Dark Mode
Image
  • Thursday, 29 October 2026
বিপদের আগে ফোনে চালু রাখুন ৮টি ফিচার!

বিপদের আগে ফোনে চালু রাখুন ৮টি ফিচার!

 

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তা পাওয়ারও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। দুর্ঘটনা, প্রাকৃতিক দুর্যোগ কিংবা একা চলার পথে বিপদে পড়লে ফোনের কয়েকটি বিশেষ ফিচার কাজে আসতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ও আইফোন—দুই ধরনের স্মার্টফোনেই রয়েছে জরুরি যোগাযোগ, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ এবং দুর্ঘটনা শনাক্ত করার মতো সুবিধা।

তবে অনেকেই এসব ফিচার সম্পর্কে জানেন না, কিংবা প্রয়োজনের সময় কীভাবে চালু করতে হয়, তা জানা থাকে না। তাই বিপদে পড়ার আগেই ফোনের নিরাপত্তা সেটিংসগুলো দেখে রাখা জরুরি। মনে রাখতে হবে, সব সুবিধা প্রতিটি ফোনে বা সব দেশে পাওয়া যায় না। ফোনের মডেল, সফটওয়্যার, মোবাইল অপারেটর ও দেশের ওপর নির্ভর করে ফিচারের প্রাপ্যতা বদলাতে পারে।

অ্যান্ড্রয়েড ফোনের জরুরি নিরাপত্তা ফিচার

১. লক স্ক্রিনে চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য রাখুন

দুর্ঘটনায় কেউ অচেতন হয়ে পড়লে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানা চিকিৎসাকর্মীদের জন্য সহায়ক হতে পারে। অ্যান্ড্রয়েড ফোনে সমর্থিত মডেলগুলোতে রক্তের গ্রুপ, অ্যালার্জি, নিয়মিত সেবন করা ওষুধ এবং জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণের সুবিধা রয়েছে।

এটি চালু করতে ফোনের Settings থেকে Safety & emergency অপশনে যান। সেখানে Medical information ও Emergency contacts খুঁজে প্রয়োজনীয় তথ্য যোগ করুন। ফোনভেদে অপশনের নাম বা অবস্থান কিছুটা আলাদা হতে পারে।

সুবিধাটি ঠিকভাবে সেট করা থাকলে জরুরি অবস্থায় ফোন আনলক না করেও নির্ধারিত তথ্য দেখা সম্ভব হতে পারে। তবে নিজের রক্তের গ্রুপ বা চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত না হয়ে অনুমানের ভিত্তিতে লিখবেন না।

২. গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্ত করার সুবিধা

কিছু অ্যান্ড্রয়েড ফোন, বিশেষ করে সমর্থিত গুগল পিক্সেল মডেলে, গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্ত করার ফিচার রয়েছে। ফোনের সেন্সর সম্ভাব্য গুরুতর দুর্ঘটনা শনাক্ত করলে ব্যবহারকারীর কাছে জানতে চাওয়া হয়, তিনি ঠিক আছেন কি না।

নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে ব্যবহারকারী সাড়া না দিলে ফোনটি সমর্থিত অঞ্চলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবায় যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারে এবং অবস্থানের তথ্য পাঠাতে পারে।

তবে এই ফিচার সব অ্যান্ড্রয়েড ফোনে নেই। সব ধরনের দুর্ঘটনাও এটি শনাক্ত করতে পারে না। তাই সমর্থিত ফোন থাকলেও ফিচারটি চালু আছে কি না এবং আপনার দেশে এটি কাজ করে কি না, তা আগে যাচাই করা জরুরি।

৩. দুর্যোগ ও ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা

ভূমিকম্প, ঝড় কিংবা অন্য কোনো জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সতর্কবার্তা পাওয়া গুরুত্বপূর্ণ। সমর্থিত অ্যান্ড্রয়েড ফোনে Crisis alerts, Wireless emergency alerts ও Earthquake alerts-এর মতো সুবিধা থাকতে পারে।

