এসি চালালেই কেন শুকিয়ে যায় ত্বক? জানুন সহজ সমাধান
গরম থেকে স্বস্তি পেতে দিনের বড় একটা সময় আমরা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে কাটাই। অফিস, গাড়ি কিংবা বাসা—সব জায়গাতেই এখন এসির ব্যবহার স্বাভাবিক। কিন্তু দীর্ঘ সময় এসির ঠান্ডা বাতাসে থাকার কারণে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যেতে পারে। এর ফলে ত্বক হয়ে উঠতে পারে শুষ্ক, খসখসে ও সংবেদনশীল।
অনেকেই ত্বকের এমন পরিবর্তনকে আবহাওয়া, প্রসাধনী কিংবা পর্যাপ্ত পানি না খাওয়ার সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে দীর্ঘক্ষণ শুষ্ক পরিবেশে থাকার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখা জরুরি।
এসিতে থাকলে ত্বক শুষ্ক হয় কেন?
ত্বকের ওপর একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষাকবচ থাকে। ত্বকের কোষ, প্রাকৃতিক তেল ও আর্দ্রতাকারী উপাদানের সমন্বয়ে তৈরি এই স্তর ত্বকের ভেতরের পানি ধরে রাখতে এবং বাইরের পরিবেশের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে।
এসি চলার সময় ঘরের বাতাসের আর্দ্রতা কমে যায়। ফলে দীর্ঘক্ষণ এমন পরিবেশে থাকলে ত্বক থেকে পানি দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানে এই প্রক্রিয়াকে ট্রান্সএপিডার্মাল ওয়াটার লস বলা হয়। এর প্রভাবে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখার ক্ষমতা কমে গিয়ে শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
তৈলাক্ত ত্বকেও হতে পারে পানিশূন্যতা
ত্বকের শুষ্কতা আর পানিশূন্যতা এক বিষয় নয়। সাধারণত ত্বকে প্রাকৃতিক তেল কম থাকলে তাকে শুষ্ক ত্বক বলা হয়। অন্যদিকে ত্বকে পানির পরিমাণ কমে গেলে সেটি পানিশূন্যতার লক্ষণ হতে পারে।
এ কারণে তৈলাক্ত ত্বকের মানুষও এসির শুষ্ক বাতাসে পানিশূন্য ত্বকের সমস্যায় পড়তে পারেন। বাইরে থেকে মুখ তৈলাক্ত মনে হলেও ভেতরে ত্বক টানটান, রুক্ষ কিংবা প্রাণহীন লাগতে পারে।
কারা বেশি ঝুঁকিতে?
যারা দিনের বেশির ভাগ সময় এসি অফিসে কাজ করেন, এসি গাড়িতে যাতায়াত করেন এবং রাতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে ঘুমান, তাদের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময় শুষ্ক বাতাসের সংস্পর্শে থাকার সম্ভাবনা বেশি।
এ ছাড়া যাদের ত্বক আগে থেকেই সংবেদনশীল বা একজিমাপ্রবণ, তাদেরও বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন। ব্রণ বা অন্যান্য ত্বকের সমস্যার জন্য কিছু শক্তিশালী ওষুধ বা প্রসাধনী ব্যবহার করলেও ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক ও সংবেদনশীল হয়ে পড়তে পারে।
যেসব লক্ষণে সতর্ক হবেন
এসির কারণে ত্বকের আর্দ্রতা কমে গেলে কয়েকটি সাধারণ লক্ষণ দেখা দিতে পারে। যেমন—
- মুখ ধোয়ার পর ত্বক অতিরিক্ত টানটান লাগা
- ত্বক খসখসে বা রুক্ষ হয়ে যাওয়া
- ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা কমে যাওয়া
- প্রসাধনী ব্যবহারের পর জ্বালা বা অস্বস্তি হওয়া
- ঠোঁট বারবার শুকিয়ে যাওয়া বা ফেটে যাওয়া
- ত্বক আগের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়া
তবে এসব লক্ষণ শুধু এসির কারণে হচ্ছে—এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়। অন্য কারণেও ত্বকের শুষ্কতা দেখা দিতে পারে।
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখবেন যেভাবে
এসি পুরোপুরি বাদ দেওয়া বাস্তবে সম্ভব নয়। তাই ত্বকের যত্নে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা যেতে পারে।
ত্বক পরিষ্কারের জন্য অতিরিক্ত শক্তিশালী সাবান বা ক্লিনজারের পরিবর্তে কোমল ক্লিনজার ব্যবহার করা ভালো। মুখ ধোয়ার পর ত্বক পুরোপুরি শুকিয়ে যাওয়ার আগেই ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে আর্দ্রতা ধরে রাখতে সহায়তা করতে পারে।
ঠোঁটের ত্বক তুলনামূলক পাতলা হওয়ায় নিয়মিত লিপ বাম ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি।
এসি ঘরে থাকলেও দিনের বেলায় জানালা দিয়ে আসা আলো ও অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ থেকে ত্বক রক্ষায় প্রয়োজন অনুযায়ী সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
এসি নয়, সচেতনতাই সমাধান
আধুনিক জীবনে এসির ব্যবহার এড়িয়ে চলা কঠিন। তবে দীর্ঘ সময় শুষ্ক পরিবেশে থাকার পাশাপাশি ত্বকের যত্নে অবহেলা করলে শুষ্কতা ও অস্বস্তি বাড়তে পারে। তাই ত্বকের ধরন অনুযায়ী নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার, কোমল ক্লিনজার বেছে নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় সানস্ক্রিন ব্যবহারের মাধ্যমে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা ধরে রাখার চেষ্টা করা যেতে পারে।
ত্বকে দীর্ঘস্থায়ী শুষ্কতা, লালচে ভাব, চুলকানি বা জ্বালাপোড়া থাকলে নিজে থেকে নানা প্রসাধনী ব্যবহার না করে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়াই নিরাপদ।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!