Dark Mode
Image
  • Wednesday, 30 September 2026
টাইবারে ভেসে রোম দেখছেন পর্যটকেরা

টাইবারে ভেসে রোম দেখছেন পর্যটকেরা

ইতালির রোমে গ্রীষ্মের তীব্র গরমে প্রাচীন স্থাপনা দেখতে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়ানো কিংবা ব্যস্ত রাস্তায় হাঁটার বদলে এবার নদীর জলে স্বস্তি খুঁজছেন পর্যটকেরা। শহরের প্রাণপ্রবাহ টাইবার নদীতে র‌্যাফটিং করে রোম দেখার নতুন অভিজ্ঞতা তাই আকর্ষণ করছে অনেক ভ্রমণপিপাসুকে।

শহরের পরিচিত পর্যটনপথের বাইরে এই আয়োজনের মাধ্যমে রোমকে দেখা যায় সম্পূর্ণ ভিন্ন এক দৃষ্টিকোণ থেকে। নদীর ওপর ভেসে যাওয়ার সময় একদিকে যেমন গরম থেকে কিছুটা স্বস্তি মেলে, অন্যদিকে চোখে পড়ে শহরের বিখ্যাত সব ঐতিহাসিক স্থাপনা।

নদীপথে দেখা যায় বিখ্যাত স্থাপনা

ঐতিহাসিক পিয়াজা দেল পোপোলোর কাছে টাইবার নদীর তীর থেকে শুরু হয় ‘রোমান র‌্যাফটিং’ ভ্রমণ। ফোলানো র‌্যাফটে চড়ে পর্যটকেরা নদীর স্রোত ধরে এগিয়ে যান।

পথে রোমের বহুল পরিচিত কয়েকটি স্থাপনা চোখে পড়ে। এর মধ্যে রয়েছে সম্রাট হ্যাড্রিয়ানের সমাধিস্থল কাস্তেল সান্ত’আঞ্জেলো। নদীপথ থেকে দূরে দেখা যায় সেন্ট পিটার্স ব্যাসিলিকার গম্বুজও।

প্রায় দুই ঘণ্টার এই ভ্রমণের শেষ হয় ট্রাস্তেভেরে এলাকায় অবস্থিত প্রাচীন রোমান বন্দরের কাছে। ‘ট্রাস্তেভেরে’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থই হলো ‘টাইবারের ওপারে’।

রোমকে দেখার অন্যরকম অভিজ্ঞতা

সম্প্রতি এই র‌্যাফটিং ভ্রমণে অংশ নেওয়া জার্মানির ১৯ বছর বয়সী পর্যটক ম্যানুয়েল ফ্রাঙ্কের কাছে অভিজ্ঞতাটি ছিল ব্যতিক্রমী। তাঁর মতে, হাঁটাহাঁটির মাধ্যমে যেভাবে রোমকে দেখা যায়, নদীপথে শহর দেখার অভিজ্ঞতা তার চেয়ে আলাদা।

গাইড জিউসেপ্পে বাত্তালিয়া জানান, এই ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি খরচ ৪০ ইউরো। তাঁর মতে, নদীপথে রোমকে দেখার সুযোগ পর্যটকদের শহরটির ইতিহাস ও স্থাপনাগুলোকে নতুনভাবে উপভোগ করার সুযোগ করে দেয়।

একসময় ছিল গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ

টাইবার নদীর সঙ্গে রোমের সম্পর্ক বহু পুরোনো। প্রাচীন রোমে এবং পরবর্তী কয়েক শতাব্দী ধরে নদীটি শহরের মানুষের পানি ও খাদ্য সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ উৎস ছিল। একই সঙ্গে এটি ছিল বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ।

৩৭ বছর বয়সী বাত্তালিয়ার ভাষায়, আধুনিক রোমকে মানুষ সাধারণত সড়ক, গাড়ি ও মোটরসাইকেলের মাধ্যমে কল্পনা করলেও শহরটি নদীপথেও ঘুরে দেখার সুযোগ রয়েছে।

গরমের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি

র‌্যাফটিংয়ের একপর্যায়ে টাইবার দ্বীপের কাছাকাছি পৌঁছালে নদীর স্রোত কিছুটা বেড়ে যায়। তৈরি হয় হালকা ঢেউ। রোমের প্রাচীন পাথরের সেতুগুলোর নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় নদীর পানি ছিটকে পড়ে পর্যটকদের গায়ে। প্রচণ্ড গরমের মধ্যে এই পানির ছিটাও হয়ে ওঠে ভ্রমণের আনন্দের অংশ।

পরিবার নিয়ে বেলজিয়াম থেকে রোমে আসা ৫০ বছর বয়সী সাবিনে মাইসানোও এই অভিজ্ঞতাকে স্বস্তিদায়ক বলে মনে করেন। সারাদিন কয়েক কিলোমিটার হেঁটে শহর ঘোরার পর নদীতে বসে বিশ্রাম নেওয়া, কিছুটা ঠান্ডা থাকা এবং ধীরগতিতে রোমের দৃশ্য উপভোগ করার সুযোগটিই তাঁর কাছে আকর্ষণীয়। যদিও ভ্রমণের কিছু অংশে পর্যটকদের নিজেদেরও বৈঠা চালাতে হয়।

Comment / Reply From