডেটা প্রসেসিং, জিপিইউ, হার্ডওয়্যার এবং স্যাটেলাইটভিত্তিক যোগাযোগ ব্যবস্থা।
এআইয়ের বিদ্যুৎ চাহিদা বাড়ছেই
International Energy Agency–এর তথ্য অনুযায়ী, ২০৩০ সালের মধ্যে এআই ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ ব্যবহার ৯৪৫ টেরাওয়াট-ঘণ্টায় পৌঁছাতে পারে। যা জাপানের মোট বিদ্যুৎ ব্যবহারের চেয়েও বেশি।
এই বিশাল চাহিদা সামাল দিতেই বিকল্প শক্তির উৎস খুঁজছে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো। কেউ মহাকাশে সৌরশক্তিচালিত ডেটা সেন্টারের কথা ভাবছে, আবার কেউ সমুদ্রকেই বেছে নিচ্ছে।
সমুদ্রের পানিতেই সার্ভার কুলিং
সাধারণ ডেটা সেন্টার ঠান্ডা রাখতে বিপুল পরিমাণ পানির প্রয়োজন হয়। তবে ভাসমান ডেটা সেন্টারে সার্ভারগুলো পানির নিচে বিশেষ মডিউলে রাখা হবে। এতে সমুদ্রের ঠান্ডা পানি স্বাভাবিকভাবেই সার্ভারের অতিরিক্ত তাপ শোষণ করবে।
যদিও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এর ফলে সামুদ্রিক পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়।
বড় চ্যালেঞ্জ রক্ষণাবেক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রযুক্তিটি অভিনব হলেও বাস্তবায়নে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। নোনা পানি, ঝড় ও ঢেউয়ের কারণে যন্ত্রপাতির ক্ষতি হতে পারে। এছাড়া মাঝসমুদ্রে কোনো ত্রুটি দেখা দিলে তাৎক্ষণিকভাবে মেরামত করাও কঠিন হবে।
আরেকটি বড় সীমাবদ্ধতা হলো ইন্টারনেট সংযোগ। প্যানথালাসা ডেটা আদান-প্রদানের জন্য Starlink ব্যবহার করতে চায়। তবে ফাইবার অপটিক কেবলের তুলনায় স্যাটেলাইটভিত্তিক নেটওয়ার্ক তুলনামূলক ধীরগতির।
পরীক্ষামূলক পর্যায়েই প্রযুক্তি
সমুদ্রে ডেটা সেন্টার বসানোর ধারণা একেবারে নতুন নয়। Microsoft আগে পানির নিচে সার্ভার বসিয়ে পরীক্ষা চালিয়েছিল। এছাড়া আরও কয়েকটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ভাসমান বা জাহাজভিত্তিক ডেটা সেন্টার নিয়ে গবেষণা করছে।
তবে এখনো এসব প্রকল্প পরীক্ষামূলক পর্যায়েই রয়েছে। স্থলভাগে বড় ডেটা সেন্টার নির্মাণ তুলনামূলক সহজ ও কম ব্যয়বহুল হওয়ায় সমুদ্রভিত্তিক প্রযুক্তিকে কার্যকর করতে আরও সময় লাগবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!