মাঝপথে সম্পদ কমলে কি জাকাত মাফ?
অনেকেই জানতে চান—বছরের শুরুতে নেসাব পরিমাণ সম্পদ ছিল, বছরের শেষেও আছে; কিন্তু মাঝখানে কয়েক মাস সম্পদ নেসাবের নিচে নেমে গিয়েছিল। এমন অবস্থায় কি জাকাত দিতে হবে? ইসলামি শরিয়তের আলোকে এর সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।
প্রশ্নের উত্তর
যদি কোনো ব্যক্তির কাছে বছরের শুরুতে এবং বছরের শেষে নেসাব পরিমাণ সম্পদ থাকে, তবে মাঝখানে সাময়িকভাবে সম্পদ নেসাবের নিচে নেমে গেলেও তাকে জাকাত আদায় করতে হবে।
তবে যদি বছরের কোনো সময় সম্পদ পুরোপুরি শেষ হয়ে যায়, তাহলে আগের হিসাব বাতিল হয়ে যাবে। পরবর্তীতে যখন সে আবার নেসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হবে, তখন থেকে নতুন করে এক বছর গণনা শুরু হবে। সেই এক বছর পূর্ণ হলে জাকাত ফরজ হবে।
জাকাত কী?
জাকাত ইসলামের ফরজ বিধান এবং ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি। প্রত্যেক স্বাধীন, প্রাপ্তবয়স্ক ও সম্পদশালী মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর বছরে একবার নির্দিষ্ট হারে সম্পদের অংশ গরিব-দুঃস্থদের মাঝে বিতরণ করা বাধ্যতামূলক।
শরিয়ত নির্ধারিত সীমা অনুযায়ী—
৭ তোলা বা ৮৭.৪৫ গ্রাম স্বর্ণ
সাড়ে ৫২ তোলা বা ৬১২.৩৫ গ্রাম রৌপ্য
অথবা সমপরিমাণ নগদ অর্থ
এই পরিমাণ সম্পদ হিজরি এক বছর ধরে কারো কাছে থাকলে তাকে সম্পদশালী হিসেবে গণ্য করা হয়। তখন তার বর্ধনশীল সম্পদের ২.৫ শতাংশ বা ১/৪০ অংশ জাকাত হিসেবে প্রদান করতে হয়।
যেসব সম্পদের ওপর জাকাত ওয়াজিব
জাকাত সাধারণত চার ধরনের বর্ধনশীল সম্পদের ওপর ফরজ হয়—
১. স্বর্ণ
২. রৌপ্য
৩. ব্যবসার পণ্য
৪. নগদ অর্থ
ইসলামি ফিকহের বিভিন্ন গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত বর্ণনা পাওয়া যায়, যেমন—ফতোয়ায়ে শামি, ফতোয়ায়ে আলমগিরি, হেদায়া ও ফতোয়ায়ে উসমানি।
সঠিকভাবে জাকাত আদায়ের জন্য প্রয়োজন হলে অভিজ্ঞ আলেম বা ইসলামি বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উত্তম।
Comment / Reply From
You May Also Like
Popular Posts
Newsletter
Subscribe to our mailing list to get the new updates!