সেটিংসের Safety & emergency বিভাগে গিয়ে এসব ফিচার খুঁজে দেখতে পারেন। কিছু ফোনে ভূমিকম্পের সতর্কবার্তা Location সেটিংসের ভেতরেও থাকতে পারে।

গুগলের অ্যান্ড্রয়েড ভূমিকম্প সতর্কব্যবস্থা সমর্থিত এলাকায় ফোনের সেন্সর থেকে পাওয়া তথ্য ব্যবহার করে ভূমিকম্প সম্পর্কে সতর্ক করতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে কম্পন অনুভূত হওয়ার আগে সতর্কবার্তা পাওয়া সম্ভব হলেও সব ভূমিকম্পে আগাম বার্তা পাওয়া নিশ্চিত নয়। এ সুবিধা পেতে অঞ্চলভেদে অবস্থান, ইন্টারনেট সংযোগ ও অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হতে পারে।

৪. স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি যোগাযোগ

কিছু নতুন স্মার্টফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াই-ফাই না থাকলেও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি বার্তা পাঠানোর সুবিধা রয়েছে। সমর্থিত গুগল পিক্সেল ফোনে এই সুবিধা পাওয়া যেতে পারে। কিছু স্যামসাং ফোনেও স্যাটেলাইট-ভিত্তিক যোগাযোগের সুবিধা চালু হয়েছে বা নির্দিষ্ট বাজারে পাওয়া যাচ্ছে।

তবে শুধু নির্দিষ্ট মডেলের ফোন থাকলেই স্যাটেলাইট এসওএস ব্যবহার করা যাবে, এমন নয়। দেশ, মোবাইল অপারেটর ও সংশ্লিষ্ট সেবার প্রাপ্যতা গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশে আপনার ফোনে এই সুবিধা কাজ করবে কি না, তা নির্মাতা ও অপারেটরের তথ্য থেকে নিশ্চিত হয়ে নিন।

৫. একা চলার সময় সেফটি চেক

একা হাঁটা, দূরের কোথাও যাওয়া কিংবা রাতে বাড়ি ফেরার সময় নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার সুবিধা কাজে আসতে পারে।

সমর্থিত পিক্সেল ফোনে Personal Safety অ্যাপের Safety Check ফিচার ব্যবহার করে একটি নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যায়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নিরাপদ থাকার বিষয়টি নিশ্চিত না করলে সেটিংস ও সেবার নিয়ম অনুযায়ী জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তিদের কাছে সতর্কবার্তা বা অবস্থানের তথ্য পাঠানো হতে পারে।

এ ধরনের ফিচার চালু করার সময় জরুরি যোগাযোগের নম্বর সঠিকভাবে যোগ করা এবং অবস্থান ভাগ করার অনুমতি দেওয়া আছে কি না, তা যাচাই করুন।

আইফোনের জরুরি নিরাপত্তা ফিচার

৬. মেডিক্যাল আইডি ও জরুরি যোগাযোগ

আইফোনে স্বাস্থ্যসংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংরক্ষণের জন্য Medical ID সুবিধা রয়েছে। এতে রক্তের গ্রুপ, অ্যালার্জি, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য এবং জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তিদের নম্বর যোগ করা যায়।

এটি সেট করতে Health অ্যাপ খুলে নিজের প্রোফাইলে যান। এরপর Medical ID নির্বাচন করে প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করুন। জরুরি অবস্থায় লক স্ক্রিন থেকে এই তথ্য দেখা যায়—এমন সুবিধা চালু রাখুন।

ফোন হারিয়ে গেলে বা দুর্ঘটনায় অচেতন হয়ে পড়লে এই তথ্য চিকিৎসাকর্মী কিংবা সহায়তাকারীদের কাজে আসতে পারে। তাই তথ্যগুলো নিয়মিত হালনাগাদ রাখুন।

