পাটকাঠিতে নতুন সম্ভাবনা: রপ্তানিতে চমক দেখাচ্ছে বাংলাদেশ
বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরে পাটকাঠি মূলত জ্বালানি বা বেড়া তৈরির কাজে ব্যবহার হয়ে এসেছে। তবে সময় বদলেছে—এখন এই পাটকাঠিই হয়ে উঠেছে বৈশ্বিক বাজারে চাহিদাসম্পন্ন এক গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় অবহেলিত এই উপাদান থেকেই তৈরি হচ্ছে উচ্চমূল্যের শিল্পপণ্য।
দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে ফরিদপুর, মাগুরা ও মাদারীপুরে স্থাপিত ২৫টিরও বেশি কারখানায় বিশেষ প্রক্রিয়ায় পাটকাঠি পুড়িয়ে তৈরি করা হচ্ছে ‘অ্যাক্টিভেটেড চারকোল’ বা কার্বন পাউডার। প্রায় ৪৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে এই উৎপাদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
এই কার্বন পাউডারের ব্যবহার বিস্তৃত। ইলেকট্রনিক্স খাতে মোবাইল ও ল্যাপটপের ব্যাটারি তৈরিতে এটি ব্যবহৃত হচ্ছে। এছাড়া প্রসাধনী ও চিকিৎসা খাতেও এর চাহিদা ব্যাপক—ফেসওয়াশ, ওষুধ এবং পানি বিশুদ্ধকরণ ফিল্টারে এটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এমনকি ফটোকপিয়ার মেশিনের কালি ও কার্বন পেপার তৈরিতেও এর ব্যবহার রয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে উৎপাদিত এই পণ্য এখন চীন, জাপান, তাইওয়ান ও বেলজিয়ামের মতো দেশে রপ্তানি হচ্ছে। এর মাধ্যমে বছরে প্রায় ১৬০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে দেশ।
এই উদ্যোগ শুধু রপ্তানি আয় বাড়াচ্ছে না, বরং কৃষকদের জন্যও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিচ্ছে। আগে যেটি প্রায় অব্যবহৃত থাকত, সেই পাটকাঠিই এখন ন্যায্য দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সফল ‘গ্রিন ইকোনমি’ মডেল—যেখানে বর্জ্য থেকে সম্পদ তৈরি করে পরিবেশ ও অর্থনীতি—দুটোকেই সমৃদ্ধ করা সম্ভব হচ্ছে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!