Dark Mode
Image
  • Friday, 15 May 2026
টিউশনির টাকা থেকে ৭ লাখ টাকার ফলবাগান

টিউশনির টাকা থেকে ৭ লাখ টাকার ফলবাগান

করোনাকালে যখন অনেক তরুণ চাকরি ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তায় ছিলেন, তখন বরিশালের তরুণ সৈকত রায়হান সাকিন বেছে নেন এক ভিন্ন পথ। টিউশনি করে জমানো অল্প কিছু টাকা আর ফলচাষের প্রতি ভালোবাসা নিয়েই বাড়ির পাশে গড়ে তুলেছিলেন ছোট্ট একটি ফলবাগান। সেই ছোট উদ্যোগই এখন পরিণত হয়েছে বড় পরিসরের নার্সারি ও মিশ্র ফলবাগানে। বর্তমানে এই বাগান থেকেই বছরে প্রায় ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করছেন তিনি।

বরিশাল সদর উপজেলার কাশিপুর ইউনিয়নের তিলক গ্রামের বাসিন্দা সাকিনের এই উদ্যোগ এখন এলাকায় বেশ প্রশংসিত। পড়াশোনার পাশাপাশি শুরু হওয়া তার এই পথচলা আজ অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার গল্প হয়ে উঠেছে।

মায়ের অনুপ্রেরণাতেই শুরু

ছোটবেলায় বাবাকে হারানোর পর পরিবারের দায়িত্ব এসে পড়ে তার মায়ের ওপর। কঠিন সেই সময়ে মায়ের সাহস ও সহযোগিতাই সাকিনকে স্বপ্ন দেখাতে সাহায্য করে। উদ্যোক্তা হিসেবে নিজের যাত্রায় শুরু থেকেই পাশে ছিলেন তার মা ও ছোট ভাই সিহাব হাসান সান্নিন।

সাকিন ২০২৩ সালে বিএম কলেজ থেকে মার্কেটিং বিষয়ে এমবিএ সম্পন্ন করেন। এরপর চাকরির পেছনে না ছুটে নিজ বাড়ির এক একর জমিতে গড়ে তোলেন নার্সারি ও ফলবাগান।

বাগানে ৮০টির বেশি আমের জাত

সাকিনের বাগানে ঢুকলেই চোখে পড়ে নানা জাতের আমগাছের সমাহার। দেশি-বিদেশি মিলিয়ে রয়েছে ৮০টিরও বেশি আমের জাত। বিভিন্ন রং, আকার ও স্বাদের এই আমগুলো বাগানটিকে দিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।

বিদেশি ও উচ্চমূল্যের আমের মধ্যে রয়েছে বানানা ম্যাঙ্গো, চাকাপাত, সূর্যডিম, অস্টিন, বারি-৪, ভ্যালেন্সিয়া প্রাইড, আমেরিকান পালমার, অ্যাম্বিশ, পুসা সুরিয়া ও অরুণিমা।

এছাড়া দেশীয় জনপ্রিয় জাতের মধ্যে আছে হিমসাগর, ল্যাংড়া, ফজলি, আম্রপালি, গোপালভোগ, খিরসাপাত, আশ্বিনা, মল্লিকা, কাটিমন, হারিভাঙ্গা, রানিপছন্দ, কোহিতুর ও বোম্বাইসহ আরও নানা জাতের আম।

শুধু আম নয়, রয়েছে বিদেশি ফলও

শুধু আমেই সীমাবদ্ধ নয় সাকিনের বাগান। সেখানে রয়েছে আঠাবিহীন কাঁঠাল, লাল জামরুল, মাল্টা, রাম্বুটান, অ্যাভোকাডো, আঙুর, আনার, কমলা ও আপেলসহ প্রায় ৭০ প্রজাতির বিদেশি ফলের চারা।

বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রয়েছে মাত্র তিন ফুট উচ্চতার গাছে ফল ধরা আঠাবিহীন কাঁঠাল, যা দর্শনার্থীদের দৃষ্টি কাড়ে সহজেই।

অন্যদেরও উদ্বুদ্ধ করছেন

নিজের সফলতার পাশাপাশি অন্যদেরও ফলচাষে উৎসাহিত করছেন সাকিন। তার পরামর্শে বরিশালের বিভিন্ন এলাকায় ইতোমধ্যে ১০টির বেশি ফলবাগান গড়ে উঠেছে। অনেকে তার কাছ থেকে চারা সংগ্রহ করে ছাদবাগানও তৈরি করেছেন।

সাকিন বলেন, “করোনার সময়ে শখের বসে ছোট একটি বাগান শুরু করেছিলাম। ধীরে ধীরে সেটিকে বড় করেছি। পরিকল্পিতভাবে ফলচাষ করলে বছরে সহজেই ৫ থেকে ৭ লাখ টাকা আয় করা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, “বরিশালের মাটিতে বিদেশি ফলের চাষ সম্ভব—এটাই প্রমাণ করতে চাই। সঠিক পরিকল্পনা, ভালো চারা ও নিয়মিত পরিচর্যা থাকলে তরুণরা চাকরির পেছনে না ছুটেও সফল উদ্যোক্তা হতে পারে।”

কৃষি বিভাগের সহায়তার আশ্বাস

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, সাকিনের বাগান ইতোমধ্যে তাদের নজরে এসেছে। প্রয়োজন হলে কারিগরি সহায়তা ও পরামর্শ দেওয়া হবে।

বরিশাল জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, এ ধরনের তরুণ উদ্যোক্তারা দেশের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছেন।

Comment / Reply From