সিরাজগঞ্জে চিয়া সিড চাষে নতুন স্বপ্ন কৃষকদের
পুষ্টিগুণে ভরপুর ‘সুপার ফুড’ হিসেবে পরিচিত চিয়া সিড এখন ধীরে ধীরে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশের কৃষকদের কাছেও। সবজি চাষের জন্য পরিচিত Sirajganj জেলায় এবার পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া চিয়া সিড চাষে মিলেছে সফলতার ইঙ্গিত। কম খরচে বেশি লাভের সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের আগ্রহও বাড়ছে দিন দিন।
জেলার Ullapara উপজেলার কয়ড়া সরাতলা গ্রামের কৃষক গোলাম হোসেন ২০২১ সালে শখের বসে ২৫ শতক জমিতে প্রথম চিয়া সিড চাষ শুরু করেন। প্রথম বছরেই তিনি প্রায় ১৩৫ কেজি বীজ উৎপাদন করে আশাব্যঞ্জক ফল পান। এরপর উন্নত ফলনের জন্য বিদেশ থেকে মেক্সিকান হাইব্রিড চিয়া সিড আমদানি করেন এবং বিভিন্ন জেলার কৃষকদের মাধ্যমে প্রায় ১৭০ বিঘা জমিতে চাষাবাদ সম্প্রসারণ করেন।
উল্লাপাড়া কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার কয়ড়া সরতলা, রতদিয়ার ও হরিশপুর এলাকায় বর্তমানে ব্যাপকভাবে চিয়া সিড চাষ হচ্ছে। মাঠজুড়ে এখন ফুল ও ফলে ভরা চিয়া গাছ বাতাসে দুলছে। কৃষকদের মতে, এলাকার মাটি ও আবহাওয়া এই ফসলের জন্য বেশ উপযোগী।
কৃষক গোলাম হোসেন জানান, চিয়া সিডে রয়েছে দুধের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি ক্যালসিয়াম, কমলালেবুর তুলনায় বেশি ভিটামিন সি এবং প্রচুর ওমেগা-৩। এ কারণে বিশ্বজুড়ে এটি ‘সুপার ফুড’ হিসেবে পরিচিত। নিয়মিত চিয়া বীজ খেলে শরীরের কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণ, হৃদ্রোগ প্রতিরোধ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা মেলে বলে জানান তিনি।
চাষি হেলাল উদ্দিন বলেন, চিয়া সিড চাষে রোগবালাই খুব কম হওয়ায় কীটনাশক ব্যবহার করতে হয় না। বিঘাপ্রতি প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয় এবং ১০০ থেকে ১২০ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া সম্ভব। মাত্র ৯০ থেকে ১২০ দিনের মধ্যেই ফসল ঘরে তোলা যায়।
আরেক কৃষক ঠান্ডু মিয়া জানান, প্রথমে বাজারজাতকরণ নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলেও এখন জমি থেকেই ক্রেতারা চিয়া সিড কিনে নিচ্ছেন। বর্তমানে বাজারে প্রতি কেজি চিয়া সিড ১,৩০০ থেকে ২,০০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ বলছে, চিয়া সিড মূলত আমেরিকা ও মেক্সিকো অঞ্চলে বেশি উৎপাদিত হয়। এতে রয়েছে ওমেগা-৩, ফাইবার, প্রোটিন, ম্যাগনেসিয়াম, আয়রনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদান। স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের কাছে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।
উল্লাপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুর্বনা ইয়াসমিন সুমি জানান, বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ১০ হেক্টর জমিতে চিয়া সিড চাষ হয়েছে। কৃষি বিভাগ নিয়মিত মনিটরিং ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকায় এবার ভালো ফলনের আশা করছেন তিনি।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা মনে করছেন, সম্ভাবনাময় এই ফসলের চাষ দেশজুড়ে ছড়িয়ে দিতে পারলে বিদেশ থেকে আমদানি নির্ভরতা কমবে। পাশাপাশি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের নতুন সুযোগও তৈরি হবে।
Description:
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!