৭. ইমার্জেন্সি এসওএস

আইফোনে Emergency SOS ফিচারের সাহায্যে দ্রুত জরুরি সেবায় যোগাযোগের চেষ্টা করা যায়। সমর্থিত মডেলে সাইড বাটন ও যেকোনো একটি ভলিউম বাটন একসঙ্গে চেপে ধরে রাখলে এসওএস পর্দা বা কাউন্টডাউন চালু হতে পারে। নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ফোন জরুরি নম্বরে কল করতে পারে এবং সেটিংস অনুযায়ী জরুরি যোগাযোগের ব্যক্তিদের কাছেও অবস্থানের তথ্য পাঠাতে পারে।

ফিচারটি ঠিকভাবে কাজ করছে কি না, তা জানতে Settings থেকে Emergency SOS বিভাগটি দেখে নিন। ফোনের মডেল ও অঞ্চলভেদে পদ্ধতিতে কিছু পার্থক্য থাকতে পারে।

জরুরি অবস্থায় কল করার আগে নিজের দেশের জরুরি নম্বর এবং ফোনে কীভাবে এসওএস চালু হয়, তা জেনে রাখা ভালো। বাংলাদেশে জাতীয় জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯।

৮. গাড়ি দুর্ঘটনা শনাক্ত ও স্যাটেলাইট এসওএস

আইফোন ১৪ ও পরবর্তী সমর্থিত মডেলে Crash Detection ফিচার রয়েছে। ফোন গুরুতর গাড়ি দুর্ঘটনার লক্ষণ শনাক্ত করলে সতর্কবার্তা দিতে পারে। ব্যবহারকারী সাড়া না দিলে ফোন স্বয়ংক্রিয়ভাবে জরুরি সেবায় যোগাযোগের চেষ্টা করতে পারে।

এ ছাড়া সমর্থিত আইফোনে মোবাইল নেটওয়ার্ক ও ওয়াই-ফাই না থাকলে স্যাটেলাইটের মাধ্যমে জরুরি বার্তা পাঠানোর সুবিধা পাওয়া যায়। এই সেবা সব দেশে চালু নেই এবং প্রয়োজনীয় শর্তও রয়েছে। তাই ভ্রমণে যাওয়ার আগে নিজের ফোন ও গন্তব্যস্থলে সুবিধাটি পাওয়া যায় কি না, তা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

ফিচার চালু থাকলেই কি পুরোপুরি নিরাপদ?

স্মার্টফোনের জরুরি ফিচার বিপদের সময় সহায়তা করতে পারে, তবে এগুলো শতভাগ নির্ভরযোগ্য নয়। নেটওয়ার্ক না থাকা, ফোনের চার্জ শেষ হয়ে যাওয়া, ফিচারটি আপনার অঞ্চলে সমর্থিত না হওয়া কিংবা দুর্ঘটনা শনাক্ত করতে ব্যর্থ হওয়ার মতো পরিস্থিতি ঘটতে পারে।

তাই ফোন চার্জ রাখা, জরুরি যোগাযোগের নম্বর সংরক্ষণ, চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্য হালনাগাদ এবং পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে জরুরি পরিকল্পনা ঠিক করে রাখা জরুরি। নিরাপত্তা ফিচারগুলো আগে থেকেই পরীক্ষা করে রাখুন, তবে প্রকৃত জরুরি অবস্থায় সেগুলোর ওপর একমাত্র ভরসা করবেন না।

স্মার্টফোনের কয়েকটি সেটিংস সম্পর্কে আগাম ধারণা বিপদের মুহূর্তে মূল্যবান সময় বাঁচাতে পারে। প্রয়োজনের আগেই নিজের ফোনে কী কী সুবিধা রয়েছে, তা জেনে নিয়ে চালু রাখুন।

Comment / Reply From