Dark Mode
Image
  • Tuesday, 30 June 2026
এআই দক্ষতায় পিছিয়ে পড়লে হারাবেন ভবিষ্যতের সুযোগ

এআই দক্ষতায় পিছিয়ে পড়লে হারাবেন ভবিষ্যতের সুযোগ

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিশ্বজুড়ে কর্মক্ষেত্র, ব্যবসা এবং প্রযুক্তিনির্ভর সেবার ধরন দ্রুত বদলে দিচ্ছে। ভবিষ্যতের চাকরির বাজারে টিকে থাকতে এবং নতুন সুযোগ কাজে লাগাতে এআই-সম্পর্কিত দক্ষতা এখন গুরুত্বপূর্ণ যোগ্যতায় পরিণত হয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, এআই ব্যবহারে ও দক্ষতা অর্জনে নারীরা এখনো পুরুষদের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে রয়েছেন।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৈষম্য কমাতে না পারলে ডিজিটাল জেন্ডার ডিভাইড আরও বাড়বে এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণ সীমিত হয়ে পড়বে।

এআই ব্যবহারে পিছিয়ে নারীরা

আন্তর্জাতিক গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, নারীরা পুরুষদের তুলনায় গড়ে ২০ থেকে ২৫ শতাংশ কম হারে এআই টুল ব্যবহার করেন। একই সঙ্গে বিশ্বব্যাপী এআই-সংশ্লিষ্ট পেশাজীবীদের মধ্যে নারীর অংশগ্রহণ মাত্র ২২ থেকে ৩০ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতের প্রযুক্তিনির্ভর কর্মসংস্থানে নারীরা বড় ধরনের প্রতিযোগিতামূলক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

ডিজিটাল অর্থনীতিতে বাড়ছে এআইয়ের গুরুত্ব

বাংলাদেশে ফ্রিল্যান্সিং, ই-কমার্স এবং ডিজিটাল উদ্যোক্তা খাত নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে এসব খাত দ্রুত এআই-নির্ভর হয়ে পড়ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণায় দেখা গেছে, এআই ব্যবহারের মাধ্যমে কর্মীদের উৎপাদনশীলতা গড়ে প্রায় ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে। কিছু ক্ষেত্রে এই হার ৪০ শতাংশ পর্যন্ত উন্নীত হওয়ার তথ্যও পাওয়া গেছে। ফলে এআই দক্ষতা অর্জন করলে নারীরা উচ্চমূল্যের কাজ পাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক ডিজিটাল বাজারেও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান তৈরি করতে পারবেন।

পক্ষপাতমুক্ত এআই তৈরিতেও প্রয়োজন নারীর অংশগ্রহণ

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ নয়। এটি যেসব তথ্য দিয়ে প্রশিক্ষিত হয় এবং যাঁরা এটি তৈরি করেন, তাদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলনও এতে দেখা যায়।

এ কারণে এআই উন্নয়নে নারীর অংশগ্রহণ কম হলে নিয়োগ, স্বাস্থ্যসেবা, ঋণ প্রদান কিংবা কনটেন্ট তৈরির মতো ক্ষেত্রে লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণায় কিছু এআই মডেলে নারীদের কম প্রতিনিধিত্ব এবং প্রচলিত লিঙ্গধারণার প্রতিফলন পাওয়া গেছে।

নারী উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সম্ভাবনা

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এই সময়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি নারী উদ্যোক্তাদের জন্যও এআই নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।

এআই ব্যবহার করে গ্রাহকের চাহিদা বিশ্লেষণ, স্বয়ংক্রিয় কাস্টমার সাপোর্ট, বিক্রয়ের পূর্বাভাস এবং ব্যক্তিকেন্দ্রিক বিপণন কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ম্যাককিন্সির তথ্য অনুযায়ী, জেনারেটিভ এআই কার্যকরভাবে ব্যবহার করলে বিপণন ও বিক্রয়ে ৫ থেকে ১৫ শতাংশ পর্যন্ত রাজস্ব বৃদ্ধি এবং ১০ থেকে ২০ শতাংশ পর্যন্ত ব্যয় কমানো সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এআই দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে নারী উদ্যোক্তারা স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ডিজিটাল বাজারেও নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করতে পারবেন।

কী করা প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে শিক্ষাব্যবস্থার শুরু থেকেই ডিজিটাল সাক্ষরতা, কোডিং, ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং এআই-ভিত্তিক শিক্ষা অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি।

এর পাশাপাশি মেয়েদের জন্য হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ, প্রযুক্তিখাতে নারী রোল মডেল তৈরি এবং স্টেম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, প্রকৌশল ও গণিত) শিক্ষায় অংশগ্রহণ বাড়াতে বিশেষ উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

প্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতের কর্মবাজারে নারীদের শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে এআই দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

Comment / Reply From

You May Also Like