পাহাড়ে কফি চাষে বদলাচ্ছে অর্থনীতির চিত্র
চায়ের পর বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় পানীয়গুলোর একটি হলো কফি। কফি ফলের পরিপক্ব বীজ ভেজে ও গুঁড়া করে তৈরি হয় এই পানীয়। এতদিন বাংলাদেশে কফির চাহিদা মেটাতে বিদেশের ওপর নির্ভর করতে হলেও এখন সেই চিত্র ধীরে ধীরে বদলাচ্ছে। দেশের পার্বত্য অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কফি চাষের বিস্তার নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে।
বর্তমানে Bandarban, Rangamati ও Khagrachari অঞ্চলে কফি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষ করে বান্দরবানে অনেক কৃষক জুমচাষ ছেড়ে অর্থকরী ফসল হিসেবে কফি চাষে ঝুঁকছেন। ভালো দাম এবং দীর্ঘমেয়াদি লাভের কারণে দিন দিন বাড়ছে আগ্রহ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড়ি এলাকার আবহাওয়া, মাটির গঠন ও আর্দ্রতা কফি চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী। কফিগাছের জন্য প্রয়োজন রোদ ও ছায়ার মিশ্র পরিবেশ, যা পাহাড়ি ফলদ বাগানগুলোতে সহজেই পাওয়া যায়। বিশেষ করে পুরোনো আমবাগানের নিচে কফি চাষ বেশ সফল হচ্ছে।
Bangladesh Agricultural Research Institute–এর পাহাড়ি কৃষি গবেষণা কেন্দ্র পরীক্ষামূলকভাবে আন্তর্জাতিক মানের কফি উৎপাদনে সফল হয়েছে। পাশাপাশি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তায় বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠছে কফির প্রদর্শনী ও বাণিজ্যিক বাগান।
কফির চারা সাধারণত বর্ষা মৌসুমে রোপণ করা হয়। গাছ লাগানোর দুই বছর পর ফলন শুরু হয় এবং তৃতীয় বছর থেকে পূর্ণমাত্রায় ফল পাওয়া যায়। একটি গাছ বছরে গড়ে ৫ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত কফি ফল দেয়। সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো, একবার ফলন শুরু হলে ৪০ থেকে ৫০ বছর পর্যন্ত নিয়মিত কফি পাওয়া যায়। একটি কফিগাছ বেঁচে থাকতে পারে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ বছর।
বাংলাদেশে বর্তমানে মূলত দুই ধরনের কফি চাষ হচ্ছে—রোবাস্টা ও অ্যারাবিকা। উৎপাদিত কফি দেশের বিভিন্ন কফিশপ সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছে। এতে কৃষকেরাও ভালো দাম পাচ্ছেন।
বান্দরবান কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, জেলায় বর্তমানে শত শত প্রযুক্তি ও বাণিজ্যিক কফি বাগান রয়েছে। গত কয়েক বছরে এসব বাগান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ‘র’ কফি উৎপাদন ও বিক্রি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশে কফির চাহিদা উৎপাদনের তুলনায় অনেক বেশি। তাই এখনো ব্রাজিল, ইথিওপিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে কফি আমদানি করতে হয়। তবে সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকতা বাড়ানো গেলে দেশের পাহাড়ি অঞ্চলে কফি চাষ আরও সম্প্রসারিত হতে পারে।
এতে যেমন আমদানিনির্ভরতা কমবে, তেমনি তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থান। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশি কফি রপ্তানির সুযোগও বাড়বে, যা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!