Dark Mode
Image
  • Thursday, 30 April 2026
মানুষের চেয়ে বেশি বিড়াল! জাপানের রহস্যময় ‘ক্যাট আইল্যান্ড’ আওশিমা

মানুষের চেয়ে বেশি বিড়াল! জাপানের রহস্যময় ‘ক্যাট আইল্যান্ড’ আওশিমা

জাপানের সেতো ইনল্যান্ড সাগরের বুকে অবস্থিত ছোট্ট একটি দ্বীপ—আওশিমা। আয়তনে মাত্র ০.৫ বর্গকিলোমিটার হলেও এই দ্বীপটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত এক অদ্ভুত কারণে: এখানে মানুষের চেয়ে বিড়ালের সংখ্যা বেশি।

বর্তমানে দ্বীপটিতে প্রায় ৮০টি বন্য বিড়াল বাস করে, যেখানে মানুষের সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র তিনজনে—তাঁরাও প্রবীণ। ফলে স্বাভাবিকভাবেই আওশিমাকে বলা হয় ‘ক্যাট আইল্যান্ড’ বা বিড়ালের দ্বীপ।

জাপানে এমন মোট ১১টি দ্বীপ রয়েছে, যেগুলো বিড়ালের আধিক্যের কারণে পরিচিত। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে আওশিমাই শীর্ষে।

জনশূন্যতার পথে দ্বীপ

বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী লাইভ সায়েন্স–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যেই দ্বীপটি পুরোপুরি জনশূন্য হয়ে যেতে পারে। কারণ এখানে অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা নেই বললেই চলে, নতুন প্রজন্মও আর বসতি স্থাপন করছে না।

অন্যদিকে, বিড়ালের সংখ্যাও ধীরে ধীরে কমছে। একসময় যেখানে প্রায় ২০০টি বিড়াল ছিল, ২০১৮ সালে জন্মনিয়ন্ত্রণ কর্মসূচি চালুর পর তা অর্ধেকেরও বেশি কমে যায়। এরপর থেকে নতুন কোনো বাচ্চা জন্মানোর খবর পাওয়া যায়নি। বর্তমানে অধিকাংশ বিড়ালের বয়স সাত বছরের বেশি এবং অনেকেই ইনব্রিডিংয়ের কারণে নানা রোগে ভুগছে।

ইতিহাসে বিড়ালের আগমন

১৭ শতকে আওশিমায় জেলেদের বসতি গড়ে ওঠে। তখন প্রায় ৯০০ মানুষের বাস ছিল এখানে। মাছ ধরার জাল রক্ষায় ইঁদুরের উপদ্রব কমাতে জেলেরা কিছু বিড়াল নিয়ে আসে। সময়ের সঙ্গে মাছ ধরার ব্যবসা কমে গেলে মানুষ একে একে দ্বীপ ছেড়ে চলে যায়, কিন্তু বিড়ালগুলো থেকে যায় এবং বংশবৃদ্ধি করতে থাকে।

মানুষের যত্নে টিকে থাকা প্রাণ

বর্তমানে দ্বীপের সবচেয়ে পরিচিত বাসিন্দা ৭০ বছর বয়সী নাওকো কামিমোতো, যিনি ‘ক্যাট মামা’ নামে পরিচিত। তিনি প্রতিদিন দুইবার বিড়ালদের খাবার দেন এবং অসুস্থদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।

তিনি ২০২৪ সালে বলেছিলেন, “একদিন এমন সময় আসবে, যখন এখানে কোনো মানুষ থাকবে না—হয়তো কোনো বিড়ালও না। তবে যতদিন আছি, ততদিন তাদের যত্ন নেওয়াই আমাদের দায়িত্ব।”

পরিবেশ ও ভবিষ্যৎ

দ্বীপের অনেক বিড়াল এখন পরিত্যক্ত বাড়ি ও ঝড়-টাইফুনে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে আশ্রয় নেয়। তারা বাইরের খাবারের পাশাপাশি ছোট প্রাণী শিকার করেও বেঁচে থাকে। তবে এতে স্থানীয় পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়ছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি মানুষ পুরোপুরি দ্বীপ ছেড়ে দেয়, তাহলে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো বিড়ালগুলোকে উদ্ধার করতে পারে। তবে আপাতত এই দ্বীপ পর্যটকদের কাছে এক আকর্ষণীয় গন্তব্য, যেখানে মানুষ নৌকায় করে গিয়ে বিড়ালদের সঙ্গে সময় কাটায়।

Comment / Reply From